
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ كَانَ مَعَ مَسْلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ فِي أَرْضِ الرُّومِ فَوُجِدَ فِي مَتَاعِ رَجُلٍ غُلُولٌ فَسَأَلَ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ وَجَدْتُمْ فِي مَتَاعِهِ غُلُولًا فَأَحْرِقُوهُ قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَالَ وَاضْرِبُوهُ قَالَ فَأَخْرَجَ مَتَاعَهُ فِي السُّوقِ قَالَ فَوَجَدَ فِيهِ مُصْحَفًا فَسَأَلَ سَالِمًا فَقَالَ بِعْهُ وَتَصَدَّقْ بِثَمَنِهِ
সালেম বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ
তিনি মাসলামা বিন আবদুল মালিকের সাথে রোমে ছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তির মালপত্রের মধ্যে একটি চোরাই মাল পাওয়া গেল। মাসলামা সালেমকে তার মত জিজ্ঞেস করলেন। সালেম বললেন, উমারের নিকট থেকে আবদুল্লাহ আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার মালপত্রের মধ্যে কোন চুরি করা জিনিস পাবে, তা পুড়িয়ে দাও। (সালেম বললেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন যে, তাকে প্রহার কর।) সালেম বলেন, এরপর মাসলামা তার মাল বাজারে বের করলেন। তাতে এক কপি কুরআন মাজীদ পেলেন। সে সম্পর্কে সালেমকে তার মত জিজ্ঞেস করলেন। সালেম বললেন, কুরআনের কপিটি বিক্রি করে তার মূল্য সাদাকা করে দিন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৮]
[তিরমিযী, আবু দাউদ]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ وَحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ خَمْسٍ مِنْ الْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَسُوءِ الْعُمُرِ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি জিনিস থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় (নিরাপত্তা) চাইতেনঃ কৃপণতা, কাপুরুষতা, বুকের যে কোন সমস্যা, কবরের আযাব এবং বার্ধক্যজনিত দুঃখকষ্ট। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৯]
[ইবনু হিব্বান, আল হাকেম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসায়ী]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ دِينَارٍ عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْخَوْلَانِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الشُّهَدَاءُ ثَلَاثَةٌ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ جَيِّدُ الْإِيمَانِ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَصَدَقَ اللَّهَ حَتَّى قُتِلَ فَذَلِكَ الَّذِي يَرْفَعُ إِلَيْهِ النَّاسُ أَعْنَاقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسَهُ حَتَّى وَقَعَتْ قَلَنْسُوَتُهُ أَوْ قَلَنْسُوَةُ عُمَرَ وَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ جَيِّدُ الْإِيمَانِ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَكَأَنَّمَا يُضْرَبُ جِلْدُهُ بِشَوْكِ الطَّلْحِ أَتَاهُ سَهْمٌ غَرْبٌ فَقَتَلَهُ هُوَ فِي الدَّرَجَةِ الثَّانِيَةِ وَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ جَيِّدُ الْإِيمَانِ خَلَطَ عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا لَقِيَ الْعَدُوَّ فَصَدَقَ اللَّهَ حَتَّى قُتِلَ فَذَلِكَ فِي الدَّرَجَةِ الثَّالِثَةِ
ফুযালা বিন উবাই থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ শহীদরা তিন ধরনের, একজন দৃঢ় ঈমানের অধিকারী মুমিন, যে শত্রুর মুখোমুখি হলো, আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকারকে সত্য প্রমাণিত করলো এবং নিহত হলো। কিয়ামতের দিন লোকেরা মাথা উঁচু করে তার নিকট সমবেত হবে এবং এ কথা বলার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথা এতটা উঁচু করলেন যে, তার টুপি পড়ে গেল, অথবা উমারের টুপি পড়ে গেল। সন্দেহ বর্ণনাকারীর (ফুযালা) পক্ষ থেকে।
অপর জন দৃঢ় ঈমানের অধিকারী, সে শত্রুর মুখোমুখি হলো, তার চামড়া যেন তালাহ (এক ধরনের বুনো গাছ) গাছের কাটার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। একটা ধারালো তীর এসে তাকে হত্যা করলো। সে দ্বিতীয় শ্রেণীর শহীদ। আর একজন দৃঢ় ঈমানধারী মুমিন। সে ভালো ও মন্দ কাজের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। সে শত্রুর সম্মুখীন হলো, আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্য প্রমাণ করলো এবং নিহত হলো। সে তৃতীয় স্তরের শহীদ। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪০]
[তিরমিযী]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُقَادُ وَالِدٌ مِنْ وَلَدٍ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন সন্তানের জন্য পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। (অর্থাৎ সন্তানকে হত্যা করার দায়ে পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোন দণ্ডই দেয়া হবে না। অপেক্ষাকৃত লঘু দণ্ড অবশ্যই দিতে হবে। -অনুবাদক) [মুসনাদে আহমাদ : ১৪১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرِثُ الْمَالَ مَنْ يَرِثُ الْوَلَاءَ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে অভিভাবকত্ব লাভ করে, সে সম্পত্তিও উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪২]
[ইবনু মাজাহ, তিরমিযী]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُقَادُ وَالِدٌ مِنْ وَلَدٍ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন সন্তানের জন্য পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। (অর্থাৎ সন্তানকে হত্যা করার দায়ে পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোন দণ্ডই দেয়া হবে না। অপেক্ষাকৃত লঘু দণ্ড অবশ্যই দিতে হবে। -অনুবাদক) [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ شُرَحْبِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের সময় এক একবার ধৌত করে ওযূ সেরেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ أَنْبَأَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْخَوْلَانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الشُّهَدَاءُ أَرْبَعَةٌ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ جَيِّدُ الْإِيمَانِ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَصَدَقَ اللَّهَ فَقُتِلَ فَذَلِكَ الَّذِي يَنْظُرُ النَّاسُ إِلَيْهِ هَكَذَا وَرَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى سَقَطَتْ قَلَنْسُوَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ قَلَنْسُوَةُ عُمَرَ وَالثَّانِي رَجُلٌ مُؤْمِنٌ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَكَأَنَّمَا يُضْرَبُ ظَهْرُهُ بِشَوْكِ الطَّلْحِ جَاءَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ فَقَتَلَهُ فَذَاكَ فِي الدَّرَجَةِ الثَّانِيَةِ وَالثَّالِثُ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ خَلَطَ عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا لَقِيَ الْعَدُوَّ فَصَدَقَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى قُتِلَ قَالَ فَذَاكَ فِي الدَّرَجَةِ الثَّالِثَةِ وَالرَّابِعُ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ أَسْرَفَ عَلَى نَفْسِهِ إِسْرَافًا كَثِيرًا لَقِيَ الْعَدُوَّ فَصَدَقَ اللَّهَ حَتَّى قُتِلَ فَذَاكَ فِي الدَّرَجَةِ الرَّابِعَةِ
হজরত ফারুক আযম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত ফারুক আযম (রা.) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে, শহীদ চার প্রকার। (১) যে মুসলমানের ঈমান মজবুত, যে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করেছে, যতক্ষণ না সে শহীদ হয়েছে, এই সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ কিয়ামতের দিন তাদের ঘাড় তুলে দেখবে এটি এবং নবী নিজেই মাথা তুলে তা দেখালেন যতক্ষণ না তাঁর বরকতময় টুপি পড়ে যায়। (২) একজন মুসলিম ব্যক্তি যার ঈমান মজবুত, শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তার শরীরে কেউ কাঁটা দিয়ে বিদ্ধ করেছে, হঠাৎ কোথা থেকে একটি তীর এসে সে শহীদ হয়ে গেল, এটা দ্বিতীয় স্তরের। (৩) যে মুসলমানের ঈমান মজবুত, কিন্তু সে কিছু ভালো ও কিছু খারাপ কাজ করেছে, যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে, সে আল্লাহর বাণীকে সত্য বলে প্রমাণ করেছে, এমনকি শাহাদাতও বরণ করেছে, এটা তৃতীয় স্তরের। (৪) যে মুসলিম ব্যক্তি তার জীবনের প্রতি চরম জুলুম করেছে, শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে, অতঃপর সে আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করেছে এবং শহীদ হয়েছে, এটা চতুর্থ স্তরের। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ شُرَحْبِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের সময় এক একবার ধৌত করে ওযূ সেরেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَيَخْرُجُ أَهْلُ مَكَّةَ ثُمَّ لَا يَعْبُرُ بِهَا أَوْ لَا يَعْرِفُهَا إِلَّا قَلِيلٌ ثُمَّ تَمْتَلِئُ وَتُبْنَى ثُمَّ يَخْرُجُونَ مِنْهَا فَلَا يَعُودُونَ فِيهَا أَبَدًا
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ একদিন মক্কাবাসী মক্কা থেকে চলে যাবে, অতঃপর স্বল্প সংখ্যক লোক ছাড়া পুনরায় আর ফিরে এসে মক্কায় বাস করবে না। তারপর মক্কা আবার জনাকীর্ণ হবে ও সেখানে বহু ঘরবাড়ি নির্মিত হবে। তারপর আবার তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যাবে অতঃপর আর কখনো সেখানে ফিরবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ فَتَرَكَ مَوْضِعَ ظُفُرٍ عَلَى ظَهْرِ قَدَمِهِ فَأَبْصَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ فَرَجَعَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, নামায পড়ার জন্য ওযূ করলো, কিন্তু পায়ের পিঠে এক নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো রেখে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, ফিরে যাও, ভালো করে ওযূ করে এস। লোকটি ফিরে গেল, ওযূ করলো ও নামায পড়লো। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ زَعَمَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَام فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খৃষ্টানরা যেমন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করতো, তেমনি তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَارٍ بِمَكَّةَ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا قَالَ كَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ قَالَ فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ الْمُشْرِكُونَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ أَيْ بِقِرَاءَتِكَ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا عَنْ أَصْحَابِكَ فَلَا تُسْمِعُهُمْ الْقُرْآنَ حَتَّى يَأْخُذُوهُ عَنْكَ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا
ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আত্মগোপন করে থাকতেন, তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا “তোমার নামায অত্যধিক উঁচু কণ্ঠেও পড়ো না, সম্পূর্ণ গোপনেও পড়ো না”। রাসূলুল্লাহ যখন তার সাথীদের সঙ্গে নামায পড়তেন, তখন তিনি নিজের কুরআন পাঠে অত্যন্ত উঁচু কণ্ঠ প্রয়োগ করতেন। ফলে মুশরিকরা তা শুনে ফেলতো এবং কুরআনকে, কুরআন নাযিলকারীকে ও কুরআন আনয়নকারীকে গালি দিত। তখন আল্লাহ তাঁর নবীকে বললেনঃ “তোমার নামায অতিমাত্রায় উঁচু কণ্ঠে পড়ো না। অর্থাৎ নামাযে কুরআন উঁচু কণ্ঠে পড়ো না। তাহলে মুশরিকরা তা শুনবে এবং কুরআনকে গালি দেবে। আর তা অতিমাত্রায় গোপনেও পড়ো না। অর্থাৎ এত গোপনে পড়ো না যে, তোমার সাথীরা শুনতে পারবে না এবং তোমার কাছ থেকে তা শিখতেও পারবে না। বরং মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০]
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান, ইবনে খুযাইমা]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ هُشَيْمٌ مَرَّةً خَطَبَنَا فَحَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَذَكَرَ الرَّجْمَ فَقَالَ لَا تُخْدَعُنَّ عَنْهُ فَإِنَّهُ حَدٌّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ تَعَالَى أَلَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ رَجَمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ وَلَوْلَا أَنْ يَقُولَ قَائِلُونَ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ لَكَتَبْتُهُ فِي نَاحِيَةٍ مِنْ الْمُصْحَفِ شَهِدَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ هُشَيْمٌ مَرَّةً وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَفُلَانٌ وَفُلَانٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ رَجَمَ وَرَجَمْنَا مِنْ بَعْدِهِ أَلَا وَإِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ بَعْدِكُمْ قَوْمٌ يُكَذِّبُونَ بِالرَّجْمِ وَبِالدَّجَّالِ وَبِالشَّفَاعَةِ وَبِعَذَابِ الْقَبْرِ وَبِقَوْمٍ يُخْرَجُونَ مِنْ النَّارِ بَعْدَمَا امْتَحَشُوا
ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ
একদিন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ভাষণ দিলেন। প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর রজমের (ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা) প্রসঙ্গ তুললেন। তিনি বললেনঃ তোমরা রজম সম্পর্কে কারো দ্বারা প্রতারিত হয়ো না। কেননা ওটা আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডসমূহের একটি। জেনে রাখ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন, তারপরে আমরাও রজম করেছি। যদি এ আশঙ্কা না থাকতো যে, লোকেরা বলবে, উমার আল্লাহর কিতাবে এমন জিনিস সংযোজন করেছে, যা কিতাবের অংশ নয়, তাহলে আমি কুরআনের ভেতরে এক পাশে লিখে দিতাম, “উমার ইবনুল খাত্তাব সাক্ষ্য দিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন এবং তারপর আমরাও রজম করেছি”। জেনে রাখ, তোমাদের পরে এমন এক গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটবে, যারা রজম, দাজ্জাল, শাফায়াত ও কবরের আযাব অস্বীকার করবে এবং এমন এক গোষ্ঠীর কথাও অস্বীকার করবে যারা জাহান্নামে আযাব ভোগ করার পর আবার তা থেকে বেরিয়ে আসবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلَاثٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ اتَّخَذْنَا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى فَنَزَلَتْ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نِسَاءَكَ يَدْخُلُ عَلَيْهِنَّ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَهُنَّ أَنْ يَحْتَجِبْنَ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ وَاجْتَمَعَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاؤُهُ فِي الْغَيْرَةِ فَقُلْتُ لَهُنَّ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ قَالَ فَنَزَلَتْ كَذَلِكَ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি আমার প্রতিপালকের সাথে তিনটি বিষয়ে (আগাম) একমত হয়েছি। প্রথমতঃ আমি বলেছিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মাকামে ইবরাহীমের অন্তর্ভুক্ত কোন জায়গাকে নামায পড়ার স্থান বানালে ভালো হতো। এর অব্যবহিত পরেই এ আয়াত নাযিল হয়ঃوَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى “মাকামে ইবরাহীমের কোনএকটি স্থানকে নামাযের জায়গা হিসাবে গ্রহণ কর।” (আল-বাকারাঃ ১২৫) দ্বিতীয়তঃ আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার স্ত্রীদের নিকট সৎ অসৎ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকেরা যাওয়া আসা করে। কাজেই তাদেরকে যদি পর্দায় থাকার আদেশ দিতেন ভালো হতো। এর অব্যবহিত পর পর্দার আয়াত নাযিল হলো। তৃতীয়তঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তার বিরুদ্ধে অভিমান করে। তখন আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদেরকে তালাক দেন, তবে তার প্রতিপালক তাকে তোমাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী দিতে পারেন।” এরপর অনুরূপ আয়াত নাযিল হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫২]
[বুখারী, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ فَقَرَأَ فِيهَا حُرُوفًا لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْرَأَنِيهَا قَالَ فَأَرَدْتُ أَنْ أُسَاوِرَهُ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ فَلَمَّا فَرَغَ قُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ الْقِرَاءَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ كَذَبْتَ وَاللَّهِ مَا هَكَذَا أَقْرَأَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ أَقُودُهُ فَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَقْرَأْتَنِي سُورَةَ الْفُرْقَانِ وَإِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ فِيهَا حُرُوفًا لَمْ تَكُنْ أَقْرَأْتَنِيهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ كَمَا كَانَ قَرَأَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُ فَقَالَ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْقُرْآنَ نَزَلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হিশাম বিন হাকীম বিন হিযামকে সূরা আল ফুরকান পড়তে শুনলাম। তিনি তাতে এমন কিছু অক্ষর পাঠ করলেন, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়াননি। আমি নামাযের ভেতরেই সিদ্ধান্ত নিলাম যে, হিশামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো। নামায শেষে আমি বললাম, আপনাকে কে এভাবে পড়িয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, আপনি মিথ্যে বলেছেন। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে এভাবে পড়াননি। অতঃপর আমি তার হাত ধরে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম।
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে সূরা আল ফুরকান পড়িয়েছেন। আমি এই ব্যক্তিকে এই সূরায় এমন কিছু অক্ষর পড়তে শুনেছি, যা আপনি আমাকে পড়াননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হিশাম, পড় তো। তখন হিশাম (ইতিপূর্বে) যেভাবে পড়েছিলেন, সেভাবে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই সূরাটি নাযিল হয়েছে। তারপর বললেনঃ হে উমার, তুমি পড় তো। আমি পড়লাম। তিনি বললেনঃ এভাবেই নাযিল হয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন সাতটি পাঠ-রীতিতে নাযিল হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৩]
[নাসায়ী]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ عَنْ عُمَرَ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْتَوِي مَا يَجِدُ مَا يَمْلَأُ بِهِ بَطْنَهُ مِنْ الدَّقَلِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুঁজো হয়ে চলতে দেখেছি। কারণ তিনি পেট পূরে দাকাল (এক ধরনের উন্নত মানের খেজুর) খেতে পাননি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৪]
[মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فِي ثَلَاثٍ أَوْ وَافَقَنِي رَبِّي فِي ثَلَاثٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ اتَّخَذْتَ الْمَقَامَ مُصَلًّى قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ لَوْ حَجَبْتَ عَنْ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنَّهُ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ قَالَ وَبَلَغَنِي عَنْ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ شَيْءٌ فَاسْتَقْرَيْتُهُنَّ أَقُولُ لَهُنَّ لَتَكُفُّنَّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ لَيُبْدِلَنَّهُ اللَّهُ بِكُنَّ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ يَا عُمَرُ أَمَا فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ حَتَّى تَعِظَهُنَّ فَكَفَفْتُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ الْآيَةَ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি আমার প্রতিপালকের সাথে তিনটি বিষয়ে (আগাম) একমত হয়েছি। প্রথমতঃ আমি বলেছিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মাকামে ইবরাহীমের অন্তর্ভুক্ত কোন জায়গাকে নামায পড়ার স্থান বানালে ভালো হতো। এর অব্যবহিত পরেই এ আয়াত নাযিল হয়ঃوَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى “মাকামে ইবরাহীমের কোনএকটি স্থানকে নামাযের জায়গা হিসাবে গ্রহণ কর।” (আল-বাকারাঃ ১২৫) দ্বিতীয়তঃ আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার স্ত্রীদের নিকট সৎ অসৎ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকেরা যাওয়া আসা করে। কাজেই তাদেরকে যদি পর্দায় থাকার আদেশ দিতেন ভালো হতো। এর অব্যবহিত পর পর্দার আয়াত নাযিল হলো।
হাদীস নং ১৫২ দ্রষ্টব্য। [মুসনাদে আহমাদ (উর্দু-বাংলা) : ১৫২]
অতিরিক্ত অংশ হলঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে) উম্মুল মুমিনদের (অভিমানের) বিষয়টা আমার কানে পৌছলে আমি রাসূলের স্ত্রীদের বললাম, তোমরা যদি রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অভিমান বন্ধ না কর, তবে আল্লাহ তাকে তোমাদের চেয়ে ভালো মুসলিম স্ত্রী দান করবেন। অতঃপর আমি উম্মুল মুমিনীনদের একজনের নিকট এলে তিনি আমাকে বললেন, হে উমার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কি তার স্ত্রীদেরকে দেয়ার মত উপদেশ নেই যে, আপনি উপদেশ দিতে এসেছেন? এ কথা শুনে আমি চুপ করলাম। এরপর মহান আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করলেনঃعَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُّؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ “রাসূল যদি তোমাদেরকে তালাক দেন, তবে তার প্রতিপালক হয়তো তাকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়েও উত্তম, মুসলিম, মুমিন, অনুগত স্ত্রী দেবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ أَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَهُ عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْعَقِيقِ يَقُولُ أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ رَبِّي فَقَالَ صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقُلْ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ قَالَ الْوَلِيدُ يَعْنِي ذَا الْحُلَيْفَةِ
ওয়ালীদ বিন মুসলিম থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আকীকে (স্থানের নাম) অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার প্রভুর নিকট থেকে জনৈক আগন্তুক গত রাতে আমার নিকট এসে বললেন, এই কল্যাণময় ময়দানে নামায পড়ুন এবং বলুন, হজ্জের অন্তর্ভুক্ত একটি উমরা আদায় করছি। বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেছেন, কল্যাণময় ময়দান দ্বারা যুল হুলাইফাকে বুঝানো হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৬]
[বুখারী, ইবনু খুযাইমা]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ سَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন এবং সুফিয়ান বলেছেনঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ রৌপ্যের সাথে স্বর্ণের বিনিময় সুদে পরিণত হবে যদি উভয়পক্ষ থেকে নগদ লেনদেন না হয়, গমের সাথে গমের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়, যবের সাথে যবের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। খোরমার সাথে খোরমার বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ سَمِعَ أَبَا عُبَيْدٍ قَالَ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ أَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَفِطْرُكُمْ مِنْ صَوْمِكُمْ وَأَمَّا يَوْمُ الْأَضْحَى فَكُلُوا مِنْ لَحْمِ نُسُكِكُمْ
আবু উবাইদ থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে ঈদের নামায পড়েছি। তিনি খুৎবার আগে নামায পড়লেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন তোমাদের পানাহারই তোমাদের রোযার শামিল। আর ঈদুল আযহার দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর মাংসের একাংশ খাও। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৮]
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ زَعَمَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَام فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খৃষ্টানরা যেমন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করতো, তেমনি তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيَرْقُدُ الرَّجُلُ إِذَا أَجْنَبَ قَالَ نَعَمْ إِذَا تَوَضَّأَ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন ব্যক্তি (বীর্যপাতের কারণে) অপবিত্র হলে (পবিত্র না হয়ে) সে কি ঘুমাতে পারবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, যদি ওযূ করে তবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ حَمَلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَرَآهَا أَوْ بَعْضَ نِتَاجِهَا يُبَاعُ فَأَرَادَ شِرَاءَهُ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ فَقَالَ اتْرُكْهَا تُوَافِكَ أَوْ تَلْقَهَا جَمِيعًا وَقَالَ مَرَّتَيْنِ فَنَهَاهُ وَقَالَ لَا تَشْتَرِهِ وَلَا تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ
যায়িদ ইবনে আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার একটা ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেন। পরে একদা দেখলেন সেই ঘোড়া বা তার কোন বাচ্চাকে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা দেখে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তা কিনবার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা ছেড়ে দাও। ওটা তোমার নিকট আসবে অথবা তুমি বাচ্চাসহই তা পাবে।
অন্য বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তুমি এটা ক্রয় করো না এবং তোমার দান করা জিনিস ফেরত নিও না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬১]
[বুখারী, মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّ مُتَابَعَةً بَيْنَهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ
আমের বিন রাবীয়া উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমের বিন রাবীয়া উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌছান, আর একবার সুফিয়ান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা হজ্জ ও উমরা পরপর করো। এ দুটো পরপর সম্পন্ন করলে, তা দারিদ্র্যতা ও গুনাহকে সেই ভাবে দূরীভূত করে, যেভাবে কামারের হাপর ময়লা দূরীভূত করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৬২]
[ইবনু মাজাহ, হাদিসটি সহিহ লিগায়রিহী। তবে আসেম বিন উবায়দুল্লাহ এর কারণে এই সানাটি দুর্বল।]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমল কেবল নিয়াত অনুসারেই গৃহীত হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন নিয়াত করে তেমনই কর্মফল পায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে হিজরত করে, তার হিজরত যে উদ্দেশ্যে হিজরত করেছে, সে উদ্দেশ্যেই হয়েছে বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি কোন দুনিয়াবী স্বার্থ অর্জন অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই হবে- যার জন্য সে হিজরত করেছে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৩]
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ الصُّبَيُّ بْنُ مَعْبَدٍ كُنْتُ رَجُلًا نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمْتُ فَأَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَسَمِعَنِي زَيْدُ بْنُ صُوحَانَ وَسَلْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ وَأَنَا أُهِلُّ بِهِمَا فَقَالَا لَهَذَا أَضَلُّ مِنْ بَعِيرِ أَهْلِهِ فَكَأَنَّمَا حُمِلَ عَلَيَّ بِكَلِمَتِهِمَا جَبَلٌ فَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَخْبَرْتُهُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمَا فَلَامَهُمَا وَأَقْبَلَ عَلَيَّ فَقَالَ هُدِيتَ لِسُنَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَبْدَةُ قَالَ أَبُو وَائِلٍ كَثِيرًا مَا ذَهَبْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ إِلَى الصُّبَيِّ نَسْأَلُهُ عَنْهُ
সুবাই বিন্ মা’বাদ থেকে বর্ণিতঃ
আমি একজন খৃষ্টান ছিলাম। পরে ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর হজ্জ ও উমরা দিয়ে ইসলামী জীবন শুরু করলাম। যায়িদ বিন সূহান ও সালমান বিন রবীয়া শুনলো যে, আমি হজ্জ ও উমরা দিয়ে ইসলামী জীবন শুরু করেছি। তারা দু’জনে বললোঃ ঐ ব্যক্তি তার পরিবারের উটের চেয়েও বিপথগামী। তাদের দু’জনের এ উক্তি শুনে আমার মনে হলো যেন আমার ওপরে পাহাড় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গেলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের দু’জনের দিকে মুখ করলেন এবং তাদের উভয়কে ভর্ৎসনা করলেন। তারপর আমার দিকে মুখ ফেরালেন এবং বললেনঃ তুমি নবীর সুন্নাতের অনুগামী হয়েছ। তুমি তোমার নবীর সুন্নাতের অনুগামী হয়েছ।
আবদা (অপর এক রাবী) বলেন, আবু ওয়াইল (আরেক বর্ণনাকারী) বলেছেনঃ আমি এবং মাসরূক এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য সুবাই-এর নিকট বহুবার গিয়েছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ذُكِرَ لِعُمَرَ أَنَّ سَمُرَةَ وَقَالَ مَرَّةً بَلَغَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ سَمُرَةَ بَاعَ خَمْرًا قَالَ قَاتَلَ اللَّهُ سَمُرَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ الشُّحُومُ فَجَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا
ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট উল্লেখ করা হলো (কখনো তিনি বলেন, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জানানো হলো) যে, সামুরা মদ বিক্রি করেছে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহ সামুরাকে ধ্বংস করুন! (তিরস্কারসূচক বাক্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করুন! তাদের ওপর পশুর চর্বি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তথাপি তারা তা জমা করে এবং বিক্রি করে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৫]
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو وَمَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا لَمْ يُوجِفْ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالِصَةً وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَةٍ وَقَالَ مَرَّةً قُوتَ سَنَةٍ وَمَا بَقِيَ جَعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বনু নযীরের ভূ-সম্পত্তি ছিল সেই সকল সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তার রাসূলকে গণিমত হিসাবে দিয়েছিলেন এবং যার জন্য মুসলিমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করেনি। সেই সম্পত্তি একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট ছিল এবং তা থেকে তিনি তাঁর পরিবারের পুরো বছরের ব্যয় নির্বাহ করতেন, (কোন কোন সময় বলেছেন, পুরো বছরের খাদ্য দিতেন।) আর যা বাকী থাকতো তা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য অস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৬]
[বুখারী, মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ نَشَدْتُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي تَقُومُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِهِ أَعَلِمْتُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّا لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ
মালিক বিন আওস থেকে বর্ণিতঃ
আমি শুনলাম উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবদুর রহমান বিন আওফ, তালহা, যুবাইর ও সাদকে বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি- যার ক্ষমতার বলে আকাশ ও পৃথিবী স্থিতিশীল। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়না। আমরা যা রেখে যাই, তা সাদাকা? সকলে বললো, হে আল্লাহ, হ্যাঁ। [মুসনাদে আহমাদ : ১৬৭]
[বুখারী, মুসলিম]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস