
حَدَّثَنَا سَفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي يَزِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সন্তান বিছানার। (অর্থাৎ যে দম্পতির বিছানায় থাকে তাদের) [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ سَأَلْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قُلْتُ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنْ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمْ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقَدْ أَمَّنَ اللَّهُ النَّاسَ فَقَالَ لِي عُمَرُ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ
ইয়ালা বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নামাযে কসর করতে পার যদি তোমাদের আশঙ্কা থাকে যে, কাফিররা তোমাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। এখন তো আল্লাহ জনগণকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন, যে ব্যাপারে তোমার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে আমারও কৌতুহল ছিল। তাই এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি জবাবে বললেনঃ ওটা একটা সাদাকা, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং তার সাদাকাকে গ্রহণ কর। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৯]
[মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ بِعَرَفَةَ قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَحَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ خَيْثَمَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ مَرْوَانَ أَنَّهُ أَتَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ جِئْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ الْكُوفَةِ وَتَرَكْتُ بِهَا رَجُلًا يُمْلِي الْمَصَاحِفَ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِهِ فَغَضِبَ وَانْتَفَخَ حَتَّى كَادَ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ شُعْبَتَيْ الرَّحْلِ فَقَالَ وَمَنْ هُوَ وَيْحَكَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَمَا زَالَ يُطْفَأُ وَيُسَرَّى عَنْهُ الْغَضَبُ حَتَّى عَادَ إِلَى حَالِهِ الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ وَيْحَكَ وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُهُ بَقِيَ مِنْ النَّاسِ أَحَدٌ هُوَ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ ذَلِكَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ يَسْمُرُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اللَّيْلَةَ كَذَاكَ فِي الْأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ وَإِنَّهُ سَمَرَ عِنْدَهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَأَنَا مَعَهُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَمِعُ قِرَاءَتَهُ فَلَمَّا كِدْنَا أَنْ نَعْرِفَهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَطْبًا كَمَا أُنْزِلَ فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ قَالَ ثُمَّ جَلَسَ الرَّجُلُ يَدْعُو فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَهُ سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُلْتُ وَاللَّهِ لَأَغْدُوَنَّ إِلَيْهِ فَلَأُبَشِّرَنَّهُ قَالَ فَغَدَوْتُ إِلَيْهِ لِأُبَشِّرَهُ فَوَجَدْتُ أَبَا بَكْرٍ قَدْ سَبَقَنِي إِلَيْهِ فَبَشَّرَهُ وَلَا وَاللَّهِ مَا سَبَقْتُهُ إِلَى خَيْرٍ قَطُّ إِلَّا وَسَبَقَنِي إِلَيْهِ
আলকামা থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭০]
[ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, তিরমিযী]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ نَظَرَ إِلَى الْحَجَرِ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ ثُمَّ قَبَّلَهُ
আবেস বিন রাবীয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদের দিকে তাকিয়ে বলছেন, “আল্লাহর কসম, আমি যদি না দেখতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চুমো খাচ্ছেন, তবে তোমাকে চুমো খেতাম না। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হাজরে আসওয়াদকে চুমো খেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُوقَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَطَبَ النَّاسَ بِالْجَابِيَةِ فَقَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ مَقَامِي فِيكُمْ فَقَالَ اسْتَوْصُوا بِأَصْحَابِي خَيْرًا ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَفْشُو الْكَذِبُ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَبْتَدِئُ بِالشَّهَادَةِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا فَمَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ بَحْبَحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمْ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنْ الِاثْنَيْنِ أَبْعَدُ لَا يَخْلُوَنَّ أَحَدُكُمْ بِامْرَأَةٍ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ ثَالِثُهُمَا وَمَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سَيِّئَتُهُ فَهُوَ مُؤْمِنٌ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জাবিয়াতে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই জায়গায় আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের জন্য সব সময় শুভ কামনা কর, তারপর তাদের পরবর্তীদের জন্য, তারপর তাদের পরবর্তীদের জন্য। এরপর মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে, এমনকি এমনও ঘটবে যে, কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করার আগেই সে সাক্ষ্য দিতে শুরু করবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের মাঝখানে থাকতে ইচ্ছুক, সে যেন অবশ্যই জামাতবদ্ধ জীবন যাপন করে। কেননা শয়তান একাকী মানুষের সঙ্গী এবং দু’জন থেকে সে অপেক্ষাকৃত দূরে থাকে। তোমাদের কেউ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনে সাক্ষাত না করে। কেননা সে সময় শয়তান হয় তৃতীয় জন। আর নিজের সৎকাজ যাকে আনন্দ দেয় এবং নিজের মন্দ কাজ যাকে দুঃখ দেয়, সেই প্রকৃত মুমিন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭২]
[ইবনু হিব্বান, ইবনু মাজাহ]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمُرُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ اللَّيْلَةَ كَذَلِكَ فِي الْأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ وَأَنَا مَعَهُ
উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতি রাতে হজরত সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে মুসলমানদের বিষয়ে পরামর্শের জন্য যেতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَا سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ أَكْثَرَ مِمَّا سَأَلْتُهُ عَنْ الْكَلَالَةِ حَتَّى طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ الَّتِي فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ
উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কালালা সম্পর্কে যতবার জিজ্ঞাসা করেছি তার চেয়ে বেশি কিছু জিজ্ঞাসা করিনি, যতক্ষণ না একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার বুকে আঙ্গুল রাখলেন এবং বললেন, গ্রীষ্মকালে নাযিল হওয়া সূরা নিসার শেষ আয়াতটি তোমার জন্য যথেষ্ট।
يَسۡتَفۡتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفۡتِيكُمۡ فِي ٱلۡكَلَٰلَةِۚ إِنِ ٱمۡرُؤٌاْ هَلَكَ لَيۡسَ لَهُۥ وَلَدٞ وَلَهُۥٓ أُخۡتٞ فَلَهَا نِصۡفُ مَا تَرَكَۚ وَهُوَ يَرِثُهَآ إِن لَّمۡ يَكُن لَّهَا وَلَدٞۚ فَإِن كَانَتَا ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُمَا ٱلثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَۚ وَإِن كَانُوٓاْ إِخۡوَةٗ رِّجَالٗا وَنِسَآءٗ فَلِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۗ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمۡ أَن تَضِلُّواْۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمُۢ ١٧٦
(১৭৬) তারা আপনার নিকট পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তিদের রেখে যাওয়া সম্পদের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি তাদেরকে বলুন, “আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন। যদি কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার কোনো সন্তান নাই ও পিতা-মাতা নাই, কিন্তু এক বোন আছে, তবে তার বোনের জন্যে সে যে সম্পদ ছেড়ে যায়, ঐ সম্পদের অর্ধেক বোন পাবে। আর যদি তার বোন মারা যায় ও তার বোনের কোনো সন্তান না থাকে, তবে সে নিজে তার বোনের উত্তরাধিকার হবে। আর যদি তারা দুই বোন হয়, তবে তাদের দুইজনের জন্যে সে, যে সম্পদ ছেড়ে যায়, তার ঐ সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ উভয় বোন পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির ভাই-বোন উভয়ই থাকে, একজন পুরুষ ও একজন নারী হয়, তবে একজন পুরুষ দুইজন নারীর সমান অংশ হবে।” আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্বীয় বিধানকে সুস্পষ্ট করে দিচ্ছেন, যেনো তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
(৪. আন নিসা:১৭৬) [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৫]
[বুখারী, মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ مَوْلَى أَسْمَاءَ قَالَ أَرْسَلَتْنِي أَسْمَاءُ إِلَى ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ بَلَغَهَا أَنَّكَ تُحَرِّمُ أَشْيَاءَ ثَلَاثَةً الْعَلَمَ فِي الثَّوْبِ وَمِيثَرَةَ الْأُرْجُوَانِ وَصَوْمَ رَجَبٍ كُلِّهِ فَقَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صَوْمِ رَجَبٍ فَكَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الْأَبَدَ وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ الْعَلَمِ فِي الثَّوْبِ فَإِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ
আসমার স্বাধীনকৃত দাস আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ
আসমা আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমারের নিকট পাঠালেন। আমি গিয়ে তাকে বললাম, আসমা শুনেছেন যে, আপনি তিনটে জিনিস থেকে নিষেধ করেনঃ কাপড়ে নকশী করা, বেগুনী রং এর বালিশ এবং পুরো রজব মাসের রোযা। তিনি বললেন, রজব মাসের রোযা সম্পর্কে যা বললেন, সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য হলো, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা রাখে, তার সাথে কী করা হবে? অর্থাৎ সারা জীবন রোযা রাখা যেমন অনুচিত, সারা রজব মাস রোযা রাখাও তেমনি অনুচিত। কেননা রমযানের ফারয রোযা আসন্ন। আর কাপড়ে নকশী সম্পর্কে যা বললেন, সে সম্পর্কে আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরবে, সে আখিরাতে তা পরবে না। হাদীসে নকশী কাপড় বলতে রেশমী (সিল্ক) পোশাককে বুঝানো হয়েছে। রেশমী ছাড়া অন্যান্য কাপড়ে নকশী করা নিষিদ্ধ নয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৬]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَأَنَا سَأَلْتُهُ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا مَعَ عُمَرَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَتَرَاءَيْنَا الْهِلَالَ وَكُنْتُ حَدِيدَ الْبَصَرِ فَرَأَيْتُهُ فَجَعَلْتُ أَقُولُ لِعُمَرَ أَمَا تَرَاهُ قَالَ سَأَرَاهُ وَأَنَا مُسْتَلْقٍ عَلَى فِرَاشِي ثُمَّ أَخَذَ يُحَدِّثُنَا عَنْ أَهْلِ بَدْرٍ قَالَ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُرِينَا مَصَارِعَهُمْ بِالْأَمْسِ يَقُولُ هَذَا مَصْرَعُ فُلَانٍ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَهَذَا مَصْرَعُ فُلَانٍ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى قَالَ فَجَعَلُوا يُصْرَعُونَ عَلَيْهَا قَالَ قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَخْطَئُوا تِيكَ كَانُوا يُصْرَعُونَ عَلَيْهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهِمْ فَطُرِحُوا فِي بِئْرٍ فَانْطَلَقَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ يَا فُلَانُ يَا فُلَانُ هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمْ اللَّهُ حَقًّا فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي اللَّهُ حَقًّا قَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُكَلِّمُ قَوْمًا قَدْ جَيَّفُوا قَالَ مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ وَلَكِنْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَنْ يُجِيبُوا
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মক্কা ও মদীনার মাঝে ছিলাম। এ সময় আমরা চাঁদ দেখাদেখি করছিলাম। আমার দৃষ্টিশক্তি খুব তীক্ষ্ম ছিল। তাই আমি চাঁদ দেখতে পেলাম। আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম, আপনি কি চাঁদ দেখতে পাচ্ছেন না? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, পরে বিছানায় শুয়ে শুয়েই দেখতে পাবো। অতঃপর তিনি বদরের যোদ্ধাদের ঘটনা বর্ণনা করতে আরম্ভ করলেন। বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাদের (কাফিরদের) নিহত হওয়ার স্থান আগের দিনে দেখাতেন। বলতেনঃ এই খানে অমুক ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ আগামী কাল নিহত হবে, এই খানে অমুক ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ আগামীকাল নিহত হবে, এরপর তারা একে একে নিহত হতে লাগলো। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম, যিনি আপনাকে সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, ওরা আপনার এই ভবিষ্যদ্বাণী ভ্রান্ত প্রমাণ করতে পারেনি। ওরা সত্যিই নিহত হচ্ছিল।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে তাদের লাশগুলো একটি কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে অমুক, হে অমুক, আল্লাহ তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পেয়েছ তো? আমি তো আল্লাহ আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা নিশ্চিতই পেয়েছি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, যারা লাশে পরিণত হয়েছে, তাদের সাথে আপনি কথা বলছেন? তিনি বললেন, আমার কথা তোমাদের চেয়েও ওরা ভালো শুনতে পাচ্ছে। তবে তারা সাড়া দিতে পারছে না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৭]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ فَلَمَّا رَجَعَ عَمْرٌو جَاءَ بَنُو مَعْمَرِ بْنِ حَبِيبٍ يُخَاصِمُونَهُ فِي وَلَاءِ أُخْتِهِمْ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ أَقْضِي بَيْنَكُمْ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا أَحْرَزَ الْوَلَدُ أَوْ الْوَالِدُ فَهُوَ لِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ فَقَضَى لَنَا بِهِ
আমর বিন শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং পিতা দাদা থেকে বর্ণিতঃ
আমর যখন ফিরে এলেন, তখন মা’মার বিন হাবীবের সন্তানেরা এলো তাদের বোনের উত্তরাধিকারের দাবী উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট পেশ করার জন্য। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা শুনেছি, তদনুসারে তোমাদের বিরোধের মীমাংসা করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সন্তান বা পিতা যা কিছু রেখে যায়, তা তার পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়দের মধ্য থেকে যে জীবিত থাকে তার। এভাবে তিনি সেই সম্পত্তি আমাদেরকে দেয়ার ফায়সালা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৮]
[আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

قَالَ قَرَأْتُ عَلَى يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ وَحُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ قَالَا لَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَذَكَرْنَا الْقَدَرَ وَمَا يَقُولُونَ فِيهِ فَقَالَ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ فَقُولُوا إِنَّ ابْنَ عُمَرَ مِنْكُمْ بَرِيءٌ وَأَنْتُمْ مِنْهُ بُرَآءُ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُمْ بَيْنَا هُمْ جُلُوسٌ أَوْ قُعُودٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَهُ رَجُلٌ يَمْشِي حَسَنُ الْوَجْهِ حَسَنُ الشَّعْرِ عَلَيْهِ ثِيَابُ بَيَاضٍ فَنَظَرَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ مَا نَعْرِفُ هَذَا وَمَا هَذَا بِصَاحِبِ سَفَرٍ ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ آتِيكَ قَالَ نَعَمْ فَجَاءَ فَوَضَعَ رُكْبَتَيْهِ عِنْدَ رُكْبَتَيْهِ وَيَدَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ فَقَالَ مَا الْإِسْلَامُ قَالَ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ وَتَحُجُّ الْبَيْتَ قَالَ فَمَا الْإِيمَانُ قَالَ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ قَالَ فَمَا الْإِحْسَانُ قَالَ أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ فَمَتَى السَّاعَةُ قَالَ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنْ السَّائِلِ قَالَ فَمَا أَشْرَاطُهَا قَالَ إِذَا الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ الْعَالَةُ رِعَاءُ الشَّاءِ تَطَاوَلُوا فِي الْبُنْيَانِ وَوَلَدَتْ الْإِمَاءُ رَبَّاتِهِنَّ قَالَ ثُمَّ قَالَ عَلَيَّ الرَّجُلَ فَطَلَبُوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا فَمَكَثَ يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً ثُمَّ قَالَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ أَتَدْرِي مَنْ السَّائِلُ عَنْ كَذَا وَكَذَا قَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ ذَاكَ جِبْرِيلُ جَاءَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ قَالَ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ جُهَيْنَةَ أَوْ مُزَيْنَةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِيمَا نَعْمَلُ أَفِي شَيْءٍ قَدْ خَلَا أَوْ مَضَى أَوْ فِي شَيْءٍ يُسْتَأْنَفُ الْآنَ قَالَ فِي شَيْءٍ قَدْ خَلَا أَوْ مَضَى فَقَالَ رَجُلٌ أَوْ بَعْضُ الْقَوْمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِيمَا نَعْمَلُ قَالَ أَهْلُ الْجَنَّةِ يُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ يُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ قَالَ يَحْيَى قَالَ هُوَ هَكَذَا يَعْنِي كَمَا قَرَأْتَ عَلَيَّ
ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার এবং হুমাইদ বিন আবদুর রহমান আল-হিময়ারী থেকে বর্ণিতঃ
আমরা উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উমারের সাথে সাক্ষাত করলাম। তখন অদৃষ্ট ও তদসংক্রান্ত বিষয়ে লোকদের ধ্যান ধারণার কথা উল্লেখ করলাম। আবদুল্লাহ ইবনে উমার বললেন, তোমরা যখন তাদের নিকট ফিরে যাবে, তখন বলবে, আবদুল্লাহ ইবনে উমার তোমাদের থেকে দায়মুক্ত আর তোমরা তার থেকে দায়মুক্ত। এ কথা তিনবার বললেন। (অর্থাৎ অদৃষ্ট সম্পর্কে প্রচলিত ধ্যান ধারণার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি এর সমর্থকও নন, বিরোধীও নন।—অনুবাদক) তারপর বললেন, আমাকে উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলেন, সহসা তার নিকট এমন এক ব্যক্তি পদব্রজে এল, যার চেহারা ও চুল চমৎকার এবং পরিধানে সাদা কাপড় ছিল। উপস্থিত লোকেরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো। আমরা কেউ তাকে চিনিওনা, আর সে কোন মুসাফিরও নয়।
তারপর বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি আপনার কাছে আসবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর সে এল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটুর সাথে হাঁটু গেড়ে এবং নিজের উরুদ্বয়ের ওপর হাত রেখে বসলো। তারপর জিজ্ঞেস করলো, ইসলাম কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রাসূল, আর নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমযানে রোযা রাখবে এবং আল্লাহর ঘরে হজ্জ আদায় করবে। সে বললো, ঈমান কী? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতা, জান্নাত, জাহান্নাম, মৃত্যুর পর পুনরুজীবিত হওয়া ও সব রকমের ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনবে।
সে বললোঃ ইহসান কী? তিনি বললেনঃ আল্লাহর জন্য কাজ করবে এমনভাবে যেন তাকে তুমি দেখছ, আর যদি তুমি তাকে না দেখ, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। সে বললোঃ কিয়ামত কবে হবে? তিনি বললেন, জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এ ব্যাপারে বেশি জানে না। সে বললো কিয়ামতের নিদর্শনাবলী কী কী? তিনি বললেনঃ এক সময় যারা নগ্ন থাকতো, খালি পায়ে চলতো ও ছাগল চরাতো, তারা বড় বড় অট্রালিকায় বসে দম্ভ করবে এবং দাসীরা এমন সন্তান জন্ম দেবে যারা তাদের প্রভু হবে।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকটিকে আমি চাই। তখন সবাই তাকে খোজাখুঁজি করলো। কিন্তু কিছুই দেখলো না। এরপর দুই বা তিনদিন কেটে গেল। তারপর বললেন, ওহে খাত্তাবের ছেলে, জান কে এসব প্রশ্ন করছিল। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ও হচ্ছে জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে এসেছিল।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুযাইনা বা জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা যে কাজ করি তা কি পূর্ব-নির্ধারিত ব্যাপার (অর্থাৎ অদৃষ্টের লিখন) নাকি এখন নতুনভাবে করা হয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্ব-নির্ধারিত ব্যাপার। এ সময় এক ব্যক্তি অথবা কোন এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, তাহলে আমরা আমল করে কী লাভ? তিনি বললেন, জান্নাতবাসীর জন্য জান্নাতের উপযুক্ত আমল সহজ করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামবাসীর জন্য জাহান্নামের উপযুক্ত আমল সহজ করে দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَقَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُحَرِّمَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى وَرَسُولُهُ فَلْيُحَرِّمْ النَّبِيذَ قَالَ وَسَأَلْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْجَرِّ قَالَ وَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَحَدَّثَ عَنْ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ قَالَ وَحَدَّثَنِي أَخِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ وَالْبُسْرِ وَالتَّمْرِ
আবুল হাকাম থেকে বর্ণিতঃ
আমি ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কলসীতে বানানো ফলের রসের মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো ফলের রসের মদ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের নিষিদ্ধকৃত জিনিসকে বর্জন করা যার কাছে আনন্দদায়ক, সে যেন ফলের রসের মদ বর্জন করে। ইবনুয যুবাইরও রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ নিষিদ্ধ করেছেন। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ ও মুযাফফাত (আলকাতরার মত কালো এক ধরনের তরল মাদক) নিষিদ্ধ করেছেন। আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী, লাউয়ের খোল, মুযাফফাত এবং কাচা খেজুর ও খোরমার নির্যাস দিয়ে তৈরী মদ নিষিদ্ধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الْغَطَفَانِيِّ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ ذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَكَرَ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رُؤْيَا لَا أُرَاهَا إِلَّا لِحُضُورِ أَجَلِي رَأَيْتُ كَأَنَّ دِيكًا نَقَرَنِي نَقْرَتَيْنِ قَالَ وَذَكَرَ لِي أَنَّهُ دِيكٌ أَحْمَرُ فَقَصَصْتُهَا عَلَى أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ امْرَأَةِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقَالَتْ يَقْتُلُكَ رَجُلٌ مِنْ الْعَجَمِ قَالَ وَإِنَّ النَّاسَ يَأْمُرُونَنِي أَنْ أَسْتَخْلِفَ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُنْ لِيُضَيِّعَ دِينَهُ وَخِلَافَتَهُ الَّتِي بَعَثَ بِهَا نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنْ يَعْجَلْ بِي أَمْرٌ فَإِنَّ الشُّورَى فِي هَؤُلَاءِ السِّتَّةِ الَّذِينَ مَاتَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَنْهُمْ رَاضٍ فَمَنْ بَايَعْتُمْ مِنْهُمْ فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا وَإِنِّي أَعْلَمُ أَنَّ أُنَاسًا سَيَطْعَنُونَ فِي هَذَا الْأَمْرِ أَنَا قَاتَلْتُهُمْ بِيَدِي هَذِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ أُولَئِكَ أَعْدَاءُ اللَّهِ الْكُفَّارُ الضُّلَّالُ وَايْمُ اللَّهِ مَا أَتْرُكُ فِيمَا عَهِدَ إِلَيَّ رَبِّي فَاسْتَخْلَفَنِي شَيْئًا أَهَمَّ إِلَيَّ مِنْ الْكَلَالَةِ وَايْمُ اللَّهِ مَا أَغْلَظَ لِي نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَيْءٍ مُنْذُ صَحِبْتُهُ أَشَدَّ مَا أَغْلَظَ لِي فِي شَأْنِ الْكَلَالَةِ حَتَّى طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ الَّتِي نَزَلَتْ فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ وَإِنِّي إِنْ أَعِشْ فَسَأَقْضِي فِيهَا بِقَضَاءٍ يَعْلَمُهُ مَنْ يَقْرَأُ وَمَنْ لَا يَقْرَأُ وَإِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ عَلَى أُمَرَاءِ الْأَمْصَارِ إِنِّي إِنَّمَا بَعَثْتُهُمْ لِيُعَلِّمُوا النَّاسَ دِينَهُمْ وَيُبَيِّنُوا لَهُمْ سُنَّةَ نَبِيِّهِمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَرْفَعُوا إِلَيَّ مَا عُمِّيَ عَلَيْهِمْ ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ تَأْكُلُونَ مِنْ شَجَرَتَيْنِ لَا أُرَاهُمَا إِلَّا خَبِيثَتَيْنِ هَذَا الثُّومُ وَالْبَصَلُ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَرَى نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجِدُ رِيحَهُمَا مِنْ الرَّجُلِ فَيَأْمُرُ بِهِ فَيُؤْخَذُ بِيَدِهِ فَيُخْرَجُ بِهِ مِنْ الْمَسْجِدِ حَتَّى يُؤْتَى بِهِ الْبَقِيعَ فَمَنْ أَكَلَهُمَا لَا بُدَّ فَلْيُمِتْهُمَا طَبْخًا قَالَ فَخَطَبَ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَأُصِيبَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ
মা’দান ইবনে আবি তালহা আল ইয়ামানী থেকে বর্ণিতঃ
এক শুক্রবারে উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বারে দাঁড়ালেন, তারপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিচারণ করলেন ও আবু বাকরের স্মৃতিচারণ করলেন। তারপর বললেন, আমি এমন একটা স্বপ্ন দেখেছি যা আমার মৃত্যু আসন্ন হওয়া ছাড়া আর কোন দিকে ইঙ্গিত করে বলে আমার মনে হয় না। আমি দেখলাম, একটা মোরগ যেন আমাকে দুটো ঠোকর মারলো। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি আমাকে বললেন যে, সেটি ছিল লাল মোরগ। আমি এ স্বপ্ন আবু বাকরের মেয়ে আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহু নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাকে (উমারকে) জনৈক অনারব ব্যক্তি হত্যা করবে। উমার বললেনঃ জনগণ আমাকে আদেশ দিচ্ছে, আমি যেন পরবর্তী খলীফা মনোনীত করি। অথচ আল্লাহ তা’আলা তার দীনকে ও তার নবীর মাধ্যমে প্রেরিত খিলাফাতকে ধ্বংস করতে চাননা।
আর কোন জিনিস যদি আমাকে তাড়া করে তবে তা হলো, এই ছয়জনের পরামর্শের ওপর ব্যাপারটা ন্যস্ত করা যাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায়ই আল্লাহর নবী ইন্তিকাল করেছেন। এই ছয়জনের মধ্য থেকে যার হাতে তোমরা বাইয়াত করবে (খালীফা মেনে নেবে) তার কথা শুনবে ও আনুগত্য করবে। আমি জানি, এমন কিছু লোক এ বিষয় নিয়ে নিন্দায় মুখর হবে, যাদের সাথে আমি ইসলামের স্বার্থে এই হাত দিয়ে যুদ্ধ করেছি। তারা আল্লাহর দুশমন, কাফির ও বিপথগামী। আল্লাহর কসম, আমার প্রতিপালক আমার নিকট যে সকল জিনিসের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন ও খিলাফত অর্পণ করেছেন, সে সব জিনিসের মধ্য থেকে ’কালালার’ চেয়ে আমার নিকট অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছুই আমি রেখে যাচ্ছিনা।
আল্লাহর কসম, আল্লাহর নবীর সাহচর্যে আমি যতদিন থেকেছি, ততদিন তিনি সবচেয়ে কঠোরভাবে যে জিনিসের ব্যাপারে আমাকে তাকিদ দিয়েছেন, তা হচ্ছে ’কালালা’ (যে ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়) এমনকি তিনি (এর ওপর গুরুত্ব দেয়ার জন্য) তার আঙ্গুল দিয়ে আমার বুকে টোকা দিলেন এবং বললেনঃ সূরা আন নিসার শেষভাগে নাযিলকৃত গ্রীষ্মের আয়াত তোমার জন্য যথেষ্ট। আর আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে কালালা সম্পর্কে এমন ফায়সালা করবো। যা স্বাক্ষর ও নিরক্ষর নির্বিশেষে সকলেই জানতে পারবে। আমি সকল শহরের আমীরদের ব্যাপারে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি তাদেরকে এ জন্যই পাঠিয়েছি যেন তাঁরা জনগণকে ইসলামী শিক্ষা দেন, তাদেরকে তাঁদের নবীর অনুসৃত সুন্নাত তথা রীতিনীতি জানিয়ে দেন এবং তাঁরা যেসব বিষয় অবগত নয়, তা যেন আমার কাছে তুলে ধরেন।
তারপর শোন, তোমরা দুটো গাছের ফল খেয়ে থাকো, যাকে আমি খারাপই মনে করি। তা হচ্ছে পিয়াজ ও রসুন। আল্লাহর কসম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতাম, কোন ব্যক্তির মুখ থেকে পিয়াজ রসুনের গন্ধ পেলেই তার আদেশে তাকে হাত ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হতো এবং বাকী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতো। তবে যে ব্যক্তির একান্তই পিয়াজ বা রসুন খাওয়া দরকার, সে যেন রান্না করে তার গন্ধ দূর করে খায়। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমআর দিনে ভাষণ দিলেন এবং বুধবার শাহাদাত বরণ করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ لِطَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ مَا لِي أَرَاكَ قَدْ شَعِثْتَ وَاغْبَرَرْتَ مُنْذُ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلَّكَ سَاءَكَ يَا طَلْحَةُ إِمَارَةُ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنِّي لَأَجْدَرُكُمْ أَنْ لَا أَفْعَلَ ذَلِكَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا أَحَدٌ عِنْدَ حَضْرَةِ الْمَوْتِ إِلَّا وَجَدَ رُوحَهُ لَهَا رَوْحًا حِينَ تَخْرُجُ مِنْ جَسَدِهِ وَكَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَمْ أَسْأَلْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهَا وَلَمْ يُخْبِرْنِي بِهَا فَذَلِكَ الَّذِي دَخَلَنِي قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَنَا أَعْلَمُهَا قَالَ فَلِلَّهِ الْحَمْدُ فَمَا هِيَ قَالَ هِيَ الْكَلِمَةُ الَّتِي قَالَهَا لِعَمِّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ طَلْحَةُ صَدَقْتَ
উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবনুল খাত্তাব তালহা বিন উবাইদুল্লাহকে বললেন, কী ব্যাপার? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর থেকে দেখছি, তোমার এলোমেলো চুল ও ধুলি ধুসরিত মুখ। বোধ হয় তোমার চাচাতো ভাই আমীর নিযুক্ত হওয়ায় তোমার মন খারাপ। তালহা বললেন, আল্লাহর পানাহ চাই! আমি আপনাদের সবার চেয়ে এ ব্যাপারে অধিক উপযুক্ত যে, এমন মনোভাব পোষণ না করি। আসল ব্যাপার হলো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি এমন একটি বাণী জানি, যা কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে পাঠ করলে তার আত্মা বহির্গত হবার সময় একটা প্রবল সুঘ্রাণ ছড়াবে এবং কিয়ামতের দিন তাঁর আত্মা তাঁর জন্য একটা জ্যোতিতে পরিণত হবে। সেই বাণীটি কি, তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করিনি, আর তিনিও আমাকে জানাননি। ঐ জিনিসটাই আমার (মনের) মধ্যে ঢুকে আছে। (অর্থ্যাৎ ঐ বাণীটি কী সেই কথা ভাবতে ভাবতেই আমি এত বিহ্বল হয়ে পড়েছি।) উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আরে ওটা তো আমি জানি। তালহা বলে উঠলেন, তাহলে তো আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা! সেটি কী? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেটি হলো সেই কালেমা, যা তিনি তাঁর চাচা (আবু তালিব) কে বলেছিলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তালহা বললেন, আপনি সত্যই বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَيْسٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ الْيَهُودِ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ آيَةً فِي كِتَابِكُمْ لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ الْيَهُودِ نَزَلَتْ لَاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا قَالَ وَأَيُّ آيَةٍ هِيَ قَالَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي قَالَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَاللَّهِ إِنَّنِي لَأَعْلَمُ الْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالسَّاعَةَ الَّتِي نَزَلَتْ فِيهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দরবারে জনৈক ইহুদী এল। সে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনারা আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন, যা আমাদের ইহুদী জাতির নিকট নাযিল হলে আমরা সে দিনটিকে উৎসবের দিনে পরিণত করতাম তিনি বললেন, আয়াতটি কী? সে বললেনঃ আয়াতটি হলোঃ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামাতকে পূর্ণ করে দিলাম”। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত-৩)। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াতটি যে দিনে ও যে সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল, তা আমি জানি। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল জুম’আর দিন বিকালে আরাফাতের ময়দানে। (অর্থ্যাৎ আমাদের জন্যও দিনটি ও সময়টি উৎসবেরই ছিল) [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৩]
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَنَّ رَجُلًا رَمَى رَجُلًا بِسَهْمٍ فَقَتَلَهُ وَلَيْسَ لَهُ وَارِثٌ إِلَّا خَالٌ فَكَتَبَ فِي ذَلِكَ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَكَتَبَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَى مَنْ لَا مَوْلَى لَهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ
আবু উমামা থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি তীর ছুঁড়ে অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেললো। মামা ব্যতীত নিহতের আর কোন উত্তরাধিকারী ছিল না (যে শাস্তি বা ক্ষতিপূরণের দাবী জানাবে।) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ এ বিষয়টি জানিয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে চিঠি লিখলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে লিখলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যার কোন অভিভাবক নেই, তার অভিভাবক আল্লাহ ও তার রাসূল (অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্র)। আর যার কোন উত্তরাধিকারী নেই, তার উত্তরাধিকারী মামা। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৪]
[ইবনু হিব্বান, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ الْعَبْدِيِّ قَالَ سَمِعْتُ شَيْخًا بِمَكَّةَ فِي إِمَارَةِ الْحَجَّاجِ يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ يَا عُمَرُ إِنَّكَ رَجُلٌ قَوِيٌّ لَا تُزَاحِمْ عَلَى الْحَجَرِ فَتُؤْذِيَ الضَّعِيفَ إِنْ وَجَدْتَ خَلْوَةً فَاسْتَلِمْهُ وَإِلَّا فَاسْتَقْبِلْهُ فَهَلِّلْ وَكَبِّرْ
মক্কার জনৈক প্রবীন ব্যক্তি থেকে বর্ণিতঃ
মক্কার জনৈক প্রবীন ব্যক্তি, যিনি হাজীদের আমীরের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে উমার, তুমি একজন সবল ব্যক্তি, তুমি হাজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় করো না, তাহলে তুমি দুর্বলদেরকে কষ্ট দেবে। যদি নিরিবিলি পাও তবে তাকে স্পর্শ কর। নচেত দূর থেকে তার দিকে মুখ করে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” ও “আল্লাহু আকবার” বল। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْإِيمَانُ قَالَ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَبِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام صَدَقْتَ قَالَ فَتَعَجَّبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিবরীল জিজ্ঞাসা করলেনঃ ঈমান কী? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকূল, তার কিতাবগুলো, তার রাসূলগণ, আখিরাত এবং অদৃষ্টের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে। জিবরীল তাকে বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। আমরা অবাক হলাম যে, সে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসাও করছে, আবার তার সত্যায়নও করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উনি জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দীনের মূলনীতিগুলো শিখাতে এসেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৬]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عُرْوَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَقَالَ مَرَّةً جَاءَ اللَّيْلُ مِنْ هَهُنَا وَذَهَبَ النَّهَارُ مِنْ هَهُنَا فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ يَعْنِي الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন এখান থেকে রাত আসবে এবং এখান থেকে দিন চলে যাবে, তখনই রোযাদার রোযা খুলবে। (’এখান থেকে’ দ্বারা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জায়গা বুঝাচ্ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৭]
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ بْنُ يُونُسَ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى الثَّعْلَبِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ كُنْتُ مَعَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلَالَ هِلَالَ شَوَّالٍ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْطِرُوا ثُمَّ قَامَ إِلَى عُسٍّ فِيهِ مَاءٌ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا أَتَيْتُكَ إِلَّا لِأَسْأَلَكَ عَنْ هَذَا أَفَرَأَيْتَ غَيْرَكَ فَعَلَهُ فَقَالَ نَعَمْ خَيْرًا مِنِّي وَخَيْرَ الْأُمَّةِ رَأَيْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ مِثْلَ الَّذِي فَعَلْتُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَامِيَّةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَّيْنِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ ثُمَّ صَلَّى عُمَرُ الْمَغْرِبَ
আবদুর রাহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো, আমি শাওয়ালের চাঁদ দেখেছি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তৎক্ষণাত বললেন, হে জনতা, তোমরা রোযায় বিরতি দাও। তারপর তিনি একটি নৈশ প্রহরা কেন্দ্রে গেলেন, যেখানে পানি ছিল। তিনি ওযূ করলেন এবং তার মোযায় মাসেহ করলেন। লোকটি বললো, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার নিকট এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই এসেছি, আপনি কি অন্য কাউকে এ কাজ করতে দেখেছেন? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হ্যাঁ, আমার চেয়েও যিনি ভালো এমনকি সমগ্র উম্মাহর মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ, সেই আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ডাকনাম) আমি যা করলাম, তা করতে দেখেছি। তখন তাঁর গায়ে ছিল চাপা হাতাওয়ালা সিরীয় জুব্বা। জুব্বার নিচ দিয়ে তিনি নিজের হাত ঢুকালেন। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মাগরিবের নামায পড়লেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُحَرِّمْ الضَّبَّ وَلَكِنْ قَذِرَهُ و قَالَ غَيْرُ مُحَمَّدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে)-কে হারাম করেননি, তবে নোংরা মনে করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَالِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ اسْتَأْذَنَهُ فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لَهُ فَقَالَ يَا أَخِي لَا تَنْسَنَا مِنْ دُعَائِكَ وَقَالَ بَعْدُ فِي الْمَدِينَةِ يَا أَخِي أَشْرِكْنَا فِي دُعَائِكَ فَقَالَ عُمَرُ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ لِقَوْلِهِ يَا أَخِي
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উমরার করার জন্যে অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দিলেন এবং বললেন, “হে আমার ভাই, তোমার দু’আয় আমাকে শরীক রেখো। তোমার দু’আয় আমাকে ভুলো না।” উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এ কথার কারণে, ঐ উমরার বিনিময়ে সমগ্র পৃথিবীর সম্পত্তি আমার করায়ত্ব হোক, এটাও আমি পছন্দ করবো না। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘হে আমার ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯০]
[তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ وَحَجَّاجٌ قَالَ سَمِعْتُ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ مَا نَعْمَلُ فِيهِ أَقَدْ فُرِغَ مِنْهُ أَوْ فِي شَيْءٍ مُبْتَدَإٍ أَوْ أَمْرٍ مُبْتَدَعٍ قَالَ فِيمَا قَدْ فُرِغَ مِنْهُ فَقَالَ عُمَرُ أَلَا نَتَّكِلُ فَقَالَ اعْمَلْ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَيَعْمَلُ لِلسَّعَادَةِ وَأَمَّا أَهْلُ الشَّقَاءِ فَيَعْمَلُ لِلشَّقَاءِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, “আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আমরা যে কাজ করি, তা কি পূর্ব থেকে চূড়ান্ত (অর্থাৎ ভাগ্যের লিখন) অথবা প্রথম, অথবা নতুন কাজ বলে গণ্য হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “পূর্ব থেকেই চূড়ান্ত।” উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তবে কি আমরা তার ওপর নির্ভর করবো না?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ওহে খাত্তাবের ছেলে! কাজ করতে থাক। সবাইকেই কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান সে সৌভাগ্যের কাজ করে। আর যে দুর্ভাগা, সে দুর্ভাগ্যের কাজ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَطَبَ النَّاسَ فَسَمِعَهُ يَقُولُ أَلَا وَإِنَّ أُنَاسًا يَقُولُونَ مَا بَالُ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ الْجَلْدُ وَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ وَلَوْلَا أَنْ يَقُولَ قَائِلُونَ أَوْ يَتَكَلَّمَ مُتَكَلِّمُونَ أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ زَادَ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ لَأَثْبَتُّهَا كَمَا نُزِّلَتْ
আবদুর রাহমান বিন আউফ থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ শুনে রাখ, অনেকে বলে, রজম (ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা) আবার কী? আল্লাহর কিতাবে তো রয়েছে বেত মারার বিধান। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন, তার পরে আমরাও রজম করেছি। যদি এ আশঙ্কা না থাকতো যে, কেউ হয়তো বলবে, উমার আল্লাহর কিতাবের অংশ নয় এমন জিনিস তাতে সন্নিবেশিত করেছে, তাহলে আমি এটি (রজম) তাতে অবিকল সেইভাবে সন্নিবেশিত করতাম, যেভাবে তা নাযিল হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ خُمَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ ابْنِ السِّمْطِ أَنَّهُ أَتَى أَرْضًا يُقَالُ لَهَا دَوْمِينُ مِنْ حِمْصَ عَلَى رَأْسِ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِيلًا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ أَتُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ إِنَّمَا أَفْعَلُ كَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ قَالَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
ইবনুস্ সামত থেকে বর্ণিতঃ
তিনি হিমস থেকে আঠারো মাইল দূরে দুমীন নামক স্থানে এসে দু’রাকআত নামায পড়লেন। আমি (জুবাইর ইবনে নুফাইর) তাঁকে বললাম, আপনি দু’রাকআত নামায পড়লেন? তিনি জবাব দিলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাবকে যুল হুলাইফাতে দু’রাকআত নামায পড়তে দেখেছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা করতে দেখেছি, তাই করছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن حَنْبَلٍ قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ : مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْقَلَبْتُ مِنْ السُّوقِ فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জুম’আর দিন যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খুৎবা দিচ্ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এখন কোন সময়? সাহাবী বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, বাজার থেকে ফিরেই আযান শুনেছি, তাই ওযূর বেশি কিছু করিনি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ শুধু ওযূ? অথচ তুমি তো জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার আদেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪]
[বুখারী, মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ قَالَ صَلَّى بِنَا عُمَرُ بِجَمْعٍ الصُّبْحَ ثُمَّ وَقَفَ وَقَالَ إِنَّ الْمُشْرِكِينَ كَانُوا لَا يُفِيضُونَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَفَهُمْ ثُمَّ أَفَاضَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ
আমর ইবনে মাইমুন থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সাথে একটি জামায়াতে ফজরের নামায পড়লেন, তারপর কিছুক্ষণ থামলেন, তারপর বললেনঃ মুশরিকরা সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত রওনা হতো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করেছেন। অতঃপর [উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু] সূর্যোদয়ের পূর্বেই রওনা হলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ حَتَّى لَا أَدَعَ إِلَّا مُسْلِمًا
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বহিষ্কার করবোই। মুসলিম ছাড়া কাউকেই থাকতে দেব না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৬]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن حَنْبَلٍ قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ : مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْقَلَبْتُ مِنْ السُّوقِ فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জুম’আর দিন যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খুৎবা দিচ্ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এখন কোন সময়? সাহাবী বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, বাজার থেকে ফিরেই আযান শুনেছি, তাই ওযূর বেশি কিছু করিনি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ শুধু ওযূ? অথচ তুমি তো জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার আদেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস