

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِسْمَةً فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَغَيْرُ هَؤُلَاءِ أَحَقُّ مِنْهُمْ أَهْلُ الصُّفَّةِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ تُخَيِّرُونِي بَيْنَ أَنْ تَسْأَلُونِي بِالْفُحْشِ وَبَيْنَ أَنْ تُبَخِّلُونِي وَلَسْتُ بِبَاخِلٍ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহায্য বিতরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! এদের চেয়ে অন্যদের অগ্রাধিকার রয়েছে, যেমন আহলে সুফফার। (মসজিদে নববীতে আশ্রিত ও সার্বক্ষণিক অবস্থানরত দরিদ্র সাহাবীগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মুক্ত হস্তে দান করা ও কার্পণ্য করা এই দুয়ের একটি অবলম্বন করতে বলছ। আমি কার্পণ্য করতে প্রস্তুত নই। [মুসনাদে আহমাদ : ২২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يَصْنَعُ أَحَدُنَا إِذَا هُوَ أَجْنَبَ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ لِيَنَمْ
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় পিতা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কারো উপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২২৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَمْسَحُ عَلَى خُفَّيْهِ بِالْعِرَاقِ حِينَ يَتَوَضَّأُ فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِ قَالَ فَلَمَّا اجْتَمَعْنَا عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لِي سَلْ أَبَاكَ عَمَّا أَنْكَرْتَ عَلَيَّ مِنْ مَسْحِ الْخُفَّيْنِ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ إِذَا حَدَّثَكَ سَعْدٌ بِشَيْءٍ فَلَا تَرُدَّ عَلَيْهِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি ইরাকে সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে ওযূ করার সময় মোজার ওপর মাসিহ করতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করলাম। পরে যখন আমরা উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট সমবেত হলাম, তখন সা’দ আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে মোজার ওপর মাসিহ করতে দেখে তো অসন্তোষ প্রকাশ করেছ। এখন সে সম্পর্কে তোমার আব্বাকে জিজ্ঞেস করতো দেখি। আমি উমারের নিকট বিষয়টির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ সা’দ যখন তোমার নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করে, তখন তা অগ্রাহ্য করো না। বস্তুতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার ওপর মাসিহ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ سَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন এবং সুফিয়ান বলেছেনঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ রৌপ্যের সাথে স্বর্ণের বিনিময় সুদে পরিণত হবে যদি উভয়পক্ষ থেকে নগদ লেনদেন না হয়, গমের সাথে গমের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়, যবের সাথে যবের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। খোরমার সাথে খোরমার বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ وَأَبُو الْيَمَانِ قَالَا أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنْ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ قَالَ أَبُو الْيَمَانِ لَأَقْتُلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন, তারপরে আবু বাকর (খালিফা হিসাবে) ছিলেন এবং আরবদের মধ্য থেকে কিছু লোক কাফির হয়ে গেল, (তখন আবু বাকর তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেন)। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আবু বাকর, আপনি কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতক্ষণ “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” এ কথা না বলবে, ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি বলবে, “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” সে আমার কাছ থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ রক্ষা করবে, যথাযথ কারণ ছাড়া তা নষ্ট করা যাবে না। তার হিসাব আল্লাহর নিকট সমর্পিত।
আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করবো, (আবুল ইয়ামান বলেন, আবু বাকর বলেছিলেন, ... তাকে আমি হত্যা করবো) কেননা যাকাত হচ্ছে সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যে পাঠী ছাগল তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিত, তাও যদি দিতে অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে, আবু বাকরের বুক আল্লাহ যুদ্ধের জন্য খুলে দিয়েছেন। ফলে আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে, তার সিদ্ধান্তই সঠিক। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَكْبٍ فَقَالَ رَجُلٌ لَا وَأَبِي فَقَالَ رَجُلٌ لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটা কাফিলায় ছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি বলে উঠলো, “না, আমার বাবার কসম” তৎক্ষণাত অপর এক ব্যক্তি বললো, তোমাদের বাপদাদার নামে কসম খাবে না। শেষোক্ত ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে দেখি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْهَا وَلَا تَكَلَّمْتُ بِهَا ذَاكِرًا وَلَا آثِرًا
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে বাপদাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, তাকে আল্লাহর নামে শপথ করতে হবে, অন্যথায় তাকে চুপ থাকতে হবে।” উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নিষেধাজ্ঞা শোনার পর থেকে আমি কখনো বাপদাদার নামে শপথ করিনি এবং নিজের স্মৃতি থেকে কিংবা অন্যের কাছ থেকে উদ্ধৃত করে বাপদাদা সম্পর্কে কোন কথাও বলিনি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ فِي الْحَرِيرِ فِي إِصْبَعَيْنِ
হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের জন্য রেশমের দুটি আঙুলের অনুমতি দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِأَشْيَاءَ يُحَدِّثُهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ فِيمَا كَتَبَ إِلَيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَلْبَسُ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا إِلَّا مَنْ لَيْسَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْهُ شَيْءٌ إِلَّا هَكَذَا وَقَالَ بِإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى قَالَ أَبُو عُثْمَانَ فَرَأَيْتُ أَنَّهَا أَزْرَارُ الطَّيَالِسَةِ حِينَ رَأَيْنَا الطَّيَالِسَةَ
আবু উসমান থেকে বর্ণিতঃ
আমরা উতবা বিন ফারকাদের সাথে ছিলাম। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে কয়েকটি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি উদ্ধৃত করে চিঠি পাঠালেন। তন্মধ্যে এও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়ায় একমাত্র সেই ব্যক্তিই রেশম পরিধান করবে, যে আখিরাতে তা পাবে না। কেবল এতটুকু— এই বলে তিনি তার তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় দেখালেন। আবু উসমান বলেন, আমরা যখন তায়ালিসার বুতাম দেখলাম তখন বুঝলাম যে, তিনি তায়ালিসার বুতামকে বুঝিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ سَأَلْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قُلْتُ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنْ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمْ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقَدْ أَمَّنَ اللَّهُ النَّاسَ فَقَالَ لِي عُمَرُ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ
ইয়ালা বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নামাযে কসর করতে পার যদি তোমাদের আশঙ্কা থাকে যে, কাফিররা তোমাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। এখন তো আল্লাহ জনগণকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন, যে ব্যাপারে তোমার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে আমারও কৌতুহল ছিল। তাই এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি জবাবে বললেনঃ ওটা একটা সাদাকা, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং তার সাদাকাকে গ্রহণ কর। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ آخِرَ مَا نَزَلَ مِنْ الْقُرْآنِ آيَةُ الرِّبَا وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল কুরআনের যে অংশ সর্বশেষে নাযিল হয়েছে, তা হলো সুদ সংক্রান্ত আয়াত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটির ব্যাখ্যা না করেই ইন্তিকাল করেন। সুতরাং তোমরা সুদ ও সন্দেহজনক লেনদেন বর্জন কর। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৮]
[ইবনু মাজাহ]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ يَحْيَى قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ إِيَّاكُمْ أَنْ تَهْلِكُوا عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ رَجَمَ وَقَدْ رَجَمْنَا
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাবধান, তোমরা রজমের আয়াত উপলক্ষ করে ধ্বংস হয়ে যেওনা, আমরা আল্লাহর কিতাবে ব্যভিচারের দুটি শাস্তি পাই না। (অর্থাৎ একশো বেত্রাঘাত ও রজম তথা পাথর মেরে হত্যা) তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রজম করতে দেখেছি এবং আমরাও রজম করেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪১]
[তিরমিযী]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلَاثٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ اتَّخَذْنَا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى فَنَزَلَتْ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نِسَاءَكَ يَدْخُلُ عَلَيْهِنَّ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَهُنَّ أَنْ يَحْتَجِبْنَ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ وَاجْتَمَعَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاؤُهُ فِي الْغَيْرَةِ فَقُلْتُ لَهُنَّ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ قَالَ فَنَزَلَتْ كَذَلِكَ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি আমার প্রতিপালকের সাথে তিনটি বিষয়ে (আগাম) একমত হয়েছি। প্রথমতঃ আমি বলেছিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মাকামে ইবরাহীমের অন্তর্ভুক্ত কোন জায়গাকে নামায পড়ার স্থান বানালে ভালো হতো। এর অব্যবহিত পরেই এ আয়াত নাযিল হয়ঃوَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى “মাকামে ইবরাহীমের কোনএকটি স্থানকে নামাযের জায়গা হিসাবে গ্রহণ কর।” (আল-বাকারাঃ ১২৫) দ্বিতীয়তঃ আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার স্ত্রীদের নিকট সৎ অসৎ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকেরা যাওয়া আসা করে। কাজেই তাদেরকে যদি পর্দায় থাকার আদেশ দিতেন ভালো হতো। এর অব্যবহিত পর পর্দার আয়াত নাযিল হলো। তৃতীয়তঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তার বিরুদ্ধে অভিমান করে। তখন আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদেরকে তালাক দেন, তবে তার প্রতিপালক তাকে তোমাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী দিতে পারেন।” এরপর অনুরূপ আয়াত নাযিল হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي أَبُو ذِبْيَانَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ لَا تُلْبِسُوا نِسَاءَكُمْ الْحَرِيرَ فَإِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يُحَدِّثُ يَقُولُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ و قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ عِنْدِهِ وَمَنْ لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ لَمْ يَدْخُلْ الْجَنَّةَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলতেন, তোমরা তোমাদের নারীদের রেশম পরাবে না, কারণ আমি হজরত ওমর (রা.)-কে এই হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশম পরবে, সে পরকালে পরতে পারবে না। এরপর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) তাঁর ইজতিহাদ দিয়ে বলেছেন, যে আখেরাতে রেশম পরিধান করতে পারবে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কারণ কোরআনে উল্লেখ আছে যে জান্নাতবাসীরা রেশম পরিধান করবে। এর ফায়দা: এটি ছিল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.)-এর নিজস্ব ইজতিহাদ, জমহুর উলামাদের অভিমত হল, রেশমী কাপড়ের নিষেধাজ্ঞা পুরুষদের জন্য, মহিলাদের জন্য নয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ لِطَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ مَا لِي أَرَاكَ قَدْ شَعِثْتَ وَاغْبَرَرْتَ مُنْذُ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلَّكَ سَاءَكَ يَا طَلْحَةُ إِمَارَةُ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنِّي لَأَجْدَرُكُمْ أَنْ لَا أَفْعَلَ ذَلِكَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا أَحَدٌ عِنْدَ حَضْرَةِ الْمَوْتِ إِلَّا وَجَدَ رُوحَهُ لَهَا رَوْحًا حِينَ تَخْرُجُ مِنْ جَسَدِهِ وَكَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَمْ أَسْأَلْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهَا وَلَمْ يُخْبِرْنِي بِهَا فَذَلِكَ الَّذِي دَخَلَنِي قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَنَا أَعْلَمُهَا قَالَ فَلِلَّهِ الْحَمْدُ فَمَا هِيَ قَالَ هِيَ الْكَلِمَةُ الَّتِي قَالَهَا لِعَمِّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ طَلْحَةُ صَدَقْتَ
উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবনুল খাত্তাব তালহা বিন উবাইদুল্লাহকে বললেন, কী ব্যাপার? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর থেকে দেখছি, তোমার এলোমেলো চুল ও ধুলি ধুসরিত মুখ। বোধ হয় তোমার চাচাতো ভাই আমীর নিযুক্ত হওয়ায় তোমার মন খারাপ। তালহা বললেন, আল্লাহর পানাহ চাই! আমি আপনাদের সবার চেয়ে এ ব্যাপারে অধিক উপযুক্ত যে, এমন মনোভাব পোষণ না করি। আসল ব্যাপার হলো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি এমন একটি বাণী জানি, যা কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে পাঠ করলে তার আত্মা বহির্গত হবার সময় একটা প্রবল সুঘ্রাণ ছড়াবে এবং কিয়ামতের দিন তাঁর আত্মা তাঁর জন্য একটা জ্যোতিতে পরিণত হবে। সেই বাণীটি কি, তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করিনি, আর তিনিও আমাকে জানাননি। ঐ জিনিসটাই আমার (মনের) মধ্যে ঢুকে আছে। (অর্থ্যাৎ ঐ বাণীটি কী সেই কথা ভাবতে ভাবতেই আমি এত বিহ্বল হয়ে পড়েছি।) উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আরে ওটা তো আমি জানি। তালহা বলে উঠলেন, তাহলে তো আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা! সেটি কী? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেটি হলো সেই কালেমা, যা তিনি তাঁর চাচা (আবু তালিব) কে বলেছিলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তালহা বললেন, আপনি সত্যই বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَتِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ طُفْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَلَمَّا كُنْتُ عِنْدَ الرُّكْنِ الَّذِي يَلِي الْبَابَ مِمَّا يَلِي الْحَجَرَ أَخَذْتُ بِيَدِهِ لِيَسْتَلِمَ فَقَالَ أَمَا طُفْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ بَلَى قَالَ فَهَلْ رَأَيْتَهُ يَسْتَلِمُهُ قُلْتُ لَا قَالَ فَانْفُذْ عَنْكَ فَإِنَّ لَكَ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةً حَسَنَةً
ইয়ালা বিন উমাইয়া থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে তাওয়াফ করলাম। যখন আমি হাজরে আসওয়াদ সংলগ্ন দরজার নিকটে অবস্থিত রুকনে ইয়ামানীর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তার হাত ধরলাম, যাতে তিনি হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করেন। তিনি বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাকে কি কখনো দেখেছ হাজরে আসওয়াদ [হাত দিয়ে] স্পর্শ করতে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে (তাঁকে যা করতে দেখেছ তাই) কার্যকর কর। (অর্থাৎ চুম্বন কর।) কেননা আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই তোমার জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। (অর্থাৎ যখন ভীড় কম থাকে ও চুম্বন করার সামর্থ্য থাকে, তখন চুম্বন করাই উত্তম।) [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ أَنَّ الصُّبَيَّ بْنَ مَعْبَدٍ كَانَ نَصْرَانِيًّا تَغْلِبِيًّا أَعْرَابِيًّا فَأَسْلَمَ فَسَأَلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ فَقِيلَ لَهُ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَأَرَادَ أَنْ يُجَاهِدَ فَقِيلَ لَهُ حَجَجْتَ فَقَالَ لَا فَقِيلَ حُجَّ وَاعْتَمِرْ ثُمَّ جَاهِدْ فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْحَوَابِطِ أَهَلَّ بِهِمَا جَمِيعًا فَرَآهُ زَيْدُ بْنُ صُوحَانَ وَسَلْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ فَقَالَا لَهُوَ أَضَلُّ مِنْ جَمَلِهِ أَوْ مَا هُوَ بِأَهْدَى مِنْ نَاقَتِهِ فَانْطَلَقَ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَخْبَرَهُ بِقَوْلِهِمَا فَقَالَ هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْحَكَمُ فَقُلْتُ لِأَبِي وَائِلٍ حَدَّثَكَ الصُّبَيُّ فَقَالَ نَعَمْ
আবু ওয়ায়েল থেকে হাকাম থেকে বর্ণিতঃ
সুবাই বিন মা’বাদ তাগলিব গোত্রীয় একজন মরুবাসী খৃষ্টান ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন কাজ উত্তম? তাকে বলা হলোঃ আল্লাহর পথে জিহাদ। সে জিহাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। অতঃপর তাকে বলা হলোঃ তুমি কি হজ্জ করেছ? তিনি বললেনঃ না। তাকে বলা হলোঃ হজ্জ কর ও উমরা কর, তারপর জিহাদ কর। তিনি হজ্জের জন্য রওনা হয়ে গেলেন। হাওয়াবেতে পৌঁছে তিনি হজ ও উমরা দুটোই (এক সাথে করা) শুরু করলেন। যায়িদ বিন সূহান ও সালমান বিন রবীয়া তা দেখে বললেন, সে (সুবাই) তার উটের চেয়েও বিপথগামী অথবা সে তার উটনীর চেয়ে সুপথগামী নয়। এরপর সুবাই উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গেলেন এবং তাকে যায়িদ ও সালমান যা বলেছে তা জানালেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমি তোমার নবীর সুন্নাত অনুসরণ করেছ। হাকাম বলেনঃ আমি আবু ওয়ায়েলকে বললামঃ এ ঘটনাটি আপনাকে সুবাই নিজেই বলেছেন? হাকাম বললেনঃ হ্যাঁ। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ لَيْلَةً فَقَالَ لَهُ فَأَوْفِ بِنَذْرِكَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ صُبَيِّ بْنِ مَعْبَدٍ التَّغْلِبِيِّ قَالَ كُنْتُ حَدِيثَ عَهْدٍ بِنَصْرَانِيَّةٍ فَأَرَدْتُ الْجِهَادَ أَوْ الْحَجَّ فَأَتَيْتُ رَجُلًا مِنْ قَوْمِي يُقَالُ لَهُ هُدَيْمٌ فَسَأَلْتُهُ فَأَمَرَنِي بِالْحَجِّ فَقَرَنْتُ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَذَكَرَهُ
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত ওমর ফারুক (রা.) বললেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়াতের যুগে এই মান্নত নিয়েছিলাম যে আমি মসজিদে হারামে এক রাত ইতিকাফ করব, এখন আমার কী করা উচিত? রাসূল (সা.) বললেন তোমার মানত পূরণ কর। সাবি বিন মাবাদ বলেন, আমি নায়ানিয়া খ্রিস্টধর্মকে বিদায় জানিয়েছিলাম, আমি জিহাদ বা হজে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি, তাই আমি আমার এক দেশবাসীর সাথে পরামর্শ করলাম যার নাম হাদিম এবং তিনি আমাকে হজ করতে বললেন, আমি উভয় হজের নিয়ত করলাম এবং উমরাহ, এরপর তিনি পুরো হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ زُبَيْدٍ الْإِيَامِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَاةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ وَصَلَاةُ الْأَضْحَى رَكْعَتَانِ وَصَلَاةُ الْفِطْرِ رَكْعَتَانِ وَصَلَاةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سُفْيَانُ وَقَالَ زُبَيْدٌ مَرَّةً أُرَاهُ عَنْ عُمَرَ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَلَى غَيْرِ وَجْهِ الشَّكِّ و قَالَ يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী সফরের নামায দু’রাকআত, ঈদুল আযহার নামায দু’রাকআত, ঈদুল ফিতরের নামায দু’রাকআত, জুমআর নামায দু’রাকআত। এসব নামায পুরো পড়তে হবে। কসর করা চলবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৮]
[ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, ইবনু মাজাহ, নাসায়ী]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ حَمَلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَرَآهَا أَوْ بَعْضَ نِتَاجِهَا يُبَاعُ فَأَرَادَ شِرَاءَهُ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ فَقَالَ اتْرُكْهَا تُوَافِكَ أَوْ تَلْقَهَا جَمِيعًا وَقَالَ مَرَّتَيْنِ فَنَهَاهُ وَقَالَ لَا تَشْتَرِهِ وَلَا تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ
যায়িদ ইবনে আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার একটা ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেন। পরে একদা দেখলেন সেই ঘোড়া বা তার কোন বাচ্চাকে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা দেখে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তা কিনবার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা ছেড়ে দাও। ওটা তোমার নিকট আসবে অথবা তুমি বাচ্চাসহই তা পাবে।
অন্য বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তুমি এটা ক্রয় করো না এবং তোমার দান করা জিনিস ফেরত নিও না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَبِيَدِهِ عَسِيبُ نَخْلٍ وَهُوَ يُجْلِسُ النَّاسَ يَقُولُ اسْمَعُوا لِقَوْلِ خَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ مَوْلًى لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُقَالُ لَهُ شَدِيدٌ بِصَحِيفَةٍ فَقَرَأَهَا عَلَى النَّاسِ فَقَالَ يَقُولُ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا لِمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ فَوَاللَّهِ مَا أَلَوْتُكُمْ قَالَ قَيْسٌ فَرَأَيْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بَعْدَ ذَلِكَ عَلَى الْمِنْبَرِ
কায়েস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখলাম, পাতা ছড়ানো একটা খেজুরের ডাল হাতে নিয়ে লোকজনকে বসাচ্ছেন এবং বলছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খালিফার [অর্থাৎ আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর] বক্তব্য শোন। পরক্ষণেই আবু বাকরের শাদীদ নামক একজন মুক্তদাস একটা চিঠি নিয়ে এল এবং তা জনগণকে পড়ে শোনালো। তারপর তিনি বললেন, আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, এই চিঠিতে যা কিছু লেখা আছে তা শ্রবণ কর ও অনুসরণ কর। কেননা আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে অবহেলা করিনি। কায়েস বলেন, এরপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে মিম্বারের ওপর উপবিষ্ট দেখলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَلَمَةَ عَنْ عِمْرَانَ السُّلَمِيِّ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيذِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ فَلَقِيتُ ابْنَ عُمَرَ فَسَأَلْتُهُ فَأَخْبَرَنِي فِيمَا أَظُنُّ عَنْ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ شَكَّ سُفْيَانُ قَالَ فَلَقِيتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ
ইমরান সালামী থেকে বর্ণিতঃ
আমি ইবনুল আব্বাসকে নবীয (ফলের রস, যা মদ বানানোর জন্য কোন পাত্রে রেখে পচানো হয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, মাটির পাত্রে ও লাউয়ের খোলসে জমানো নবীয পান করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। পরে আমি ইবনে উমারের সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির পাত্র ও লাউয়ের খোলসে রাখা নবীয নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমার ধারণা, তিনি এ হাদীস উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে পেয়েছেন। এরপর আমি ইবনে যুবাইরের সাথে দেখা করলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির পাত্র ও লাউয়ের খোলসে সঞ্চিত নবীয নিষিদ্ধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫১]
[হাদীস নং-১৮৫ দ্রষ্টব্য]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ آدَمَ وَأَبِي مَرْيَمَ وَأَبِي شُعَيْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَانَ بِالْجَابِيَةِ فَذَكَرَ فَتْحَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَحَدَّثَنِي أَبُو سِنَانٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ آدَمَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ لِكَعْبٍ أَيْنَ تُرَى أَنْ أُصَلِّيَ فَقَالَ إِنْ أَخَذْتَ عَنِّي صَلَّيْتَ خَلْفَ الصَّخْرَةِ فَكَانَتْ الْقُدْسُ كُلُّهَا بَيْنَ يَدَيْكَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ضَاهَيْتَ الْيَهُودِيَّةَ لَا وَلَكِنْ أُصَلِّي حَيْثُ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَقَدَّمَ إِلَى الْقِبْلَةِ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَبَسَطَ رِدَاءَهُ فَكَنَسَ الْكُنَاسَةَ فِي رِدَائِهِ وَكَنَسَ النَّاسُ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জাবিয়াতে ছিলেন। তিনি বাইতুল মাকদাস বিজয়ের কাহিনী বর্ণনা করলেন। তিনি কা’বকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমার কোথায় নামায পড়া উচিত বলে মনে কর? কা’ব বললেন, যদি আমার মত গ্রহণ করেন, তা হলে সাখরার পেছনে নামায পড়ুন। তাহলে সমগ্র বাইতুল মাকদাস আপনার সামনে থাকবে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমি ইহুদীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করেছ। না, ওখানে নয়। আমি সেইখানে নামায পড়বো, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়েছেন। তারপর তিনি কিবলামুখী হলেন, তারপর নামায পড়লেন, তারপর এলেন, তারপর নিজের চাদর বিছালেন, তারপর তার চাদরে জঞ্জাল ঝাড়ু দিলেন, উপস্থিত জনগণও ঝাড়ু দিল। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ يَعْنِي ابْنَ مِغْوَلٍ قَالَ سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عَمْرٍو عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْكَلَالَةِ فَقَالَ تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ فَقَالَ لَأَنْ أَكُونَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي حُمْرُ النَّعَمِ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কালালা, (নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে তোমার জন্য গ্রীষ্মকালের আয়াত (সূরা আন নিসার শেষ আয়াত) যথেষ্ট। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একথা জিজ্ঞাসা করা আমার নিকট লাল উট পাওয়ার চেয়েও প্রিয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يَصْنَعُ أَحَدُنَا إِذَا هُوَ أَجْنَبَ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ لِيَنَمْ
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় পিতা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কারো উপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৫৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ قَزَعَةَ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ يُعَذِّبُ اللَّهُ هَذَا الْمَيِّتَ بِبُكَاءِ هَذَا الْحَيِّ فَقَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَذَبْتُ عَلَى عُمَرَ وَلَا كَذَبَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
কাযাহ থেকে বর্ণিতঃ
কাযাহ বলেন, আমি হজরত ইবনে উমর (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, আশেপাশের লোকদের কান্নার কারণে আল্লাহ মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন। তিনি বলেন, হজরত ওমর (রা.) আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ بِعَرَفَةَ قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَحَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ خَيْثَمَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ مَرْوَانَ أَنَّهُ أَتَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ جِئْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ الْكُوفَةِ وَتَرَكْتُ بِهَا رَجُلًا يُمْلِي الْمَصَاحِفَ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِهِ فَغَضِبَ وَانْتَفَخَ حَتَّى كَادَ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ شُعْبَتَيْ الرَّحْلِ فَقَالَ وَمَنْ هُوَ وَيْحَكَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَمَا زَالَ يُطْفَأُ وَيُسَرَّى عَنْهُ الْغَضَبُ حَتَّى عَادَ إِلَى حَالِهِ الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ وَيْحَكَ وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُهُ بَقِيَ مِنْ النَّاسِ أَحَدٌ هُوَ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ ذَلِكَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ يَسْمُرُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اللَّيْلَةَ كَذَاكَ فِي الْأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ وَإِنَّهُ سَمَرَ عِنْدَهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَأَنَا مَعَهُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَمِعُ قِرَاءَتَهُ فَلَمَّا كِدْنَا أَنْ نَعْرِفَهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَطْبًا كَمَا أُنْزِلَ فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ قَالَ ثُمَّ جَلَسَ الرَّجُلُ يَدْعُو فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَهُ سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُلْتُ وَاللَّهِ لَأَغْدُوَنَّ إِلَيْهِ فَلَأُبَشِّرَنَّهُ قَالَ فَغَدَوْتُ إِلَيْهِ لِأُبَشِّرَهُ فَوَجَدْتُ أَبَا بَكْرٍ قَدْ سَبَقَنِي إِلَيْهِ فَبَشَّرَهُ وَلَا وَاللَّهِ مَا سَبَقْتُهُ إِلَى خَيْرٍ قَطُّ إِلَّا وَسَبَقَنِي إِلَيْهِ
আলকামা থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ قَالَ لَمَّا أَقْبَلَ أَهْلُ الْيَمَنِ جَعَلَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَسْتَقْرِي الرِّفَاقَ فَيَقُولُ هَلْ فِيكُمْ أَحَدٌ مِنْ قَرَنٍ حَتَّى أَتَى عَلَى قَرَنٍ فَقَالَ مَنْ أَنْتُمْ قَالُوا قَرَنٌ فَوَقَعَ زِمَامُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَوْ زِمَامُ أُوَيْسٍ فَنَاوَلَهُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ فَعَرَفَهُ فَقَالَ عُمَرُ مَا اسْمُكَ قَالَ أَنَا أُوَيْسٌ فَقَالَ هَلْ لَكَ وَالِدَةٌ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَهَلْ كَانَ بِكَ مِنْ الْبَيَاضِ شَيْءٌ قَالَ نَعَمْ فَدَعَوْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَأَذْهَبَهُ عَنِّي إِلَّا مَوْضِعَ الدِّرْهَمِ مِنْ سُرَّتِي لِأَذْكُرَ بِهِ رَبِّي قَالَ لَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اسْتَغْفِرْ لِي قَالَ أَنْتَ أَحَقُّ أَنْ تَسْتَغْفِرَ لِي أَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أُوَيْسٌ وَلَهُ وَالِدَةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَأَذْهَبَهُ عَنْهُ إِلَّا مَوْضِعَ الدِّرْهَمِ فِي سُرَّتِهِ فَاسْتَغْفَرَ لَهُ ثُمَّ دَخَلَ فِي غِمَارِ النَّاسِ فَلَمْ يُدْرَ أَيْنَ وَقَعَ قَالَ فَقَدِمَ الْكُوفَةَ قَالَ وَكُنَّا نَجْتَمِعُ فِي حَلْقَةٍ فَنَذْكُرُ اللَّهَ وَكَانَ يَجْلِسُ مَعَنَا فَكَانَ إِذَا ذَكَرَ هُوَ وَقَعَ حَدِيثُهُ مِنْ قُلُوبِنَا مَوْقِعًا لَا يَقَعُ حَدِيثُ غَيْرِهِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي الشَّوَارِبِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْقَرْثَعِ عَنْ قَيْسٍ أَوْ ابْنِ قَيْسٍ رَجُلٍ مِنْ جُعْفِيٍّ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَفَّانَ
উসাইর বিন জাবির থেকে বর্ণিতঃ
যখন ইয়ামানের একদল লোক এল, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের সফরসঙ্গীদের খোঁজখবর নিলেন। তাদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে কারনের কেউ আছে কি? এভাবে খোঁজ নিতে নিতে কারনের অধিবাসীদের কাছে এলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কারা? তারা বললো, কারনবাসী। সহসা উমারের লাগাম বা উয়াইসের লাগাম পড়ে গেল। তখন একজন অপরজনকে লাগাম ধরিয়ে দিল। তখন সে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে চিনলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার নাম কী? সে বললোঃ উয়াইস। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার মা আছেন? সে বললোঃ আছেন। তিনি বললেনঃ তোমার গায়ে কি কিছু শ্বেত কুষ্ঠ রোগ আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তবে আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করলে আমার নাভির এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা ব্যতীত তা থেকে তিনি আমাকে মুক্ত করেছেন। (এক দিরহাম পরিমাণ জায়গায় রেখে দিয়েছেন) যাতে আমি তার কারণে আমার প্রভুকে স্মরণ করি।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু উয়াইসকে বললেনঃ আমার জন্য গুনাহ মাফ চাও। উয়াইস বললোঃ আপনিই আমার গুনাহ মাফ চাওয়ার অধিকতর যোগ্য। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তাবেয়ীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো উয়াইস নামক এক ব্যক্তি, যার মা আছে, তার শরীরে খানিকটা শ্বেত কুষ্ঠ আছে, সে দু’আ করাতে আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত করেছেন, কেবল তার নাভিতে এক দিরহাম পরিমাণ জায়গায় তা অবশিষ্ট আছে।
অতঃপর সে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জন্য ক্ষমা চাইল এবং জনতার ভীড়ে ঢুকে গেল। তারপর সে কোথায় অবস্থান করলো তা আর জানা যায়নি। এরপর সে কুফায় এল। আমরা একটা আলোচনা চক্রে বসতাম এবং আল্লাহর যিকর করতাম। সেও আমাদের সঙ্গে বসতো। সে যখন আলোচনা করতো, তখন তার কথা আমাদের মনে এত বদ্ধমূল হতো, যতটা আর কারো কথা বদ্ধমূল হতো না। এভাবে বর্ণনাকারী পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৫৭]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস