(১৮৩) জ্ঞান [হাদিসের সীমা (৩৬৪১ – ৩৬৬৮), সর্বমোট হাদিসঃ ২৮টি]

অনুচ্ছেদ-১৩ [মোট হাদিসঃ ৪টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪টি]


কিসসা-কাহিনী প্রসঙ্গ




24529 OK

(৩৬৬৫)

হাসান সহিহ

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، حَدَّثَنِي عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْخَوَّاصُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ `‏ لاَ يَقُصُّ إِلاَّ أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ ‏`‏ ‏.‏


‘আওফ ইনবু মালিক আল-আশাজাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে বলতে শুনেছিঃ শাসক, তার অধীনস্ত ব্যক্তি বা কোন অহংকারী ব্যতীত আর কেউই কিস্‌সা বর্ণনা করে না। [সুনানে আবু দাউদ : ৩৬৬৫]


হাদিসের মান : হাসান সহিহ



24530 OK

(৩৬৬৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ بَشِيرٍ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَلَسْتُ فِي عِصَابَةٍ مِنْ ضُعَفَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَإِنَّ بَعْضَهُمْ لَيَسْتَتِرُ بِبَعْضٍ مِنَ الْعُرْىِ وَقَارِئٌ يَقْرَأُ عَلَيْنَا إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عَلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَكَتَ الْقَارِئُ فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ ‏`‏ مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ ‏`‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَ قَارِئٌ لَنَا يَقْرَأُ عَلَيْنَا فَكُنَّا نَسْتَمِعُ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏`‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ أُمِرْتُ أَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَهُمْ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَطَنَا لِيَعْدِلَ بِنَفْسِهِ فِينَا ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا فَتَحَلَّقُوا وَبَرَزَتْ وُجُوهُهُمْ لَهُ - قَالَ - فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَفَ مِنْهُمْ أَحَدًا غَيْرِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏`‏ أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَاءِ النَّاسِ بِنِصْفِ يَوْمٍ وَذَاكَ خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ ‏`‏ ‏.‏


আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি একদল নিঃস্ব মুহাজিরের সঙ্গে বসলাম। তাদের অবস্থা এতোই শোচনীয় ছিলো যে, (পরিধেয় বস্ত্র খুবই ছোট হওয়ায়) পরস্পর পরস্পরের সতর আড়াল করে বসছিলেন। একজন পাঠক আমাকেরকে (কুরআন) পড়ে শুনাচ্ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে দাঁড়ালে পাঠক তার পাঠ বন্ধ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম করার পর প্রশ্ন করলেনঃ তোমারা কী করছিলে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আমাদের নিকট কুরআন পড়েন আর আমরা মহান আল্লাহর কিতাব মনোযোগ দিয়ে শুনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সমস্থা প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার উম্মাতের মধ্যে এমন ধৈর্যশীল লোক রেখেছেন, যাদের সাথে আমাকেও ধৈর্য ধারণের আদেশ দিয়েছেন। আবূ সাঈদ আল-খুদরী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে এসে বসলেন এবং আমাদের জামা’আতকে পূর্ণাঙ্গ করলেন। অতঃপর তিনি উপস্থিত লোকদেরকে হাত দিয়ে ইশারা করে গোল হয়ে বসার আদেশ দিলেন। তারা গোলাকার হয়ে বসলেন এবং সবার চেহারা তাঁর দিকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমি ছাড়া তাদের মধ্যে আর কাউকে চিনতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে নিঃস্ব-দুর্বল মুহাজিরগণ! তোমাদের জন্য ক্বিয়ামাতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ। তোমরা ধনীদের চেয়ে অর্ধ দিবস আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর এই অর্ধ দিবসের পরিমাণ হলো পাঁচশো বছর। [৩৬৬৬]

দুর্বলঃ তবে জান্নাতে প্রবেশের বাক্যটি সহীহ। মিশকাত (২১৯৮)। [সুনানে আবু দাউদ : ৩৬৬৬]


[[৩৬৬৬] আহমাদ, বাগাভী ‘শারহুস সুন্নাহ’। সানাদের ‘আলা ইবনু বাশীর সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল ।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



24531 OK

(৩৬৬৭)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ السَّلاَمِ، - يَعْنِي ابْنَ مُطَهَّرٍ أَبُو ظَفَرٍ - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَلَفٍ الْعَمِّيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ `‏ لأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَعَالَى مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَلأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً ‏`‏ ‏.‏


আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি এমন একটি দলের সাথে বসবো যারা ফাজ্‌রের সলাত হতে শুরু করে সূর্য উঠা পর্যন্ত মহান আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকে। এ কাজ আমার নিকট ইসমাঈলের (আঃ)-এর বংশের দাসী আযাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আমি এমন একটি দলের সাথে বসবো যারা ‘আসরের সলাত হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকে। আমার নিকট এ কাজ চারটি দাসী আযাদ করার চেয়েও অধিক প্রিয়। [সুনানে আবু দাউদ : ৩৬৬৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



24532 OK

(৩৬৬৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏`‏ اقْرَأْ عَلَىَّ سُورَةَ النِّسَاءِ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ ‏`‏ إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي ‏`‏ ‏.‏ قَالَ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا انْتَهَيْتُ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ ‏}‏ الآيَةَ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا عَيْنَاهُ تَهْمِلاَنِ ‏.‏


‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে সূরাহ আন-নিসা পড়ে শুনাও। আমি বললাম, আমি আপনাকে পড়ে শোনাবো, অথচ তা আপনার উপরই অবতীর্ণ হয়েছে! তিনি বললেনঃ আমি অন্যকে দিয়ে তা পড়িয়ে শুনতে চাই। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি সূরাহ আন-নিসা পড়তে পড়তে (৪১ নং আয়াত) “আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য হতে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করবো এবং আপনাকে সাক্ষী হিসেবে পেশ করবো তখন কী অবস্থা হবে!” এ পর্যন্ত পৌঁছে মাথা তুলে দেখলাম, তাঁর দু’চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। [সুনানে আবু দাউদ : ৩৬৬৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস