
حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا أَصْبَغُ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ الشَّامِيِّ قَالَ لَبِسَ أَبُو أُمَامَةَ ثَوْبًا جَدِيدًا فَلَمَّا بَلَغَ تَرْقُوَتَهُ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اسْتَجَدَّ ثَوْبًا فَلَبِسَهُ فَقَالَ حِينَ يَبْلُغُ تَرْقُوَتَهُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي ثُمَّ عَمَدَ إِلَى الثَّوْبِ الَّذِي أَخْلَقَ أَوْ قَالَ أَلْقَى فَتَصَدَّقَ بِهِ كَانَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ تَعَالَى وَفِي جِوَارِ اللَّهِ وَفِي كَنَفِ اللَّهِ حَيًّا وَمَيِّتًا حَيًّا وَمَيِّتًا حَيًّا وَمَيِّتًا
আবুল আ’লা শামী থেকে বর্ণিতঃ
আবু উমামা একটা নতুন পোশাক পরলেন। পোশাক যখন তাঁর বুকের ওপর পর্যন্ত পৌছলো, অমনি বললেন, মহান আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি আমার ছতর ঢাকা ও আমার সৌন্দর্য বর্ধনের উপযুক্ত পোশাক পরিয়েছেন। অতঃপর বললেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নতুন কোন পোশাক লাভ করলো ও তা পরিধান করলো, অতঃপর যখন সে পোশাক তার বুকের ওপর পর্যন্ত পৌছলো, তখন বললো, মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আমাকে আমার ছতর ঢাকা ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পোশাক পরিয়েছেন। অতঃপর সে তার পুরানো পোশাক দান করে দিল, সে আল্লাহর নিরাপত্তায় আল্লাহর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ও আল্লাহর আশ্রয়ে অবস্থান নিল, জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়, জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়, জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৮৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يَصْنَعُ أَحَدُنَا إِذَا هُوَ أَجْنَبَ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ لِيَنَمْ
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় পিতা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কারো উপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৮৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ بْنُ يُونُسَ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى الثَّعْلَبِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ كُنْتُ مَعَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلَالَ هِلَالَ شَوَّالٍ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْطِرُوا ثُمَّ قَامَ إِلَى عُسٍّ فِيهِ مَاءٌ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا أَتَيْتُكَ إِلَّا لِأَسْأَلَكَ عَنْ هَذَا أَفَرَأَيْتَ غَيْرَكَ فَعَلَهُ فَقَالَ نَعَمْ خَيْرًا مِنِّي وَخَيْرَ الْأُمَّةِ رَأَيْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ مِثْلَ الَّذِي فَعَلْتُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَامِيَّةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَّيْنِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ ثُمَّ صَلَّى عُمَرُ الْمَغْرِبَ
আবদুর রাহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো, আমি শাওয়ালের চাঁদ দেখেছি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তৎক্ষণাত বললেন, হে জনতা, তোমরা রোযায় বিরতি দাও। তারপর তিনি একটি নৈশ প্রহরা কেন্দ্রে গেলেন, যেখানে পানি ছিল। তিনি ওযূ করলেন এবং তার মোযায় মাসেহ করলেন। লোকটি বললো, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার নিকট এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই এসেছি, আপনি কি অন্য কাউকে এ কাজ করতে দেখেছেন? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হ্যাঁ, আমার চেয়েও যিনি ভালো এমনকি সমগ্র উম্মাহর মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ, সেই আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ডাকনাম) আমি যা করলাম, তা করতে দেখেছি। তখন তাঁর গায়ে ছিল চাপা হাতাওয়ালা সিরীয় জুব্বা। জুব্বার নিচ দিয়ে তিনি নিজের হাত ঢুকালেন। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মাগরিবের নামায পড়লেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯০]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ أَنْبَأَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ عَنْ أَبِي لَبِيدٍ قَالَ خَرَجَ رَجُلٌ مِنْ طَاحِيَةَ مُهَاجِرًا يُقَالُ لَهُ بَيْرَحُ بْنُ أَسَدٍ فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَيَّامٍ فَرَآهُ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَعَلِمَ أَنَّهُ غَرِيبٌ فَقَالَ لَهُ مَنْ أَنْتَ قَالَ مِنْ أَهْلِ عُمَانَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَأَدْخَلَهُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ هَذَا مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ الَّتِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَرْضًا يُقَالُ لَهَا عُمَانُ يَنْضَحُ بِنَاحِيَتِهَا الْبَحْرُ بِهَا حَيٌّ مِنْ الْعَرَبِ لَوْ أَتَاهُمْ رَسُولِي مَا رَمَوْهُ بِسَهْمٍ وَلَا حَجَرٍ
আবু লবীদ থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের কিছু দিন পর বাইরাহ বিন আসাদ নামক এক ব্যক্তি তাহিয়া থেকে হিজরত করে মদীনায় এলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে দেখে বুঝতে পারলেন সে একজন বহিরাগত। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কে? সে বললোঃ ওমানের অধিবাসী। তিনি বললেনঃ ওমানের অধিবাসী? সে বললোঃ জী। তখন তিনি তার হাত ধরলেন এবং আবু বাকরের নিকট নিয়ে গেলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ইনি সেই দেশের অধিবাসী, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমি এমন একটি ভূ-খণ্ডের কথা জানি, যার নাম ওমান, যার এক পাশ দিয়ে সমুদ্র প্রবাহিত, সেখানে একটা আরব গোত্র আছে, আমার দূত তাদের কাছে গেলে তারা তাকে তীর বা পাথর নিক্ষেপ করবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا رَفَعَهُ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مَنْ تَوَاضَعَ لِي هَكَذَا وَجَعَلَ يَزِيدُ بَاطِنَ كَفِّهِ إِلَى الْأَرْضِ وَأَدْنَاهَا إِلَى الْأَرْضِ رَفَعْتُهُ هَكَذَا وَجَعَلَ بَاطِنَ كَفِّهِ إِلَى السَّمَاءِ وَرَفَعَهَا نَحْوَ السَّمَاءِ
ইয়াযীদ থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, (ইয়াযীদ বলেন, আমি নিশ্চিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকেই শুনে এ কথা বলেছেন) আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার জন্য বিনয়ী হবে এভাবে (এই বলে ইয়াযীদ তার হাতের তালু মাটির দিকে ঝুকালেন এবং তাকে মাটির নিকটবর্তী করলেন) তাকে আমি অবশ্যই উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী করবো, (এই বলে ইয়াযীদ) তার হাতের তালু আকাশমুখী করলেন এবং তাকে আকাশের দিকে তুললেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا دَيْلَمُ بْنُ غَزْوَانَ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنَا مَيْمُونٌ الْكُرْدِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ قَالَ إِنِّي لَجَالِسٌ تَحْتَ مِنْبَرِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ كُلُّ مُنَافِقٍ عَلِيمِ اللِّسَانِ
আবু উসমান আন নাহদী থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমারের মিম্বারের নিচেই বসা ছিলাম। তখন তিনি জনগণের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি তার খুতবায় বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, এই উম্মাতের জন্য যাকে আমি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক মনে করি ও সবচেয়ে ভয় করি, সে হচ্ছে অতিশয় বাকপটু মুনাফিক। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩]
[হাদীস নং-১৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ أَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد و حَدَّثَنَا مُصْعَبٌ الزُّبَيْرِيُّ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ أَنَّ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سُئِلَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّاتِهِمْ الْآيَةَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ بِيَمِينِهِ وَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلْجَنَّةِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَعْمَلُونَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلنَّارِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ يَعْمَلُونَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفِيمَ الْعَمَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلْجَنَّةِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُدْخِلَهُ بِهِ الْجَنَّةَ وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلنَّارِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ النَّارِ فَيُدْخِلَهُ بِهِ النَّارَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّاتِهِمُ “স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পিঠ থেকে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকে নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা জবাব দিয়েছিল, হ্যাঁ”। (সূরা আল আ’রাফঃ ১৭২) তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জবাবে বলেছেন, আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন তখন তার পিঠ ডান হাত দিয়ে দলন করলেন এবং সেখান থেকে তার একদল বংশধরকে বের করলেন। তারপর বললেন, তাদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতবাসীর উপযুক্ত কাজ করবে। পুনরায় তার পিঠ দলন করলেন এবং সেখান থেকে একদল বংশধরকে বের করলেন। তারপর বললেন, এদেরকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জাহান্নামবাসীর উপযুক্ত কাজ করবে।
এ কথা শুনে এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তাহলে কিসের জন্য কাজ করা? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ যখন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাকে জান্নাতবাসীর উপযুক্ত কাজে লাগিয়ে দেন, শেষ পর্যন্ত জান্নাতবাসীর উপযুক্ত কোন একটি কাজ করতে করতে সে মারা যায়। তখন আল্লাহ তাকে ঐ কাজের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাকে জাহান্নামবাসীর উপযুক্ত কাজে লাগিয়ে দেন, অবশেষে সে জাহান্নামবাসীর উপযুক্ত কোন একটি কাজ করতে থাকা অবস্থায় মারা যায়। ফলে সেই কাজের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪]
[আবু দাউদ-৪৭০৩, তিরমিযী-৩০৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن حَنْبَلٍ قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ : مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْقَلَبْتُ مِنْ السُّوقِ فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জুম’আর দিন যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খুৎবা দিচ্ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এখন কোন সময়? সাহাবী বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, বাজার থেকে ফিরেই আযান শুনেছি, তাই ওযূর বেশি কিছু করিনি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ শুধু ওযূ? অথচ তুমি তো জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার আদেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَتِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ بَعْضِ بَنِي يَعْلَى عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ طُفْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ قَالَ يَعْلَى فَكُنْتُ مِمَّا يَلِي الْبَيْتَ فَلَمَّا بَلَغْتُ الرُّكْنَ الْغَرْبِيَّ الَّذِي يَلِي الْأَسْوَدَ جَرَرْتُ بِيَدِهِ لِيَسْتَلِمَ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ فَقُلْتُ أَلَا تَسْتَلِمُ قَالَ أَلَمْ تَطُفْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ بَلَى فَقَالَ أَفَرَأَيْتَهُ يَسْتَلِمُ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ الْغَرْبِيَّيْنِ قَالَ فَقُلْتُ لَا قَالَ أَفَلَيْسَ لَكَ فِيهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ قَالَ قُلْتُ بَلَى قَالَ فَانْفُذْ عَنْكَ
ইয়ালা বিন উমাইয়া থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে তাওয়াফ করেছিলাম। তখন তিনি রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করলেন। ইয়ালা বলেন, আমি আল্লাহর ঘরের সংলগ্ন স্থানে ছিলাম। যখন রুকনে হাজরে আসওয়াদ সংলগ্ন পশ্চিমাংশে পৌছলাম, তার হাত টেনে ধরলাম, যাতে উনি ওটা স্পর্শ করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললামঃ স্পর্শ করবেন না? তিনি বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাওয়াফ করনি? আমি বললামঃ করেছি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাশের এই দুই রুকনকে কি স্পর্শ করতে তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তবে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে তোমার জন্য উত্তম আদর্শ নেই? আমি বললামঃ আছে। তিনি বললেন, তাহলে এগিয়ে যাও। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ سَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন এবং সুফিয়ান বলেছেনঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ রৌপ্যের সাথে স্বর্ণের বিনিময় সুদে পরিণত হবে যদি উভয়পক্ষ থেকে নগদ লেনদেন না হয়, গমের সাথে গমের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়, যবের সাথে যবের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। খোরমার সাথে খোরমার বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ أَتَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي أُنَاسٍ مِنْ قَوْمِي فَجَعَلَ يَفْرِضُ لِلرَّجُلِ مِنْ طَيِّئٍ فِي أَلْفَيْنِ وَيُعْرِضُ عَنِّي قَالَ فَاسْتَقْبَلْتُهُ فَأَعْرَضَ عَنِّي ثُمَّ أَتَيْتُهُ مِنْ حِيَالِ وَجْهِهِ فَأَعْرَضَ عَنِّي قَالَ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتَعْرِفُنِي قَالَ فَضَحِكَ حَتَّى اسْتَلْقَى لِقَفَاهُ ثُمَّ قَالَ نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْرِفُكَ آمَنْتَ إِذْ كَفَرُوا وَأَقْبَلْتَ إِذْ أَدْبَرُوا وَوَفَيْتَ إِذْ غَدَرُوا وَإِنَّ أَوَّلَ صَدَقَةٍ بَيَّضَتْ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُجُوهَ أَصْحَابِهِ صَدَقَةُ طَيِّئٍ جِئْتَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَخَذَ يَعْتَذِرُ ثُمَّ قَالَ إِنَّمَا فَرَضْتُ لِقَوْمٍ أَجْحَفَتْ بِهِمْ الْفَاقَةُ وَهُمْ سَادَةُ عَشَائِرِهِمْ لِمَا يَنُوبُهُمْ مِنْ الْحُقُوقِ
আদী ইবনে হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমার গোত্রের কিছু লোককে সাথে নিয়ে উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট এলাম। তিনি তাই গোত্রের এক এক ব্যক্তিকে ফাই থেকে প্রাপ্ত সম্পদ দিতে লাগলেন এবং আমাকে উপক্ষো করলেন। আমি তার সাথে দেখা করলাম। তথাপি তিনি আমাকে উপেক্ষা করলেন। তারপর তার চোখের সামনে দিয়ে একবার তার নিকট এলাম। এবারও তিনি আমাকে উপক্ষো করলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি কি আমাকে চেনেন? এ কথা শুনে তিনি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লেন। তারপর বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে চিনি। যখন অন্যরা কুফর অবলম্বন করেছে, তখন তুমি ঈমান এনেছ। যখন অন্যরা পালিয়েছে, তখন তুমি এগিয়ে এসেছ। যখন অন্যরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তখন তুমি বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছ। আর প্রথম যে যাকাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের মুখকে উজ্জ্বল করেছিল তা ছিল তাই গোত্রের যাকাত, যা তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে এসেছিলে। অতঃপর তিনি (উমার) ওযর পেশ করতে লাগলেন। তিনি বললেন, আমি সেই গোষ্ঠীকে সাহায্য বরাদ্দ করেছি, যারা নিজ গোত্রের সরদার। অথচ অভাব তাদেরকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ নানা রকমের পাওনার দাবী দাওয়া অহরহ তাদের কাছে আসতো। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৯]
[বুখারী-৪৩৯৪, মুসলিম-২৫২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ فِيمَا الرَّمَلَانُ الْآنَ وَالْكَشْفُ عَنْ الْمَنَاكِبِ وَقَدْ أَطَّأَ اللَّهُ الْإِسْلَامَ وَنَفَى الْكُفْرَ وَأَهْلَهُ وَمَعَ ذَلِكَ لَا نَدَعُ شَيْئًا كُنَّا نَفْعَلُهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
যায়িদ বিন আসলাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ
তাঁর পিতা বলেছেন যে, আমি উমার ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, (তাওয়াফে কুদূমে) রমল করা ও কাঁধ খোলা রাখার এখন আর প্রয়োজন কোথায়? এখন তো আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন এবং কুফর ও কাফিরকে হটিয়ে দিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে করতাম এমন কোন কাজ পরিত্যাগ করি না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০০]
[বুখারী-১৬০৫, আল হাকেম-৪৫৪/১, ইবনু খুযাইমা-২৭০৮ রমল মানে কাঁধ হেলিয়ে দুলিযে দ্রুত চলা, যাতে শক্তি ও প্রভাব প্রতিপত্তির প্রকাশ ঘটে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে কুদূমে প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন যাতে কাফিররা মুসলিমদের দৈহিক শক্তি ও সাহসিকতার প্রমাণ পায় এবং তাদেরকে দুর্বল ও শক্তিহীন মনে না করে। উমর (রাঃ) বলতে চেয়েছেন, ইসলাম ও মুসলিমরা শক্তিশালী হওয়ার কারণে যদিও রমলের এখন প্রয়োজন নেই, তবুও আল্লাহর রাসুল যেহেতু করেছেন তাই তার কৃত কোন আমল পরিত্যাগ করা আমরা সমীচীন মনে করি না।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْفُرَاتِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَوَافَيْتُهَا وَقَدْ وَقَعَ فِيهَا مَرَضٌ فَهُمْ يَمُوتُونَ مَوْتًا ذَرِيعًا فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَرَّتْ بِهِ جَنَازَةٌ فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرَّ بِأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرَّ بِالثَّالِثَةِ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَجَبَتْ فَقَالَ أَبُو الْأَسْوَدِ مَا وَجَبَتْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ قُلْتُ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ قَالَ فَقُلْنَا وَثَلَاثَةٌ قَالَ فَقَالَ وَثَلَاثَةٌ قَالَ قُلْنَا وَاثْنَانِ قَالَ وَاثْنَانِ قَالَ ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنْ الْوَاحِدِ
আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণিতঃ
আমি মদীনায় উপস্থিত হলাম এবং তার সর্বত্র ব্যাপকভাবে সফর করলাম। এর অব্যবহিত পূর্বে মদীনায় একটা রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার ফলে লোকেরা ব্যাপকভাবে মারা যাচ্ছিল। আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট বসলাম। তখন তার কাছ দিয়ে একটা লাশ নিয়ে যাওয়া হলো। উপস্থিত লোকেরা মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, অবধারিত হয়ে গেল। এরপর আর একটা লাশ গেল। উপস্থিত লোকেরা তারও প্রশংসা করলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, অবধারিত হয়ে গেল। এরপর তৃতীয় একটা লাশ গেল। উপস্থিত লোকেরা তার নিন্দা করলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, অবধারিত হয়ে গেল।
আবুল আসওয়াদ বললেন, কী অবধারিত হলো, হে আমীরুল মু’মিনীন? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণেই কথাটা বলেছি। তিনি বলেছেনঃ যে কোন মুসলিমের পক্ষে চার ব্যক্তি উত্তম বলে সাক্ষ্য দিলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, যদি তিনজন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, তিনজন দিলেও। আমরা বললাম, যদি দুইজন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দুইজন দিলেও। এরপর আমরা তাকে একজনের সাক্ষ্য দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن حَنْبَلٍ قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ : مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْقَلَبْتُ مِنْ السُّوقِ فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জুম’আর দিন যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খুৎবা দিচ্ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এখন কোন সময়? সাহাবী বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, বাজার থেকে ফিরেই আযান শুনেছি, তাই ওযূর বেশি কিছু করিনি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ শুধু ওযূ? অথচ তুমি তো জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার আদেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَرْبٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حِطَّانَ فِيمَا يَحْسِبُ حَرْبٌ أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ لَبُوسِ الْحَرِيرِ فَقَالَ سَلْ عَنْهُ عَائِشَةَ فَسَأَلَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ سَلْ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَسَأَلَ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَفْصٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا فَلَا خَلَاقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে এর কোন অংশ পাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৩]
[বুখারী-৫৮৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَوْدِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ بِالْبَصْرَةِ قَالَ أَنَا أَوَّلُ مَنْ أَتَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حِينَ طُعِنَ فَقَالَ احْفَظْ عَنِّي ثَلَاثًا فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا يُدْرِكَنِي النَّاسُ أَمَّا أَنَا فَلَمْ أَقْضِ فِي الْكَلَالَةِ قَضَاءً وَلَمْ أَسْتَخْلِفْ عَلَى النَّاسِ خَلِيفَةً وَكُلُّ مَمْلُوكٍ لَهُ عَتِيقٌ فَقَالَ لَهُ النَّاسُ اسْتَخْلِفْ فَقَالَ أَيَّ ذَلِكَ أَفْعَلُ فَقَدْ فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي إِنْ أَدَعْ إِلَى النَّاسِ أَمْرَهُمْ فَقَدْ تَرَكَهُ نَبِيُّ اللَّهِ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَقَدْ اسْتَخْلَفَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقُلْتُ لَهُ أَبْشِرْ بِالْجَنَّةِ صَاحَبْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَطَلْتَ صُحْبَتَهُ وَوُلِّيتَ أَمْرَ الْمُؤْمِنِينَ فَقَوِيتَ وَأَدَّيْتَ الْأَمَانَةَ فَقَالَ أَمَّا تَبْشِيرُكَ إِيَّايَ بِالْجَنَّةِ فَوَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لِي قَالَ عَفَّانُ فَلَا وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَوْ أَنَّ لِي الدُّنْيَا بِمَا فِيهَا لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ هَوْلِ مَا أَمَامِي قَبْلَ أَنْ أَعْلَمَ الْخَبَرَ وَأَمَّا قَوْلُكَ فِي أَمْرِ الْمُؤْمِنِينَ فَوَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنَّ ذَلِكَ كَفَافًا لَا لِي وَلَا عَلَيَّ وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَلِكَ
ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ছুরিকাহত হবার পর আমিই সর্বপ্রথম তার কাছে উপস্থিত হই। তিনি বললেন, আমার কাছ থেকে তিনটে কথা মনে রেখ। কেননা আমার আশঙ্কা, জনগণ আমাকে জীবিত পাবে না। প্রথমতঃ আমি কালালা (নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত) সম্পর্কে কোন ফায়সালা করিনি। দ্বিতীয়তঃ আমি জনগণের ওপর কোন খালীফা নিয়োগ করিনি। তৃতীয়তঃ আমার সকল দাসদাসী মুক্ত। লোকেরা তাকে বললো, একজন খালীফা নিয়োগ করুন। তিনি বললেন, আমি খালীফা নিয়োগ করি বা তা থেকে বিরত থাকি, উভয় কাজই আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি করে গেছেন। জনগণের শাসনের বিষয়টা যদি তাদের জন্য রেখে যাই, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা রেখে গিয়েছেন। আর যদি খালীফা নিয়োগ করি তবে তাও আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছেন। আমি বললাম, আপনি জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে থেকেছেন এবং দীর্ঘকাল থেকেছেন। আর মুসলিমদের শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন এবং সেটা শক্ত হাতেই করেছেন ও যথাযথভাবে আমানত আদায় করেছেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার পক্ষ থেকে আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দান সম্পর্কে আমার কথা হলো, আল্লাহর কসম, সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় সহায়-সম্পদও যদি আমার হাতে থাকতো, তবে আমি তার সবই মুক্তিপণ হিসাবে দিয়ে আমার আসন্ন ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইতাম যতক্ষণ না (আমার পরিণতি সম্পর্কে) প্রকৃত সংবাদ অবগত হই। মুসলিমদের শাসনকার্য পরিচালনা সম্পর্কে যা বলেছ, সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, আল্লাহর কসম, ওটা কেবলমাত্র আমার বেঁচে থাকার উপযোগী রাখতে চেয়েছিলাম। ওটা আমার জন্য লাভজনকও করতে চাইনি, লোকসানেরও না। আর আল্লাহর নবীর সাহচর্য সম্পর্কে তুমি যা বলেছ, যথার্থই বলেছ। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ قَالَ كَتَبَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ أَنْ عَلِّمُوا غِلْمَانَكُمْ الْعَوْمَ وَمُقَاتِلَتَكُمْ الرَّمْيَ فَكَانُوا يَخْتَلِفُونَ إِلَى الْأَغْرَاضِ فَجَاءَ سَهْمٌ غَرْبٌ إِلَى غُلَامٍ فَقَتَلَهُ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ أَصْلٌ وَكَانَ فِي حَجْرِ خَالٍ لَهُ فَكَتَبَ فِيهِ أَبُو عُبَيْدَةَ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى مَنْ أَدْفَعُ عَقْلَهُ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَى مَنْ لَا مَوْلَى لَهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ
আবু উমামা বিন সাহল থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহর নিকট লিখলেন, “তোমরা তোমাদের যুবকদেরকে সাঁতার ও সৈন্যদেরকে তীর নিক্ষেপ শিখাও। এরপর তারা বিভিন্ন লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হতো। সহসা একটা তীর তীব্র গতিতে এসে এক যুবকের গায়ে বিদ্ধ হলো এবং সে মারা গেল। এই যুবকের কোন বংশ পরিচয় পাওয়া গেল না। সে তার এক মামার কাছে লালিতপালিত ছিল। তার সম্পর্কে আবু উবাইদা উমারকে লিখলেন, এই যুবকের ক্ষতিপূরণ কাকে দেব? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে তার কাছে লিখলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ যার কোন অভিভাবক নেই তার অভিভাবক আল্লাহ ও রাসূল। আর যার কোন উত্তরাধিকারী নেই, তার উত্তরাধিকারী মামা। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُقَادُ وَالِدٌ مِنْ وَلَدٍ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন সন্তানের জন্য পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। (অর্থাৎ সন্তানকে হত্যা করার দায়ে পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোন দণ্ডই দেয়া হবে না। অপেক্ষাকৃত লঘু দণ্ড অবশ্যই দিতে হবে। -অনুবাদক) [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ نَظَرَ إِلَى الْحَجَرِ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ ثُمَّ قَبَّلَهُ
আবেস বিন রাবীয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদের দিকে তাকিয়ে বলছেন, “আল্লাহর কসম, আমি যদি না দেখতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চুমো খাচ্ছেন, তবে তোমাকে চুমো খেতাম না। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হাজরে আসওয়াদকে চুমো খেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا دُجَيْنٌ أَبُو الْغُصْنِ بَصْرِيٌّ قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَلَقِيتُ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقُلْتُ حَدِّثْنِي عَنْ عُمَرَ فَقَالَ لَا أَسْتَطِيعُ أَخَافُ أَنْ أَزِيدَ أَوْ أَنْقُصَ كُنَّا إِذَا قُلْنَا لِعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَخَافُ أَنْ أَزِيدَ حَرْفًا أَوْ أَنْقُصَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَهُوَ فِي النَّارِ
আবুল গুছন বাসারী থেকে বর্ণিতঃ
আমি মদীনায় গেলাম। সেখানে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মুক্ত দাস আসলামের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। তাকে বললাম, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমাকে কোন হাদীস শোনাও। সে বললো, পারবো না। আমার ভয় হয় কিছু কম বা বেশি বলে ফেলবো। আমরা যখন তাকে বলতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদেরকে কোন হাদীস শোনান, তখন বলতেন, আমার আশঙ্কা হয়। একটি অক্ষরও কমিয়ে বা বাড়িয়ে বলি কি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলবে, সে জাহান্নামে যাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ مَوْلَى آلِ الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ فِي سُوقٍ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ وَمَحَا عَنْهُ بِهَا أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন বাজারে গিয়ে বলবে,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তার, সকল প্রশংসাও তাঁর, ভালো মন্দ তারই হাতে, তিনিই মারেন, তিনিই বাচান এবং তিনি সর্বশক্তিমান)
তা দ্বারা আল্লাহ তার জন্য দশ লাখ সাওয়াব লিখবেন, তার দশ লাখ গুনাহ মুছে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটা বাড়ি বানিয়ে দেবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯]
[ইবনু মাজাহ, তিরমিযী]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ يَعْنِي ابْنَ عَمَّارٍ حَدَّثَنِي سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ أَبُو زُمَيْلٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ أَقْبَلَ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا فُلَانٌ شَهِيدٌ فُلَانٌ شَهِيدٌ حَتَّى مَرُّوا عَلَى رَجُلٍ فَقَالُوا فُلَانٌ شَهِيدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَّا إِنِّي رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ فِي بُرْدَةٍ غَلَّهَا أَوْ عَبَاءَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ اذْهَبْ فَنَادِ فِي النَّاسِ أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ قَالَ فَخَرَجْتُ فَنَادَيْتُ أَلَا إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকজন সাহাবী এসে বললেন, অমুক শহীদ, অমুক শহীদ। অন্য এক ব্যক্তির (লাশ) কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বললোঃ অমুক শহীদ। তৎক্ষণাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কখনো নয়। আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি। একটি চাদর বা জুব্বা চুরি করার দায়ে সে জাহান্নামে গেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে, যাও, জনগণকে জানিয়ে দাও যে, মুমিনরা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বেরিয়ে গেলাম এবং ঘোষণা করলাম যে, মুমিনরা ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। (অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎকারী প্রকৃত মুমিন নয় এবং জান্নাতে যাবে না।) [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ لَا وَأَبِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَهْ إِنَّهُ مَنْ حَلَفَ بِشَيْءٍ دُونَ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার তিনি বললেন, “আমার পিতার কসম।” সঙ্গে সঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “চুপ করো। যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাবে, সে শিরকে লিপ্ত হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادٌ الْخَيَّاطُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ زَادَ فِي الْمَسْجِدِ مِنْ الْأُسْطُوَانَةِ إِلَى الْمَقْصُورَةِ وَزَادَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَوْلَا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَبْغِي نَزِيدُ فِي مَسْجِدِنَا مَا زِدْتُ فِيهِ
না’ফে থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত করেন। উসমানও সম্প্রসারিত করেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে না শুনতাম যে, আমরা আমাদের মসজিদকে সম্প্রসারিত করতে চাই, তাহলে তাকে সম্প্রসারিত করতাম না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ وَأَنْزَلَ مَعَهُ الْكِتَابَ فَكَانَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ فَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ ثُمَّ قَالَ قَدْ كُنَّا نَقْرَأُ وَلَا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ فَإِنَّهُ كُفْرٌ بِكُمْ أَوْ إِنَّ كُفْرًا بِكُمْ أَنْ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُطْرُونِي كَمَا أُطْرِيَ ابْنُ مَرْيَمَ وَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ فَقُولُوا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَرُبَّمَا قَالَ مَعْمَرٌ كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত ওমর ফারুক (রা.) একবার বলেছিলেন: আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন: তিনি তাঁর ওপর কিতাব নাজিল করেছেন, যার মধ্যে ছিল রজম করার (পাথর মারার) আয়াত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রজম করেছিলেন এবং আমরাও রজম করেছি, তারপর তিনি বললেন, আমরা লোকেরা এই আদেশটি পাঠ করতাম যে, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি অপছন্দ প্রদর্শন করো না, কারণ এটা তোমাদের পক্ষ থেকে কুফরী, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এভাবে বললেন। সীমার বাইরে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খৃষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করতো, তেমনি তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنِّي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ مَقَالَةً فَآلَيْتُ أَنْ أَقُولَهَا لَكُمْ زَعَمُوا أَنَّكَ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ فَوَضَعَ رَأْسَهُ سَاعَةً ثُمَّ رَفَعَهُ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَحْفَظُ دِينَهُ وَإِنِّي إِنْ لَا أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَسْتَخْلِفْ وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَدْ اسْتَخْلَفَ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ ذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَعْدِلُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدًا وَأَنَّهُ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, আমি জনগণকে একটা কথা বলতে শুনেছি, পরে স্থির করেছি যে, কথাটা আপনাকে বলবো। লোকেরা মনে করে যে, আপনি খালীফা মনোনীত করবেন না। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এক মুহূর্ত মাথা নিচু করলেন, তারপর তা উঁচু করলেন এবং বললেনঃ মহান আল্লাহ তার দীনকে রক্ষা করে থাকেন। আমি কাউকে খালীফা নিয়োগ করবো না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালীফা নিয়োগ করেননি। আর যদি খালীফা নিয়োগ করি, তবে (তাতেও ক্ষতি নেই, কারণ) আবু বাকর খালীফা নিয়োগ করেছেন।
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর কসম, উনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন মাত্র। আমি তা থেকে বুঝেছি যে, তিনি কাউকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমকক্ষ গণ্য করেন না এবং তিনি খালীফা নিয়োগ করবেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১৪]
[মুসলিম-১৮২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ نَشَدْتُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي تَقُومُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِهِ أَعَلِمْتُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّا لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ
মালিক বিন আওস থেকে বর্ণিতঃ
আমি শুনলাম উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবদুর রহমান বিন আওফ, তালহা, যুবাইর ও সাদকে বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি- যার ক্ষমতার বলে আকাশ ও পৃথিবী স্থিতিশীল। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়না। আমরা যা রেখে যাই, তা সাদাকা? সকলে বললো, হে আল্লাহ, হ্যাঁ। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى قَالَ فَلَمَّا كَانَتْ الرِّدَّةُ قَالَ عُمَرُ لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تُقَاتِلُهُمْ وَقَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَاللَّهِ لَا أُفَرِّقُ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَلَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَالَ فَقَاتَلْنَا مَعَهُ فَرَأَيْنَا ذَلِكَ رَشَدًا
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যতক্ষণ আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই বলে ঘোষণা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যখন তারা এ ঘোষণা করবে, তখন তারা আমার কাছ থেকে তাদের ধন ও প্রাণ রক্ষা করতে পারবে। তবে কোন বিশেষ কারণে ধন ও প্রাণে কারো প্রাপ্য থাকলে সে কথা স্বতন্ত্র। তাদের হিসাব নিকাশ নেয়ার দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর। পরবর্তীকালে যখন ইসলাম পরিত্যাগের হিড়িক পড়লো (এবং কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করলো, আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন) তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেনঃ আপনি ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি।
(উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত উক্তির বরাত দিয়ে বলতে চাইছিলেন যে, লোকেরা এখনো ইসলামকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে উদ্যত হয়নি, কেবল কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেমাত্র। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখিত উক্তির আলোকে এখনই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় সমাগত হয়নি। -অনুবাদক) আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবো না। (অর্থাৎ নামাযের মত যাকাত ত্যাগ করাও ইসলাম ত্যাগের সমার্থক) যারা এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর আমরা আবু বকরের সাথে (যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করেছি এবং এটিকে সঠিক মনে করেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস