(২) হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৭৮-৩৭৫), সর্বমোট হাদিসঃ ২৯৮টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ২৬৮টি]



108 OK

(১০৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ صَدَقَةً


মার ইবনুল খাত্তাব ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া ও দাসদাসী থেকে সাদাকা (যাকাত) আদায় করেন নি। [মুসনাদে আহমাদ : ১০৮]


[বুখারী, মুসলিম, দেখুন, হাদীস নং ২৪১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



109 OK

(১০৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُوقَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَطَبَ النَّاسَ بِالْجَابِيَةِ فَقَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ مَقَامِي فِيكُمْ فَقَالَ اسْتَوْصُوا بِأَصْحَابِي خَيْرًا ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَفْشُو الْكَذِبُ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَبْتَدِئُ بِالشَّهَادَةِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا فَمَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ بَحْبَحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمْ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنْ الِاثْنَيْنِ أَبْعَدُ لَا يَخْلُوَنَّ أَحَدُكُمْ بِامْرَأَةٍ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ ثَالِثُهُمَا وَمَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سَيِّئَتُهُ فَهُوَ مُؤْمِنٌ


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জাবিয়াতে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই জায়গায় আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের জন্য সব সময় শুভ কামনা কর, তারপর তাদের পরবর্তীদের জন্য, তারপর তাদের পরবর্তীদের জন্য। এরপর মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে, এমনকি এমনও ঘটবে যে, কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করার আগেই সে সাক্ষ্য দিতে শুরু করবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের মাঝখানে থাকতে ইচ্ছুক, সে যেন অবশ্যই জামাতবদ্ধ জীবন যাপন করে। কেননা শয়তান একাকী মানুষের সঙ্গী এবং দু’জন থেকে সে অপেক্ষাকৃত দূরে থাকে। তোমাদের কেউ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনে সাক্ষাত না করে। কেননা সে সময় শয়তান হয় তৃতীয় জন। আর নিজের সৎকাজ যাকে আনন্দ দেয় এবং নিজের মন্দ কাজ যাকে দুঃখ দেয়, সেই প্রকৃত মুমিন। [মুসনাদে আহমাদ : ১০৯]


[তিরমিযী]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



110 OK

(১১০)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ حَكِيمِ بْنِ عُمَيْرٍ وَضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ قَالَا قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى هَدْيِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَدْيِ عَمْرِو بْنِ الْأَسْوَدِ


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরবানীর পশু কেমন ছিল দেখতে চায়, সে যেন আমর ইবনুল আসওয়াদের কুরবানীর পশু দেখে নেয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১১০]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



111 OK

(১১১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَكْبٍ فَقَالَ رَجُلٌ لَا وَأَبِي فَقَالَ رَجُلٌ لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটা কাফিলায় ছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি বলে উঠলো, “না, আমার বাবার কসম” তৎক্ষণাত অপর এক ব্যক্তি বললো, তোমাদের বাপদাদার নামে কসম খাবে না। শেষোক্ত ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে দেখি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। [মুসনাদে আহমাদ : ১১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



112 OK

(১১২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ وَأَبُو الْيَمَانِ قَالَا أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنْ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ قَالَ أَبُو الْيَمَانِ لَأَقْتُلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন, তারপরে আবু বাকর (খালিফা হিসাবে) ছিলেন এবং আরবদের মধ্য থেকে কিছু লোক কাফির হয়ে গেল, (তখন আবু বাকর তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেন)। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আবু বাকর, আপনি কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতক্ষণ “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” এ কথা না বলবে, ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি বলবে, “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” সে আমার কাছ থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ রক্ষা করবে, যথাযথ কারণ ছাড়া তা নষ্ট করা যাবে না। তার হিসাব আল্লাহর নিকট সমর্পিত।

আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করবো, (আবুল ইয়ামান বলেন, আবু বাকর বলেছিলেন, ... তাকে আমি হত্যা করবো) কেননা যাকাত হচ্ছে সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যে পাঠী ছাগল তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিত, তাও যদি দিতে অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে, আবু বাকরের বুক আল্লাহ যুদ্ধের জন্য খুলে দিয়েছেন। ফলে আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে, তার সিদ্ধান্তই সঠিক। [মুসনাদে আহমাদ : ১১২]


[ বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



113 OK

(১১৩)

হাদিস দেখুন [৩১:১০৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا أَبَانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِى الْعَالِيَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ مِنْهُمْ عُمَرُ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ


ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

অত্যন্ত সন্তোষভাজন কতিপয় ব্যক্তি, যাদের মধ্যে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু অন্যতম এবং আমার নিকট উমারই সর্বাপেক্ষা সন্তোষভাজন ব্যক্তি, আমার নিকট সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নেই এবং ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোন নামায নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ১১৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



114 OK

(১১৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي سَبَإٍ عُتْبَةَ بْنِ تَمِيمٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَامِرٍ الْيَزَنِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُغِيثٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ صَاحِبَ الدَّابَّةِ أَحَقُّ بِصَدْرِهَا


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মে রায় দিয়েছেন যে, জন্তুর মালিক তার বুকের বেশি হকদার। (অর্থাৎ জন্তুর সম্মুখভাগে আরোহণ করার)। [মুসনাদে আহমাদ : ১১৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



115 OK

(১১৫)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ حُمْرَةَ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ قَالَ سَارَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى الشَّامِ بَعْدَ مَسِيرِهِ الْأَوَّلِ كَانَ إِلَيْهَا حَتَّى إِذَا شَارَفَهَا بَلَغَهُ وَمَنْ مَعَهُ أَنَّ الطَّاعُونَ فَاشٍ فِيهَا فَقَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ ارْجِعْ وَلَا تَقَحَّمْ عَلَيْهِ فَلَوْ نَزَلْتَهَا وَهُوَ بِهَا لَمْ نَرَ لَكَ الشُّخُوصَ عَنْهَا فَانْصَرَفَ رَاجِعًا إِلَى الْمَدِينَةِ فَعَرَّسَ مِنْ لَيْلَتِهِ تِلْكَ وَأَنَا أَقْرَبُ الْقَوْمِ مِنْهُ فَلَمَّا انْبَعَثَ انْبَعَثْتُ مَعَهُ فِي أَثَرِهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ رَدُّونِي عَنْ الشَّامِ بَعْدَ أَنْ شَارَفْتُ عَلَيْهِ لِأَنَّ الطَّاعُونَ فِيهِ أَلَا وَمَا مُنْصَرَفِي عَنْهُ مُؤَخِّرٌ فِي أَجَلِي وَمَا كَانَ قُدُومِيهِ مُعَجِّلِي عَنْ أَجَلِي أَلَا وَلَوْ قَدْ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَفَرَغْتُ مِنْ حَاجَاتٍ لَا بُدَّ لِي مِنْهَا لَقَدْ سِرْتُ حَتَّى أَدْخُلَ الشَّامَ ثُمَّ أَنْزِلَ حِمْصَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيَبْعَثَنَّ اللَّهُ مِنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابَ عَلَيْهِمْ مَبْعَثُهُمْ فِيمَا بَيْنَ الزَّيْتُونِ وَحَائِطِهَا فِي الْبَرْثِ الْأَحْمَرِ مِنْهَا


হুমরা ইবনে আবদ কুলাল থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথমবার সিরিয়া ভ্রমণের পর পুনরায় সিরিয়া সফরে রওনা হন। যখন সিরিয়ার কাছাকাছি পৌছেন, তখন তার ও তার সঙ্গীদের নিকট সংবাদ আসে যে, দেশটিতে প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তখন তার সাথীরা তাকে বললোঃ ফিরে চলুন, ঝুঁকি নিয়ে ওখানে যাওয়ার দরকার নেই। কেননা আপনি যদি সিরিয়ায় পৌছে যান এবং সেখানে প্লেগ সত্যিই থেকে থাকে, তাহলে আমাদের মনে হয়না আপনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই তিনি মদীনায় ফিরে চললেন। সেই রাতেই তিনি বাসর ঘরে ঘুমালেন। তখন আমিই ছিলাম তার সবচেয়ে নিকটবর্তী। তারপর যখন তিনি সেখান থেকে যাত্রা করলেন, তখন আমিও তার পেছনে পেছনে যাত্রা করলাম। তখন আমি শুনলাম, তিনি বলছেনঃ (সাথীরা) আমাকে সিরিয়া থেকে ফিরিয়ে দিল। অথচ আমি তার কাছেই পৌছে গিয়েছিলাম। ওখানে প্লেগ দেখা দিয়েছে বলে আমাকে ফিরিয়ে দিল।

জেনে রাখ, আমার ফিরে আসায় আমার মৃত্যু বিলম্বিত হবে না। আর সেখানে যাওয়াতে আমার মৃত্যু ত্বরান্বিতও হতো না। জেনে রাখ, আমি যদি মদীনায় পৌছে যাই এবং সেখানে আমার কিছু জরুরী প্রয়োজন সেরে আসতে পারি তাহলে আমি রওনা হয়ে সিরিয়ায় চলে যাব, অতঃপর হিমসে উপনীত হব। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন সিরিয়া থেকে এমন সত্তর হাজার ব্যক্তিকে উথিত করবেন, যাদের কোন হিসাব দিতে হবে না, আযাবও হবে না। তারা উথিত হবে যাইতুন ও তার মধ্যকার বারাচুল আহমারের প্রাচীরের মধ্যস্থল থেকে। (আল হাকেম) [মুসনাদে আহমাদ : ১১৫]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



116 OK

(১১৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَقِيلٍ عَنِ ابْنِ عَمِّهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا يُحَدِّثُ أَصْحَابَهُ فَقَالَ مَنْ قَامَ إِذَا اسْتَقَلَّتْ الشَّمْسُ فَتَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ غُفِرَ لَهُ خَطَايَاهُ فَكَانَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي أَنْ أَسْمَعَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَكَانَ تُجَاهِي جَالِسًا أَتَعْجَبُ مِنْ هَذَا فَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْجَبَ مِنْ هَذَا قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَ فَقُلْتُ وَمَا ذَاكَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَقَالَ عُمَرُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ رَفَعَ نَظَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ


উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুক অভিযানে গিয়েছিলেন। ঐ সময়ে একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের সাথে বসে আলোচনা করছিলেন। তিনি বললেনঃ সূর্যোদয়ের পর যে ব্যক্তি ভালোভাবে ওযূ করে দু’রাকআত নামায পড়বে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ফলে সে সদ্যপ্রসূত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে। উকবা ইবনে আমের বলেনঃ আমি বললাম, মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এ কথা শুনবার সুযোগ দিলেন। এ বৈঠকে উমার ইবনুল খাত্তাব আমার পার্শ্বে বসেছিলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি এ কথা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছ? তুমি আসার আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়েও বিস্ময়কর কথা বলেছেন।

আমি বললাম, আমার পিতা মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক। সে কথাটা কী? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খুব ভালো করে ওযূ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

(আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তার কোন শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।)

তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে, যে দরজা দিয়ে সে চাইবে ঢুকতে পারবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১১৬]


[আবু দাউদ]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



117 OK

(১১৭)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ يَعْنِي أَبَا دَاوُدَ الطَّيَالِسِيَّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ دَاوُدَ الْأَوْدِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُسْلِيِّ عَنِ الْأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ ضِفْتُ عُمَرَ فَتَنَاوَلَ امْرَأَتَهُ فَضَرَبَهَا وَقَالَ يَا أَشْعَثُ احْفَظْ عَنِّي ثَلَاثًا حَفِظْتُهُنَّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسْأَلْ الرَّجُلَ فِيمَ ضَرَبَ امْرَأَتَهُ وَلَا تَنَمْ إِلَّا عَلَى وَتْرٍ وَنَسِيتُ الثَّالِثَةَ


আশয়াস বিন কায়স থেকে বর্ণিতঃ

আমি একবার উমারের অতিথি হয়েছিলাম। সেই সময়ে উমার তার স্ত্রীকে প্রহার করলেন। তারপর বললেন, হে আশয়াস, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনটে কথা মুখস্থ করেছি, তুমিও আমার কাছ থেকে সেই তিনটে কথা মুখস্থ করে নাও, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে প্রহার করলে তা নিয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না, তীর ধনুক প্রস্তুত রাখা ব্যতীত ঘুমিওনা, আর তৃতীয় কথাটা আমি ভুলে গেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১১৭]


[আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



118 OK

(১১৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي الرِّشْكَ عَنْ مُعَاذَةَ عَنْ أُمِّ عَمْرٍو ابْنَةِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهَا سَمِعَتْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ سَمِعَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ إِنَّهُ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ يَلْبَسْ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا فَلَا يُكْسَاهُ فِي الْآخِرَةِ


আবদুল্লাহ ইবনু্য যুবাইর থেকে বর্ণিতঃ

আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে রেশম পরিধান করবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ১১৮]


[বুখারী, মুসলিম]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



119 OK

(১১৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيَسِيرَنَّ الرَّاكِبُ فِي جَنَبَاتِ الْمَدِينَةِ ثُمَّ لَيَقُولُ لَقَدْ كَانَ فِي هَذَا حَاضِرٌ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ كَثِيرٌ قَالَ أَبِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَلَمْ يَجُزْ بِهِ حَسَنٌ الْأَشْيَبُ جَابِرًا


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, মদীনার অভ্যন্তরে ভ্রমণ করার সময় কোন কোন পর্যটক বলবে, এখানে এক সময় বহু মু’মিন বাস করতো। [মুসনাদে আহমাদ : ১১৯]


[হাদিসটি হাসান কিন্তু এই সানাদে দুর্বল।]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



120 OK

(১২০)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا هَارُونُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ السَّائِبِ حَدَّثَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ أَبِي الْقَاسِمِ السَّبَئِيَّ حَدَّثَهُ عَنْ قَاصِّ الْأَجْنَادِ بِالْقُسْطَنْطِينِيَّةِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَقْعُدَنَّ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا بِالْخَمْرِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَدْخُلْ الْحَمَّامَ إِلَّا بِإِزَارٍ وَمَنْ كَانَتْ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا تَدْخُلْ الْحَمَّامَ


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

“হে জনতা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে সে যেন এমন খাবারের টেবিলে না বসে, যেখানে মদ পরিবেশন করা হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন পাজামা পরিহিত অবস্থায় ব্যতীত গোসল খানায় প্রবেশ না করে। আর যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে সে যেন গোসল খানায় প্রবেশ না করে। (উল্লেখ্য যে, এখানে তৎকালীন গণগোসল খানাকে বুঝানো হয়েছে, যা শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।) [মুসনাদে আহমাদ : ১২০]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



121 OK

(১২১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ الْخُزَاعِيُّ أَنْبَأَنَا لَيْثٌ وَيُونُسُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ الْهَادِ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي الْوَلِيدِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ سُرَاقَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَظَلَّ رَأْسَ غَازٍ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ جَهَّزَ غَازِيًا حَتَّى يَسْتَقِلَّ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ حَتَّى يَمُوتَ قَالَ قَالَ يُونُسُ أَوْ يَرْجِعَ وَمَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا يُذْكَرُ فِيهِ اسْمُ اللَّهِ تَعَالَى بَنَى اللَّهُ لَهُ بِهِ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন জিহাদরত ব্যক্তির মাথায় ছায়া দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ছায়া দেবেন, আর যে ব্যক্তি কোন জিহাদকারীকে জিহাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরঞ্জামাদি বা রসদ সরবরাহ করবে, সে মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত ঐ জিহাদকারীর সমান সাওয়াব পেতে থাকবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন মসজিদ নির্মাণ করবে, যার ভেতর আল্লাহর নাম আলোচনা হবে, তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১২১]


[ইবনু হিব্বান, আল হাকেম, ইবনু মাজাহ]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



122 OK

(১২২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِسْمَةً فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَغَيْرُ هَؤُلَاءِ أَحَقُّ مِنْهُمْ أَهْلُ الصُّفَّةِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ تُخَيِّرُونِي بَيْنَ أَنْ تَسْأَلُونِي بِالْفُحْشِ وَبَيْنَ أَنْ تُبَخِّلُونِي وَلَسْتُ بِبَاخِلٍ


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহায্য বিতরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এদের চেয়ে অন্যদের অগ্রাধিকার রয়েছে, যেমন আহলে সুফফার। (মসজিদে নববীতে আশ্রিত ও সার্বক্ষণিক অবস্থানরত দরিদ্র সাহাবীগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মুক্ত হস্তে দান করা ও কার্পণ্য করা এই দুয়ের একটি অবলম্বন করতে বলছ। আমি কার্পণ্য করতে প্রস্তুত নই। [মুসনাদে আহমাদ : ১২২]


[মুসলিম]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



123 OK

(১২৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ الْحَدَثِ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, অপবিত্র হবার পর ওযূ করেছেন এবং উভয় পায়ের মোজার ওপর মাসেহ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১২৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



124 OK

(১২৪)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَانَ مُسْتَنِدًا إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَعِنْدَهُ ابْنُ عُمَرَ وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقَالَ اعْلَمُوا أَنِّي لَمْ أَقُلْ فِي الْكَلَالَةِ شَيْئًا وَلَمْ أَسْتَخْلِفْ مِنْ بَعْدِي أَحَدًا وَأَنَّهُ مَنْ أَدْرَكَ وَفَاتِي مِنْ سَبْيِ الْعَرَبِ فَهُوَ حُرٌّ مِنْ مَالِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَشَرْتَ بِرَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ لَأْتَمَنَكَ النَّاسُ وَقَدْ فَعَلَ ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأْتَمَنَهُ النَّاسُ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَدْ رَأَيْتُ مِنْ أَصْحَابِي حِرْصًا سَيِّئًا وَإِنِّي جَاعِلٌ هَذَا الْأَمْرَ إِلَى هَؤُلَاءِ النَّفَرِ السِّتَّةِ الَّذِينَ مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَنْهُمْ رَاضٍ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَوْ أَدْرَكَنِي أَحَدُ رَجُلَيْنِ ثُمَّ جَعَلْتُ هَذَا الْأَمْرَ إِلَيْهِ لَوَثِقْتُ بِهِ سَالِمٌ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ


আবু রাফে থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবনুল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ওপর আস্থাশীল ছিলেন। তার কাছে ইবনে উমার ও সাঈদ বিন যায়িদও ছিলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমরা জেনে রাখ, আমি কালালা (নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী) সম্পর্কে কিছু বলি নি, আর আমি আমার পরে কাউকে উত্তরসূরী মনোনীতও করিনি। আরবের যে সকল বন্দী আমার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকবে, তারা আল্লাহর সম্পদ থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে। (অর্থাৎ কোন মুক্তিপণ না দিয়েই তারা মুক্ত হবে।) সাঈদ বিন যায়িদ বললেনঃ দেখুন, আপনি যদি মুসলিমদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করেন, (অর্থাৎ উত্তরসূরী হিসাবে মনোনীত করেন) তবে জনগণ আপনার ওপর আস্থা স্থাপন করবে, (অর্থাৎ আপনার মনোনয়ন মেনে নেবে) আবু বাকরও এরূপ করেছিলেন এবং জনগণ তার ওপর আস্থা স্থাপন করেছিল।

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি আমার সাথীদের মধ্যে খারাপ ধরনের লোক দেখেছি। আমি এই দায়িত্ব (খালীফা মনোনয়ন) সেই ছয় ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করবো, যাদের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায়ই ইন্তিকাল করেছেন। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু পুনরায় বললেনঃ আমি বেঁচে থাকতে যদি আবু হুযাইফার সাবেক দাস সালেম এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ এই দু’জনের একজনকেও পাই, তবে আমি আস্থার সাথে তার কাছে এই দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবো। [মুসনাদে আহমাদ : ১২৪]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



125 OK

(১২৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৯৭] view_link


যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا سَكَنُ بْنُ نَافِعٍ الْبَاهِلِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا صَالِحٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ دَرَّاجٍ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَبَّحَ بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ فَرَآهُ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَتَغَيَّظَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْهَا


রবীয়া ইবনে দাররাজ থেকে বর্ণিতঃ

আলী ইবনে আবি তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কা যাওয়ার পথে আছরের পর দু’রাকআত নামায পড়লেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এটা দেখে তার ওপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি জানি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা নিষিদ্ধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১২৫]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



126 OK
View Quran

(১২৬)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَكَبَّ عَلَى الرُّكْنِ فَقَالَ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ وَلَوْ لَمْ أَرَ حَبِيبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبَّلَكَ وَاسْتَلَمَكَ مَا اسْتَلَمْتُكَ وَلَا قَبَّلْتُكَ وَ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ


হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত ওমর ফারুক (রা.) হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার জন্য নিচু হয়ে বললেন, আমি জানি, তুমি একটা পাথর মাত্র। আমি যদি আমার প্রিয় বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না দেখতাম তোমাকে ধরেছেন ও চুমো খেয়েছেন, তাহলে তোমাকে ধরতামও না, চুমোও খেতাম না। আল্লাহ বলেন,

وَ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

“আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১২৬]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



127 OK

(১২৭)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ أَنْبَأَنَا عَمَّارُ بْنُ أَبِي عَمَّارٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي يَدِ رَجُلٍ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ أَلْقِ ذَا فَأَلْقَاهُ فَتَخَتَّمَ بِخَاتَمٍ مِنْ حَدِيدٍ فَقَالَ ذَا شَرٌّ مِنْهُ فَتَخَتَّمَ بِخَاتَمٍ مِنْ فِضَّةٍ فَسَكَتَ عَنْهُ


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তাকে বললেন, “এটা ফেলে দাও।” সে ফেলে দিলো। এরপর সে একটা লোহার আংটি পরলো। সেটি দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা তো আরো খারাপ। এটা জাহান্নামীদের অলংকার।” এরপর সে একটা রূপার আংটি পরলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি সম্পর্কে কিছু বললেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ১২৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



128 OK

(১২৮)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ وَحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ الْأَنْصَارُ مِنَّا أَمِيرٌ وَمِنْكُمْ أَمِيرٌ فَأَتَاهُمْ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ يَؤُمَّ النَّاسَ فَأَيُّكُمْ تَطِيبُ نَفْسُهُ أَنْ يَتَقَدَّمَ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَتْ الْأَنْصَارُ نَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ نَتَقَدَّمَ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ


আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন, আনসারগণ বললেন, “আমাদের মধ্যে হতে একজন আমীর আর তোমাদের (মুহাজিরদের) মধ্যে হতে একজন আমীর হোক।” এই সময় তাদের কাছে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। তিনি বললেন, “হে আনসারগণ, তোমরা কি জানোনা যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বাকরকে নামাজে ইমামতি করতে আদেশ দিয়েছিলেন? তাহলে তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে ব্যক্তি আবু বাকরের আগে যেতে রাজি? (অর্থাৎ আবু বাকর থাকতে ইমাম হতে রাজি)।” আনসারগণ বললো, “আমরা আবু বাকরের আগে যাওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১২৮]


[আল হাকেম]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



129 OK

(১২৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ فَتَرَكَ مَوْضِعَ ظُفُرٍ عَلَى ظَهْرِ قَدَمِهِ فَأَبْصَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ فَرَجَعَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, নামায পড়ার জন্য ওযূ করলো, কিন্তু পায়ের পিঠে এক নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো রেখে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, ফিরে যাও, ভালো করে ওযূ করে এস। লোকটি ফিরে গেল, ওযূ করলো ও নামায পড়লো। [মুসনাদে আহমাদ : ১২৯]


[মুসলিম]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



130 OK

(১৩০)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ رَافِعٍ الطَّاطَرِيُّ بَصْرِيٌّ حَدَّثَنِي أَبُو يَحْيَى رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ عَنْ فَرُّوخَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَرَأَى طَعَامًا مَنْثُورًا فَقَالَ مَا هَذَا الطَّعَامُ فَقَالُوا طَعَامٌ جُلِبَ إِلَيْنَا قَالَ بَارَكَ اللَّهُ فِيهِ وَفِيمَنْ جَلَبَهُ قِيلَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنَّهُ قَدْ احْتُكِرَ قَالَ وَمَنْ احْتَكَرَهُ قَالُوا فَرُّوخُ مَوْلَى عُثْمَانَ وَفُلَانٌ مَوْلَى عُمَرَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَدَعَاهُمَا فَقَالَ مَا حَمَلَكُمَا عَلَى احْتِكَارِ طَعَامِ الْمُسْلِمِينَ قَالَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ نَشْتَرِي بِأَمْوَالِنَا وَنَبِيعُ فَقَالَ عُمَرُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ احْتَكَرَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ طَعَامَهُمْ ضَرَبَهُ اللَّهُ بِالْإِفْلَاسِ أَوْ بِجُذَامٍ فَقَالَ فَرُّوخُ عِنْدَ ذَلِكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أُعَاهِدُ اللَّهَ وَأُعَاهِدُكَ أَنْ لَا أَعُودَ فِي طَعَامٍ أَبَدًا وَأَمَّا مَوْلَى عُمَرَ فَقَالَ إِنَّمَا نَشْتَرِي بِأَمْوَالِنَا وَنَبِيعُ قَالَ أَبُو يَحْيَى فَلَقَدْ رَأَيْتُ مَوْلَى عُمَرَ مَجْذُومًا


আবু ইয়াহইয়া নামক জনৈক মক্কাবাসী উসমানের সাবেক দাস ফররুখ থেকে বর্ণিতঃ

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন আমীরুল মু’মিনীন, তখন একদিন মসজিদে গেলেন, দেখলেন, খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলেন, এ খাবার কিসের? লোকেরা বললো, এ খাবার আমাদের জন্য আনা হয়েছে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ খাবারে এবং যে ব্যক্তি এ খাবার এনেছে- তার ওপর আল্লাহ বরকত নাযিল করুন। কেই কেউ বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন, এ খাবার তো গোলাজাত করা হয়েছে। তিনি বললেন, কে গোলাজাত করেছে? লোকেরা বললো, উসমানের সাবেক দাস ফররুখ এবং উমারের সাবেক দাস অমুক। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তৎক্ষণাত লোক পাঠিয়ে তাদের উভয়কে ডেকে আনলেন।

তারপর বললেন, মুসলিমদের খাদ্য গোলাজাত করতে তোমাদেরকে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো? তারা উভয়ে বললোঃ হে আমীরুল মু’মিনীন, আমরা আমাদের অর্থ দিয়ে ক্রয় বিক্রয় করে থাকি। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মুসলিমদের খাদ্যদ্রব্য গোলাজাত করবে, আল্লাহ তাকে দারিদ্র্য অথবা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করবেন। তখন ফররুখ বললেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন, আমি আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করছি এবং আপনার নিকট অঙ্গীকার করছি যে, কোন খাদ্যদ্রব্য আর কখনো গোলাজাত করবো না। কিন্তু উমারের সাবেক দাস বললোঃ আমরা তো আমাদের অর্থ দিয়েই ক্রয় বিক্রয় করে থাকি।

আবু ইয়াহইয়া বলেনঃ আমি উমারের এই সাবেক দাসকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩০]


[ইবনু মাজাহ]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



131 OK

(১৩১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالًا فَقُلْتُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلَا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ حَدَّثَنَا هَارُونُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ


আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহর রাসূল আমাকে বিভিন্ন দানের জিনিস দিতেন। আমি বলতাম, যে ব্যক্তি এর প্রতি আমার চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী, তাকে দিন। একবার তিনি আমাকে কিছু জিনিস দিলেন। আমি বললাম, যে ব্যক্তি আমার চেয়েও এ জিনিসের মুখাপেক্ষী, তাকে দিন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এটি নিয়ে নাও, একে বিনিয়োগ করো, অতঃপর তা থেকে সাদাকা করো। তোমার চাওয়া বা আগ্রহ প্রকাশ করা ব্যতিরেকে তোমাকে এই মাল (সরকারী সাহায্য সামগ্রী) থেকে যা কিছু দেয়া হয়, তা নিয়ে নিও। আর যা দেয়া হয় না, তার জন্যে লালায়িত হয়ো না’।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৩১]


[বুখারী, মুসলিম]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



132 OK

(১৩২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا لَيْثٌ حَدَّثَنِي بُكَيْرٌ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ هَشَشْتُ يَوْمًا فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ صَنَعْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ لَوْ تَمَضْمَضْتَ بِمَاءٍ وَأَنْتَ صَائِمٌ قُلْتُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفِيمَ


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি একদিন খুব খোশমেজাজে ছিলাম। তাই (স্ত্রীকে) রোযা অবস্থায় চুমো খেলাম। পরক্ষণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। তাঁকে বললাম, আমি আজ একটা গুরুতর কাজ করে ফেলেছি। রোযা অবস্থায় চুমো খেয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি মনে কর, রোযা অবস্থায় তুমি যদি পানি দিয়ে কুলি করতে, তাহলে? আমি বললাম, তাতে কোন অসুবিধা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এতে অসুবিধা কোথায়? [মুসনাদে আহমাদ : ১৩২]


[ইবনে খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, আল হাকেম, আবু দাউদ, নাসায়ী]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



133 OK

(১৩৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْفُرَاتِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَوَافَيْتُهَا وَقَدْ وَقَعَ فِيهَا مَرَضٌ فَهُمْ يَمُوتُونَ مَوْتًا ذَرِيعًا فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَرَّتْ بِهِ جَنَازَةٌ فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرَّ بِأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرَّ بِالثَّالِثَةِ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَجَبَتْ فَقَالَ أَبُو الْأَسْوَدِ مَا وَجَبَتْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ قُلْتُ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ قَالَ فَقُلْنَا وَثَلَاثَةٌ قَالَ فَقَالَ وَثَلَاثَةٌ قَالَ قُلْنَا وَاثْنَانِ قَالَ وَاثْنَانِ قَالَ ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنْ الْوَاحِدِ


আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণিতঃ

আমি মদীনায় উপস্থিত হলাম এবং তার সর্বত্র ব্যাপকভাবে সফর করলাম। এর অব্যবহিত পূর্বে মদীনায় একটা রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার ফলে লোকেরা ব্যাপকভাবে মারা যাচ্ছিল। আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট বসলাম। তখন তার কাছ দিয়ে একটা লাশ নিয়ে যাওয়া হলো। উপস্থিত লোকেরা মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, অবধারিত হয়ে গেল। এরপর আর একটা লাশ গেল। উপস্থিত লোকেরা তারও প্রশংসা করলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, অবধারিত হয়ে গেল। এরপর তৃতীয় একটা লাশ গেল। উপস্থিত লোকেরা তার নিন্দা করলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, অবধারিত হয়ে গেল।

আবুল আসওয়াদ বললেন, কী অবধারিত হলো, হে আমীরুল মু’মিনীন? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণেই কথাটা বলেছি। তিনি বলেছেনঃ যে কোন মুসলিমের পক্ষে চার ব্যক্তি উত্তম বলে সাক্ষ্য দিলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, যদি তিনজন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, তিনজন দিলেও। আমরা বললাম, যদি দুইজন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দুইজন দিলেও। এরপর আমরা তাকে একজনের সাক্ষ্য দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৩]


[বুখারী]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



134 OK

(১৩৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا بُكَيْرٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُمَرَ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ وَالْفَتْحَ فِي رَمَضَانَ فَأَفْطَرْنَا فِيهِمَا


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে রমযানে (বদর) যুদ্ধে গিয়েছি, মক্কা বিজয়েও রমযানেই গিয়েছি। উভয় ক্ষেত্রে আমরা রোযা না রেখেই গিয়েছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৪]


[তিরমিযী]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



135 OK

(১৩৫)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ عَوْفٍ الْعَنَزِيُّ بَصْرِيٌّ قَالَ أَنْبَأَنَا الْغَضْبَانُ بْنُ حَنْظَلَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَنْظَلَةَ بْنَ نُعَيْمٍ وَفَدَ إِلَى عُمَرَ فَكَانَ عُمَرُ إِذَا مَرَّ بِهِ إِنْسَانٌ مِنْ الْوَفْدِ سَأَلَهُ مِمَّنْ هُوَ حَتَّى مَرَّ بِهِ أَبِي فَسَأَلَهُ مِمَّنْ أَنْتَ فَقَالَ مِنْ عَنَزَةَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حَيٌّ مِنْ هَاهُنَا مَبْغِيٌّ عَلَيْهِمْ مَنْصُورُونَ


বসরার আনাযা গোত্রীয় মুছান্না বিন আওফ থেকে বর্ণিতঃ

গাযবান বিন হানযালা আমাকে জানিয়েছেন যে, তার পিতা হানযালা বিন নুয়াইম একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গেলেন। ঐ দলের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি তার কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেই তাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, সে কোন গোত্রের লোক। যখন আমার পিতা তার কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোন গোত্রের লোক। তিনি বললেন, আনাযা গোত্রের। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ সেখানকার একটি গোত্রের ওপর আগ্রাসন চালানো হবে এবং তা সত্ত্বেও তারা বিজয়ী হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৫]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



136 OK

(১৩৬)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مَعْمَرٍ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَحَدَّثَهُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَتَيْنِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ يَوْمَ بَدْرٍ وَيَوْمَ الْفَتْحِ فَأَفْطَرْنَا فِيهِمَا


উমার ইবনুল খাত্তাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

মুয়াম্মার , যিনি একজন বিখ্যাত মুহাদ্দিস, একবার হজরত সাঈদ বিন মুসাইব ( রা. ) - এর কাছ থেকে সফরে রোজা রাখার নির্দেশ পান, তাই তিনি হজরত ওমর ফারুক ( রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে ,“আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রমযানে দুটো যুদ্ধে গিয়েছিঃ বদর ও মক্কা বিজয়। উভয়টিতেই আমরা রোযা না রেখে গিয়েছি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৬]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



137 OK

(১৩৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا دَيْلَمُ بْنُ غَزْوَانَ عَبْدِيٌّ حَدَّثَنَا مَيْمُونٌ الْكُرْدِيُّ حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي كُلُّ مُنَافِقٍ عَلِيمِ اللِّسَانِ


উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য যাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর মনে করি সে হচ্ছে ভাষাবিদ ও বাকপটু মুনাফিক। [মুসনাদে আহমাদ : ১৩৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস