
أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُذْهِبِ الْوَاعِظُ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حِمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي مِنْ كِتَابِهِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ وَمُغِيرَةُ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ مِنْ زَمْزَمَ وَهُوَ قَائِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে জমজমের পানি পান করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا أَجْلَحُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجَعَلْتَنِي وَاللَّهَ عَدْلًا بَلْ مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, “আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন যে, “তুমি কি আমাকে এবং আল্লাহকে সমান মনে করো? বরং তুমি বলো, আল্লাহ যা চান তাই হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَسَحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالْحِكْمَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত রাখলেন এবং আমার জন্যে আল্লাহর কাছে হিকমত ও প্রজ্ঞা প্রার্থনা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ بِالْبَيْتِ وَهُوَ عَلَى بَعِيرِهِ وَاسْتَلَمَ الْحَجَرَ بِمِحْجَنٍ كَانَ مَعَهُ قَالَ وَأَتَى السِّقَايَةَ فَقَالَ اسْقُونِي فَقَالُوا إِنَّ هَذَا يَخُوضُهُ النَّاسُ وَلَكِنَّا نَأْتِيكَ بِهِ مِنْ الْبَيْتِ فَقَالَ لَا حَاجَةَ لِي فِيهِ اسْقُونِي مِمَّا يَشْرَبُ مِنْهُ النَّاسُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উটে চড়ে কাবাঘর প্রদক্ষিণ করলেন এবং তাঁর কাছে থাকা একটি বাঁকা লাঠি দিয়ে কালো পাথর স্পর্শ করলেন এবং তিনি পানির পানের স্থানে এসে বললেন,“আমাকে পানি পান করতে দাও।” তারা বললো, “এ কুয়াতো সাধারণ লোকেরা ব্যবহার করে, আমরা আপনার জন্যে আল্লাহর ঘরের কাছ থেকে কিছু পানি নিয়ে আসি।” তিনি বললেন, “দরকার নেই, সাধারণ মানুষ যেখান থেকে পান করে সেই জায়গা থেকেই আমাকে পানি দাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْخَبَرُ كَالْمُعَايَنَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “লোক মুখে শুনা কথা, নিজের চোখে দেখার মতো এক নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৫]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا فَقَامَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ لِأُصَلِّيَ بِصَلَاتِهِ قَالَ فَأَخَذَ بِذُؤَابَةٍ كَانَتْ لِي أَوْ بِرَأْسِي حَتَّى جَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি আমার খালা, উম্মুল মুমিনীন, হযরত মায়মুনা বিনতে হারিস (রা.)-এর কাছে রাত্রি যাপন করলাম। সেদিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি রাতে সালাত আদায়ের জন্য উঠেছিলেন। তিনি যখন দাঁড়ালেন, আমিও নামাযে শরীক হওয়ার জন্য বাম দিকে দাঁড়ালাম, তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথা ধরে আমাকে তাঁর ডান দিকে টেনে নিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا خُيِّرَتْ بَرِيرَةُ رَأَيْتُ زَوْجَهَا يَتْبَعُهَا فِي سِكَكِ الْمَدِينَةِ وَدُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى لِحْيَتِهِ فَكُلِّمَ الْعَبَّاسُ لِيُكَلِّمَ فِيهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبَرِيرَةَ إِنَّهُ زَوْجُكِ فَقَالَتْ تَأْمُرُنِي بِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّمَا أَنَا شَافِعٌ قَالَ فَخَيَّرَهَا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا وَكَانَ عَبْدًا لِآلِ الْمُغِيرَةِ يُقَالُ لَهُ مُغِيثٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন বারীরাহকে তালাক গ্রহনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো, তখন আমি তার স্বামীকে মদীনার অলি-গলিতে তার দাড়িতে অশ্রু ঝরতে দেখেছি। কেউ একজন হজরত আব্বাস (রা.)-কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তার সম্পর্কে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারীরাহকে বললেন, “সে তোমার স্বামী (তুমি চাইলে তাকে গ্রহন করতে পারো)।” বারীরাহ বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে তার সাথে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি শুধু সুপারিশ করছি?” তিনি তাকে তালাক গ্রহনের বা স্বামীকে গ্রহনের সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বারীরাহ তালাক বেছে নিয়েছিলো। তার স্বামী ছিলো আল-মুগীরাহ পরিবারের একজন ক্রীতদাস এবং তার নাম ছিলো মুগীত। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ ذَرَارِيِّ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো (যারা মারা গেছে)। তিনি বললেন, “তারা বড় হয়ে কি করতো আল্লাহই ভালো জানেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قُبِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঁয়ষট্টি (৬৫) বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ الطَّعَامُ الَّذِي نَهَى عَنْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَاعَ حَتَّى يُقْبَضَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَأَحْسَبُ كُلَّ شَيْءٍ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদ্যদ্রব্য হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি মনে করি এই নিষেধ সব কিছুর সাথেই সম্পর্কিত।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ إِذَا لَمْ يَجِدْ الْمُحْرِمُ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ السَّرَاوِيلَ وَإِذَا لَمْ يَجِدْ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ الْخُفَّيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার খুতবা দেওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “যদি মুহরিম ইজার (কোমর মোড়ানো) না পায়, তবে তার প্যান্ট পরা উচিত এবং যদি সে স্যান্ডেল না পায় তবে তার চামড়ার মোজা পরা উচিত।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইহরাম ও রোযা অবস্থায় থাকতেন, তখনও তিনি শিঙ্গা লাগাতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَصَتْهُ نَاقَتُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَلَا تَمَسُّوهُ بِطِيبٍ وَلَا تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজে অংশ নিয়েছিলো, সে ইহরাম অবস্থায় উট থেকে পড়ে গেলো এবং মারা গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও এবং তাকে তার ইহরামের দুই কাপড়ে কাফন দাও এবং তার গায়ে কোন সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথা ঢেকেও না, কেননা সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া বলতে বলতে উঠবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا عَوْفٌ عَنْ زِيَادِ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ جَمْعٍ هَلُمَّ الْقُطْ لِي فَلَقَطْتُ لَهُ حَصَيَاتٍ مِنْ حَصَى الْخَذْفِ فَلَمَّا وَضَعَهُنَّ فِي يَدِهِ قَالَ نَعَمْ بِأَمْثَالِ هَؤُلَاءِ وَإِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِالْغُلُوِّ فِي الدِّينِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযদালিফার সকালে আমাকে বললেন, আমার জন্য কিছু কঙ্কর তুলে নাও। আমি তার জন্য কিছু ছোট কঙ্কর (মটরশুটি আকার) তুলে নিলাম, যখন আমি সেগুলি তার হাতে রাখলাম, তিনি বললেন: “হ্যাঁ, এই ধরনের কঙ্কর হওয়া উচিত। আর ধর্মীয় বিষয়ে চরমপন্থা অবলম্বন করা থেকে সাবধান, কারণ তোমাদের পূর্বে যারা এসেছে তারা ধর্মীয় বিষয়ে চরমপন্থা অবলম্বন করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَافَرَ مِنْ الْمَدِينَةِ لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা থেকে যাত্রা করেছিলেন। তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করতেন না এবং তিনি সফর থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত দুই রাকাত কছর নামায পড়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَارٍ بِمَكَّةَ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا قَالَ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ الْمُشْرِكُونَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَسَبُّوا مَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ قَالَ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِنَبِيِّهِ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ أَيْ بِقِرَاءَتِكَ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا عَنْ أَصْحَابِكَ فَلَا تُسْمِعُهُمْ الْقُرْآنَ حَتَّى يَأْخُذُوهُ عَنْكَ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় গোপনে ইসলাম প্রচার করছিলেন,
قُلِ ٱدۡعُواْ ٱللَّهَ أَوِ ٱدۡعُواْ ٱلرَّحۡمَٰنَۖ أَيّٗا مَّا تَدۡعُواْ فَلَهُ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَلَا تَجۡهَرۡ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتۡ بِهَا وَٱبۡتَغِ بَيۡنَ ذَٰلِكَ سَبِيلٗا١١٠
আপনি বলুন, “তোমরা আল্লাহ বলে ডাকো অথবা দয়াময় বলে ডাকো, যে নামেই তোমরা আল্লাহকে ডাকো না কেনো, সব সুন্দর নাম তাঁর জন্যেই।” আপনি আপনার নিজের নামায আদায়ের সময় স্বর উচ্চ করে পড়বেন না এবং নিঃশব্দেও পড়বেন না। বরং এই উভয়ের মধ্যম পথ অবলম্বন করুন, সুতরাং আপনি নিচু শব্দে নামায পড়ুন। [১৭ : ১১০]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের নামায পড়াতেন, তখন তিনি কুরআন তেলাওয়াত করার সময় আওয়াজ উচু করতেন এবং যখনই মুশরিকরা তা শুনতে পেতো তখনই তারা কুরআনকে গালি দিতো এবং যিনি এটি নাযিল করেছেন এবং যিনি এটি নিয়ে এসেছেন তাকে তারা তিরস্কার করতো, তাই আল্লাহ তাঁর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, “আপনি আপনার নিজের নামায আদায়ের সময় স্বর উচ্চ করে পড়বেন না।” অর্থাৎ মুশরিকরা যেনো কোরআন শুনতে না পায়, কেননা তারা কুরআনকে গালি দিতে শুরু করবে। এবং এমন নিচু আওয়াজে তিলাওয়াত করবেন না যে আপনার সঙ্গীরা শুনতে না পায়। বরং এই উভয়ের মধ্যম পথ অবলম্বন করুন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنِ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِوَادِي الْأَزْرَقِ فَقَالَ أَيُّ وَادٍ هَذَا قَالُوا هَذَا وَادِي الْأَزْرَقِ فَقَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام وَهُوَ هَابِطٌ مِنْ الثَّنِيَّةِ وَلَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِالتَّلْبِيَةِ حَتَّى أَتَى عَلَى ثَنِيَّةِ هَرْشَاءَ فَقَالَ أَيُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَاءَ قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ قَالَ هُشَيْمٌ يَعْنِي لِيفٌ وَهُوَ يُلَبِّي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজরাক উপত্যকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এটা কোন উপত্যকা? লোকেরা বললো, এটা আজরাক উপত্যকা। তিনি বললেন, আমি যেনো মূসা (আঃ) কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি পাহাড়ের গিরিপথ থেকে নেমে আসছেন, তিনি আল্লাহর নামে আওয়াজ তুলেছেন, তিনি উচ্চস্বরে তালবিয়ার সাথে আল্লাহর মহিমা ঘোষনা করছেন। তারপর তিনি সানিয়া হার্শি নামক স্থানে পৌঁছে বললেন, এটা কোন উপত্যকা? লোকেরা বললো, এটা সানিয়া হার্শি উপত্যকা। তিনি বললেন, আমি যেনো ইউনুস ইবনে মাত্তাকে দেখতে পাচ্ছি কোঁকড়া চুল, তার মাংসল লাল উটের উপরে একটি পশমী পোশাক পরা অবস্থায়, তার উটের লাগাম খেজুরের আঁশ দিয়ে তৈরি, তিনি তালবিয়া পাঠ করছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا أَصْحَابُنَا مِنْهُمْ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْعَرَ بَدَنَتَهُ مِنْ الْجَانِبِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ سَلَتَ الدَّمَ عَنْهَا وَقَلَّدَهَا نَعْلَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কুরবানীর উটের ডান পাশে একটি কাটা দিয়ে চিহ্নিত করলেন, তারপর তিনি তা থেকে রক্ত মুছে দিলেন এবং দুটি জুতার মালা পরিয়ে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ الصَّعْبَ بْنَ جَثَّامَةَ الْأَسْدِيَّ أَهْدَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجْلَ حِمَارِ وَحْشٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَرَدَّهُ وَقَالَ إِنَّا مُحْرِمُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। হজরত সাব ইবনে জাথামা আসাদি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভূনা করা এক বন্য গাধার পা উপহার দিয়েছিলেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَمَّنْ حَلَقَ قَبْلَ أَنْ يَذْبَحَ وَنَحْوِ ذَلِكَ فَجَعَلَ يَقُولُ لَا حَرَجَ لَا حَرَجَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, যে ব্যক্তি কুরবানী করার পূর্বে তার মাথা মুণ্ডন করে নিয়েছে বা অন্য কোন আদেশের পরিবর্তন হলে তার হুকুম কি? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে বলতে থাকলেন যে, “কোন সমস্যা নেই, কোন সমস্যা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَمَّنْ قَدَّمَ مِنْ نُسُكِهِ شَيْئًا قَبْلَ شَيْءٍ فَجَعَلَ يَقُولُ لَا حَرَجَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই ব্যক্তির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যে ব্যক্তি হজের একটিকে প্রথম এবং অন্যটিকে শেষে করেছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকলেন যে, “কোন সমস্যা নেই, কোন সমস্যা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ فَقَالَ رَجُلٌ وَلِلْمُقَصِّرِينَ فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ فَقَالَ الرَّجُلُ وَلِلْمُقَصِّرِينَ فَقَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ وَلِلْمُقَصِّرِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদায়বিয়ার দিন বলেছিলেন, “হে আল্লাহ, যারা তাদের মাথা মুণ্ডন করেছে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন।” এক ব্যক্তি বললো, “আর যারা চুল ছেটেছে? আপনি তাদের জন্যেও ক্ষমা প্রর্থনা করুন।” তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, যারা তাদের মাথা মুণ্ডন করেছে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন।” লোকটি বললো, “আর যারা চুল ছেটেছে? আপনি তাদের জন্যেও ক্ষমা প্রর্থনা করুন।” তৃতীয় বা চতুর্থবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ, আর যারা তাদের চুল ছেটেছে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَاضَ مِنْ عَرَفَاتٍ وَرِدْفُهُ أُسَامَةُ وَأَفَاضَ مِنْ جَمْعٍ وَرِدْفُهُ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ قَالَ وَلَبَّى حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আরাফাত ত্যাগ করেন, তখন হজরত ওসামা বিন যায়েদ (রা.) তাঁর পিছনে বসে ছিলেন এবং তিনি যখন মুজদালিফা থেকে বের হন, তখন হজরত ফজল (রা.) রাসূলুল্লাহ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে বসে ছিলেন। তারা বলেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামরাতুল-আকাবাতে পাথর মারার আগ পর্যন্ত অবিরাম তালবিয়া পাঠ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً رَكِبَتْ الْبَحْرَ فَنَذَرَتْ إِنْ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنْجَاهَا أَنْ تَصُومَ شَهْرًا فَأَنْجَاهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَلَمْ تَصُمْ حَتَّى مَاتَتْ فَجَاءَتْ قَرَابَةٌ لَهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صُومِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা সমুদ্র ভ্রমণে বের হয়েছিলেন, সে প্রতিজ্ঞা করলো যে, যদি আল্লাহ তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন তবে সে এক মাস রোজা রাখবে। মহিমান্বিত আল্লাহ তাকে রক্ষা করলেন, কিন্তু সে মারা যাওয়া পর্যন্ত রোজা রাখতে পারলো না। তার এক আত্মীয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার পক্ষ থেকে রোযা রাখো। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّفَاوِيُّ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ سَلَمَةَ قَالَ كُنَّا مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ بِمَكَّةَ فَقُلْتُ إِنَّا إِذَا كُنَّا مَعَكُمْ صَلَّيْنَا أَرْبَعًا وَإِذَا رَجَعْنَا إِلَى رِحَالِنَا صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ قَالَ تِلْكَ سُنَّةُ أَبِي الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
মূসা বিন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা মক্কায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ছিলাম এবং আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আমরা আপনার সাথে থাকি তখন আমরা চার রাকাত নামায পড়ি এবং যখন আমরা আমাদের সওয়ারীতে ফিরে যাই, অর্থাৎ সফরে রওয়ানা হই, তখন আমরা দুই রাকাত নামায পড়ি। এর বৈধতা কি? হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَّخَذَ ذُو الرُّوحِ غَرَضًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্ষ্য অনুশীলনের জন্যে কোনো প্রাণীকে বেঁধে রাখতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَسَفَتِ الشَّمْسُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ فَقَرَأَ سُورَةً طَوِيلَةً ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ وَرَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার সূর্যগ্রহণ হলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ নামায পড়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি একটি দীর্ঘ সূরা পাঠ করলেন, তারপর তিনি রুকু করলেন। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন এবং আরো কিছু তিলাওয়াত করলেন, তারপর রুকু করলেন এবং দুবার সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি কুরআন তেলাওয়াত করলেন, তারপর তিনি রুকু করলেন, তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং আরো কিছু তিলাওয়াত করলেন, তারপর রুকু করলেন এবং দুবার সিজদা করলেন। দুই রাকাতে চারটি রুকু ও চারটি সিজদা করলেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا أُخْرِجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَخْرَجُوا نَبِيَّهُمْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ لَيَهْلِكُنَّ فَنَزَلَتْ أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ قَالَ فَعُرِفَ أَنَّهُ سَيَكُونُ قِتَالٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هِيَ أَوَّلُ آيَةٍ نَزَلَتْ فِي الْقِتَالِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে; নিঃসন্দেহে আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন। তারা অবশ্যই ধ্বংস হবে। তারপর এই আয়াত অবতীর্ণ হয়,
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَٰتَلُونَ بِأَنَّهُمۡ ظُلِمُواْۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ نَصۡرِهِمۡ لَقَدِيرٌ٣٩
বিশ্বাসীদের জন্যে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, যাদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীরা যুদ্ধ করে। কেননা বিশ্বাসীরা অত্যাচারিত হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। [২২ : ৩৯]
তখন তারা বুঝতে পেরেছিলো যে, যুদ্ধ চলতেই থাকবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটি যুদ্ধের অনুমতি সংক্রান্ত প্রথম আয়াত। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً عُذِّبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَنْفُخَ فِيهَا وَلَيْسَ بِنَافِخٍ وَمَنْ تَحَلَّمَ عُذِّبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَعْقِدَ شَعِيرَتَيْنِ وَلَيْسَ عَاقِدًا وَمَنْ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ يَفِرُّونَ بِهِ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ছবি আঁকে বা মূর্তি তৈরি করে, তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দিতে, কিন্তু সে তা পারবে না। যে ব্যক্তি তার স্বপ্ন সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনা করবে, তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাকে যবের দুই দানার মধ্যে গিরো দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, কিন্তু সে তা পারবে না। আর যে ব্যক্তি কোন দলের কথা শুনবে, যা তারা তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চায়, কিয়ামতের দিন তার উভয় কানে শাস্তি ঢেলে দেওয়া হবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الْغَطَفَانِيِّ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنْ قُدِرَ بَيْنَهُمَا فِي ذَلِكَ وَلَدٌ لَمْ يَضُرَّ ذَلِكَ الْوَلَدَ الشَّيْطَانُ أَبَدًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করার সময় এই দোয়া পাঠ করে,
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
“আল্লাহর নামে শুরু, হে আল্লাহ, আমাকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করুন এবং এই সহবাসের ফলে আপনি আমাদেরকে যে সন্তান দিবেন, তাকেও শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করুন।”
এর ফলে যদি তাদের কোনো সন্তান হয়, তাহলে শয়তান কখনোই ঐ সন্তানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস