(১৬৬) যাকাত [হাদিসের সীমা (১৫৫৬ – ১৭০০), সর্বমোট হাদিসঃ ১৪৬টি]

অনুচ্ছেদ-৫ [মোট হাদিসঃ ১৯টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১৩৫টি]


মাঠে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত




22430 OK

(১৫৬৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخَذْتُ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ كِتَابًا زَعَمَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، كَتَبَهُ لأَنَسٍ وَعَلَيْهِ خَاتَمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَعَثَهُ مُصَدِّقًا وَكَتَبَهُ لَهُ فَإِذَا فِيهِ ‏`‏ هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلاَ يُعْطِهِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ ‏.‏ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ خَمْسًا وَثَلاَثِينَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلاَثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَأَنْ يَجْعَلَ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ مِنْ هَا هُنَا لَمْ أَضْبِطْهُ عَنْ مُوسَى كَمَا أُحِبُّ ‏`‏ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِلَى هَا هُنَا ثُمَّ أَتْقَنْتُهُ ‏`‏ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ بِنْتُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَشَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَىْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلاَّ أَرْبَعٌ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ ثَلاَثَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ فَإِنْ لَمْ تَبْلُغْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ أَرْبَعِينَ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلاَّ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا ‏`‏ ‏.


হাম্মাদ (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি সুমামাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস (রাঃ) হতে একখান কিতাব গ্রহণ করি। সুমামাহর ধারণা, আবূ বাকর (রাঃ) এটি আনাস (রাঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণকালে লিখেছিলেন এবং তাতে রসূলুল্লাহর মোহরাঙ্কিত ছিলো। তাতে লিখা ছিলোঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফারয যাকাতের বিষয়ে মুসলিমদের উপর যা নির্ধারিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর রসূলকে যা আদেশ করেছেন। কাজেই যে কোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হবে সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কোরো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী দিতে হবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ (দুই বছরে(রঃ) উষ্ট্রী দিতে হবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ‘ইবনু লাবূন’ (তিন বছরের) উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি ‘বিনতু লাবূন’ (তিন বয়সের উষ্ট্রী) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে একটি ‘হিককাহ’ (চার বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি ‘জাযাআহ’ (পাঁচ বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দু’টি ‘বিনতু লাবূন’ দিতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে ‘বিনতু লাবূন’ এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে ‘হিককাহ’ দিবে।
যদি যাকাতযোগ্য বয়সের উট না থাকে, যেমন, কারো জাযাআহ্ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিককাহ আছে, তখন হিককাহ গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে সহজলভ্য হলে দু’টি বকরী কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। একইভাবে কারো উপর হিককাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করতে হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিরহাম কিংবা দু’টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিককাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং জাযাআহ আছে। তার থেকে সেটাই নিতে হবে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এখানে আমি আমার উস্তাদ মূসা ইবনু ইসমাঈল হতে আশানূরূপ আয়ত্ব করতে পারিনি। এখানেও যাকাতদাতা সহজলভ্য দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যার উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব কিন্তু সেটা তার কাছে নেই, বরং তার কাছে হিককাহ আছে। সেটাই তার কাছ থেকে নিতে হবে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ পর্যন্ত আমি সন্দিহান ছিলাম, পরবর্তীতে আমি পূর্ণ আস্থাশীল হই। অর্থাৎ তহশীলদার বিশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে ফেরত দিবে। যদি কারো উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয় এবং সেটা তার কাছে না থাকে, বরং বিনতু মাখাদ থাকে, তখন তার থেকে সেটাই গ্রহন করবে এবং এর দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যদি কারো উপর বিনতু মাখাদ ওয়াজিত হয়, অথচ তা তার কাছে নেই, বরং তার নিকট আছে ইবনু লাবূন, তখন সেটাই গ্রহণ করবে এবং সাথে কিছুই দিতে হবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাকে কিছুই দিতে হবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা।
স্বাধীনভাবে চরে বেড়ানো মেষ-বকরীর সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি বকরী দিতে হবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশো পর্যন্ত পৌঁছলে দু’টি বকরী। বকরীর সংখ্যা দুইশো অতিক্রম করে তিনশো পর্যন্ত হলে তিনটি বরকী এবং তিনশো থেকে অধিক হলে প্রতি একশোটির জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা অন্ধ বকরী-ছাগল নেয়া হবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে যেন একত্র না করা হয় এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করা হয়। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ হিসাবে বহন করবে। চরে বেড়ানো বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হলে কিছুই দিতে হবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা।
রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশো নব্বই হলে কিছুই দিতে হবে না। হাঁ, মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তাতে আপত্তি নেই।

সহীহঃ বুখারী সংক্ষেপে। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৬৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22431 OK

(১৫৬৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابَ الصَّدَقَةِ فَلَمْ يُخْرِجْهُ إِلَى عُمَّالِهِ حَتَّى قُبِضَ فَقَرَنَهُ بِسَيْفِهِ فَعَمِلَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى قُبِضَ ثُمَّ عَمِلَ بِهِ عُمَرُ حَتَّى قُبِضَ فَكَانَ فِيهِ ‏ `‏ فِي خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ شَاةٌ وَفِي عَشْرٍ شَاتَانِ وَفِي خَمْسَ عَشَرَةَ ثَلاَثُ شِيَاهٍ وَفِي عِشْرِينَ أَرْبَعُ شِيَاهٍ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ ابْنَةُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَشَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً عَلَى الْمِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الْغَنَمُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ الْمِائَةَ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ مَخَافَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَيْبٍ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِذَا جَاءَ الْمُصَدِّقُ قُسِمَتِ الشَّاءُ أَثْلاَثًا ثُلُثًا شِرَارًا وَثُلُثًا خِيَارًا وَثُلُثًا وَسَطًا فَأَخَذَ الْمُصَدِّقُ مِنَ الْوَسَطِ وَلَمْ يَذْكُرِ الزُّهْرِيُّ الْبَقَرَ ‏.‏


সালিম (রঃ) হতে তার পিতার থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাত হিসেবে যে পত্র লিখেছেন তা কর্মকর্তাদের নিকট পৌঁছার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন। ফলে তা তাঁর তরবারির খাপের মধ্যেই থেকে যায়। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সে বিধান অনুযায়ী কাজ করেন। তাঁর পরে ‘উমার (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তদানুযায়ী কাজ করেন। তাতে লিখা ছিলঃ প্রত্যেক পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী, দশটির জন্য দু’টি বকরী, পনেরটির জন্য তিনটি বরকী এবং বিশটির জন্য চারটি বকরী প্রদান করতে হবে। পঁচিশটির জন্য দিতে হবে একটি বিনতু মাখাদ এবং তা পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত দিতে হবে একটি হিককাহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হবে, তখন পঁচাত্তর পর্যন্ত দিতে হবে একটি জাযাআহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হবে, তখন দু’টি বিনতু লাবূন দিতে হবে। যখন এর থেকেও একটি বৃদ্ধি পাবে, তখন দু’টি হিককাহ দিতে হবে, তা একশো বিশ পর্যন্ত। উটের সংখ্যা এর অধিক হলে প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি হিককাহ এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে।
ছাগলের ক্ষেত্রে প্রত্যেক চল্লিশটি ছাগলের জন্য একটি বকরী একশো বিশ পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বর্ধিত হলে দুইশো পর্যন্ত দু’টি বকরী। দুই শতের অথিক হলে তিনশো পর্যন্ত তিনটি বকরী। ছাগলের সংখ্যা এর চাইতে অধিক হলে প্রত্যেক একশো’তে একটি বকরী দিতে হবে। ছাগলের সংখ্যা একশো না হলে কিছুই দিতে হবে না। যাকাত দেয়ার ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে ভিন্ন ভিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের উপর যে যাকাত ধার্য হবে, তা উভয়ে সমান হারে বহন করবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা দোষযুক্ত (পশু) গ্রহণ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যুহরী (রঃ) বলেছেন, যাকাত আদায়কারীর উচিত হলো, যাকাত আদায়ের সময় সমস্ত বকরীগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করবে। এক ভাগ নিকৃষ্ট, এক ভাগ উৎকৃষ্ট এবং এক ভাগ মধ্যম। সুতরাং আদায়কারী ‘মধ্যম’ মানের পশুই নিবে। যুহরীর বর্ণনায় গরুর যাকাত সম্বন্ধে কিছুই উল্লেখ নেই। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৬৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22432 OK

(১৫৬৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ ‏ `‏ فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ‏`‏ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ كَلاَمَ الزُّهْرِيِّ ‏.‏


সুফয়ান ইবনু হুসাইন (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উপরোক্ত সানাদে এ হাদীসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিনতু মাখাদ না থাকলে উবনু লাবূন দিতে হবে। এ বর্ণনায় যুহরীর কথাটি উল্লেখ নেই। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22433 OK

(১৫৭০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ هَذِهِ نُسْخَةُ كِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَتَبَهُ فِي الصَّدَقَةِ وَهِيَ عِنْدَ آلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَقْرَأَنِيهَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَوَعَيْتُهَا عَلَى وَجْهِهَا وَهِيَ الَّتِي انْتَسَخَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ ‏`‏ فَإِذَا كَانَتْ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ خَمْسِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَخَمْسِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سِتِّينَ وَمِائَةً فَفِيهَا أَرْبَعُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسِتِّينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سَبْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسَبْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَمَانِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَابْنَتَا لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَمَانِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَتِسْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا أَرْبَعُ حِقَاقٍ أَوْ خَمْسُ بَنَاتِ لَبُونٍ أَىُّ السِّنَّيْنِ وُجِدَتْ أُخِذَتْ وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ ‏`‏ ‏.‏ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ وَفِيهِ ‏`‏ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ ‏`‏ ‏.


ইবনু শিহাব (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাত সম্পর্কে যে ফরমান লিখিয়েছেন এটা সেই পান্ডুলিপি যা ‘উমার ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ) পরিবারে সংরক্ষিত আছে। ইবনু শিহাব (রঃ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তা আমাকে পড়িয়েছেন এবং আমি তা হুবহু মুখস্ত করি। পরবর্তীতে তা ‘উমার উবনু ‘আবদুল ‘আযীয় (রঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এবং সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে কপি করেন। তিনি বলেন, উটের সংখ্যা একশো একুশ থেকে একশো উনত্রিশ হলে তিনটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো ত্রিশ থেকে একশো ঊনচল্লিশ হলে দু’টি বিনতু লাবূন ও একটি হিককাহ দিতে হবে। আর একশো চল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ হলে দু’টি হিককাহ ও একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো পঞ্চাশ থেকে একশো উনষাট হলে দিতে হবে তিনটি হিক্কাহ। একশো ষাট থেকে একশো উনসত্তর পর্যন্ত তিনটি বিনতু লাবূন ও একটি হিক্কাহ দিতে হবে। একশো আশি থেকে একশো ঊননব্বই পর্যন্ত দু’টি হিক্কাহ ও দুটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো নব্বই হলে তা থেকে একশো নিরানব্বই পর্যন্ত তিনটি হিক্কাহ ও একটি বিনতু লাবূন। দুইশো হলে চারটি হিককাহ অথবা পাঁচটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। এ উভয় বয়সের মধ্যে যেটাই পাওয়া যাবে সেটাই নেয়া হবে। আর চরে বেড়ানো ছাগল (এর যাকাত সম্বন্ধে) ইবনু শিহাব ইতিপূর্বে সূফয়ান ইবনু হুসাইনের হাদীসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, যাকাত বাবদ অতিবৃদ্ধ ও দোষযুক্ত বকরী নেয়া হবে না, এবং পুরুষ জাতীয় (পাঠা)- ও না। অবশ্য যাকাত আদায়কারী প্রয়োজনে নিতে চাইলে নিতে পারে। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22434 OK

(১৫৭১)

সহিহ মাকতু

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏.‏ هُوَ أَنْ يَكُونَ لِكُلِّ رَجُلٍ أَرْبَعُونَ شَاةً فَإِذَا أَظَلَّهُمُ الْمُصَدِّقُ جَمَعُوهَا لِئَلاَّ يَكُونَ فِيهَا إِلاَّ شَاةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏.‏ أَنَّ الْخَلِيطَيْنِ إِذَا كَانَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةُ شَاةٍ وَشَاةٌ فَيَكُونُ عَلَيْهِمَا فِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ فَإِذَا أَظَلَّهُمَا الْمُصَدِّقُ فَرَّقَا غَنَمَهُمَا فَلَمْ يَكُنْ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا إِلاَّ شَاةٌ فَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ ‏.‏


ইমাম মালিক (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘উমার ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ) উক্তিঃ “একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকেও একত্র করা যাবে না”। এর ব্যাখ্য হলো, দুই মালিকের পৃথক পৃথকভাবে চল্লিশটি ছাগল আছে। অতঃপর তাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হলে তারা উভয়ের পৃথক পৃথক ছাগলগুলোকে একত্র করে (তা যৌথ বলে দাবী করলো)। যাতে তাদের একটির অধিক বকরী দিতে না হয়। আর একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করার ব্যাখ্যা হলো, যেমন দু’জন সমান অংশীদারের প্রত্যেকের একশো একটি ছাগল আছে। (হিসেব মতে, দুইশো দু’টিতে) যাকাত দিতে হয় তিনটি বকরী। কিন্তু যখন তাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হয় তখন তারা (একশো একটি করে) পৃথক করে ফেললো। ফলে উভয়কে একটি করে বকরী দিতে হলো। ইমাম মালিক (রঃ) বলেন, এর ব্যাখ্যা আমি এরূপই শুনেছি।

সহীহ মাক্বতূ‘। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭১]


হাদিসের মান : সহিহ মাকতু



22435 OK

(১৫৭২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَعَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏`‏ هَاتُوا رُبْعَ الْعُشُورِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ شَىْءٌ حَتَّى تَتِمَّ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَعَلَى حِسَابِ ذَلِكَ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلاَّ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ فَلَيْسَ عَلَيْكَ فِيهَا شَىْءٌ ‏`‏ ‏.‏ وَسَاقَ صَدَقَةَ الْغَنَمِ مِثْلَ الزُّهْرِيِّ قَالَ ‏`‏ وَفِي الْبَقَرِ فِي كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعٌ وَفِي الأَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ وَلَيْسَ عَلَى الْعَوَامِلِ شَىْءٌ وَفِي الإِبِلِ ‏`‏ ‏.‏ فَذَكَرَ صَدَقَتَهَا كَمَا ذَكَرَ الزُّهْرِيُّ قَالَ ‏`‏ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ خَمْسَةٌ مِنَ الْغَنَمِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ إِلَى سِتِّينَ ‏`‏ ‏.‏ ثُمَّ سَاقَ مِثْلَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ قَالَ ‏`‏ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً - يَعْنِي وَاحِدَةً وَتِسْعِينَ - فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَلاَ تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ وَلاَ تَيْسٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَفِي النَّبَاتِ مَا سَقَتْهُ الأَنْهَارُ أَوْ سَقَتِ السَّمَاءُ الْعُشْرُ وَمَا سَقَى الْغَرْبُ فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ ‏`‏ ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ وَالْحَارِثِ ‏`‏ الصَّدَقَةُ فِي كُلِّ عَامٍ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ قَالَ ‏`‏ مَرَّةً ‏`‏ ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ ‏`‏ إِذَا لَمْ يَكُنْ فِي الإِبِلِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَلاَ ابْنُ لَبُونٍ فَعَشَرَةُ دَرَاهِمَ أَوْ شَاتَانِ ‏`‏ ‏.‏


আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যুহাইর (রঃ) বলেন, আমার ধারনা, এ হাদীস নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিবে এবং দুইশো দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন যাকাত নেই। আর দুইশো দিরহাম পূর্ণ হলে তাতে পাঁচ দিরহাম দিতে হবে। এর অতিরিক্ত হলে, উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী দিতে হবে। ছাগলের যাকাত হলো, প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বকরী। বকরীর সংখ্যা ঊনচল্লিশ হলে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছুই ওয়াজিব নয়। অতঃপর বকরীর হিসাব ও যাকাত যুহরীর বর্ণনানুযায়ী বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, গরুর যাকাত হচ্ছে, প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি বাছুর এবং চল্লিশটির জন্য পূর্ণ দুই বছরের একটি বাছুর। তবে কৃষিকাজে নিয়োজিত পশুর যাকাত নেই। উটের যাকাতও যুহরীর বর্ণনানুরূপ দিতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী এবং একটিও বর্ধিত হলে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতু মাখাদ দিতে হবে। বিনতু মাখাদ না থাকলে একটি ইবনু লাবূন দিবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী একটি হিককাহ দিতে হবে। অতঃপর যুহরীর হাদীসের বর্ণনানুরূপ। তিনি বলেনঃ যদি একটিও বর্ধিত হয় অর্থাৎ একানব্বই হয়, তা থেকে একশো বিশ পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী দু’টি হিককাহ দিবে। আর যাকাত দেয়ার ভয়ে একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকে একত্র করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ এবং দোষযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না। এবং কোন পাঠাও নেয়া যাবে না। তবে আদায়কারী নিতে চাইলে নিতে পারবে। শস্যের যাকাত হচ্ছে, ভুমি নদ-নদী অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে ‘উশর’ দিতে হবে (এক-দশমাংশ)। আর যেসব ভূমিতে পানিসেচ করতে হয় তাতে দিতে হবে বিশ ভাগের এক ভাগ। ‘আসিম ও হারিসের হাদীসে এটাও রয়েছে, যাকাত প্রতি বছরই দিতে হবে। যুহাইর বলেন, আমার ধারণা, প্রতি বছর একবার বলেছেন। ‘আসিমের হাদীসে রয়েছে, বিনতু মাখাদ ও ইবনু লাবূন না থাকলে দশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী প্রদান করতে হবে। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22436 OK

(১৫৭৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، وَسَمَّى، آخَرَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَالْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ أَوَّلِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ‏`‏ فَإِذَا كَانَتْ لَكَ مِائَتَا دِرْهَمٍ وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَىْءٌ - يَعْنِي فِي الذَّهَبِ - حَتَّى يَكُونَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا فَإِذَا كَانَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا نِصْفُ دِينَارٍ فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ فَلاَ أَدْرِي أَعَلِيٌّ يَقُولُ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ ‏.‏ أَوْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏`‏ وَلَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ ‏`‏ ‏.‏ إِلاَّ أَنَّ جَرِيرًا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏`‏ لَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ ‏`‏ ‏.‏


আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ হাদীসের প্রথম দিকের কিছু অংশ বর্ণনার পর বলেন, তিনি বলেছেন, তোমার কাছে দুইশো দিরহাম থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিবে। স্বর্ণের ক্ষেত্র বিশ দীনারের কমে যাকাত নেই। বিশ দীনারের পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার দিতে হবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন, “উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে” এটা ‘আলীর (রাঃ) কথা নাকি রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা আমার জানা নেই। আর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সম্পদেই যাকাত দিতে হয় না। উবনু ওয়াহব বলেন, জারীর তার বর্ণনায় বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এক বছর অতিবাহিত না হলে কোন সম্পদেই যাকাত নেই। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22437 OK

(১৫৭৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ `‏ قَدْ عَفَوْتُ عَنِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ فَهَاتُوا صَدَقَةَ الرِّقَةِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِي تِسْعِينَ وَمِائَةٍ شَىْءٌ فَإِذَا بَلَغَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ كَمَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ وَرَوَاهُ شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَدِيثَ النُّفَيْلِيِّ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ وَغَيْرُهُمَا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَلِيٍّ لَمْ يَرْفَعُوهُ أَوْقَفُوهُ عَلَى عَلِيٍّ ‏.


আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি ঘোড়া ও গোলামের যাকাত মাফ করেছি। কিন্তু রৌপ্যের যাকাত প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম দিতে হবে এবং একশো নব্বই তোলা পর্যন্ত যাকাত নেই, যখন দুইশো পূর্ণ হবে তখন পাঁচ দিরহাম দিতে হবে। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22438 OK

(১৫৭৫)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏`‏ فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلٍ فِي أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَلاَ يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا ‏`‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ ‏`‏ مُؤْتَجِرًا بِهَا ‏`‏ ‏.‏ ‏`‏ فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ لآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَىْءٌ ‏`‏ ‏.


বাহ্য ইবনু হাকীম (রাঃ) হতে তার পিতা ও তার দাদার থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, চারণভূমিতে বিচরণশীল উটের চল্লিশটির জন্য একটি বিনতু লাবূন যাকাত দিতে হবে এবং একটি উটকেও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের উদ্দেশে দিবে, উবনুল ‘আলা’ বলেন, “যে সওয়াবের জন্য দিবে, সে তাই পাবে। আর যে ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমি তা আদায় করবোই এবং (শাস্তিস্বরূপ) তার সম্পদের অর্ধেক নিবো। কেননা এটাই আমাদের মহান রব্বের হাক্ব। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবার-পরিজনের জন্য এর থেকে সামান্য পরিমাণও নেই। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৫]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



22439 OK

(১৫৭৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا وَجَّهَهُ إِلَى الْيَمَنِ أَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنَ الْبَقَرِ مِنْ كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ - يَعْنِي مُحْتَلِمًا - دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مِنَ الْمَعَافِرِ ثِيَابٌ تَكُونُ بِالْيَمَنِ ‏.


মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইয়ামান দেশে পাঠানোর সময় এ নির্দেশ দেন যে, গরুর (যাকাত) প্রতি ত্রিশটির জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি এড়ে বাছুর বা বকনা বাছুর এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক যিম্মী থেকে এক দীনার বা এর সম-মূল্যের কাপড়- যা ইয়ামেনে তৈরি হয় আদায় করতে হবে। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22440 OK

(১৫৭৭)

নির্ণীত নয়

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَالنُّفَيْلِيُّ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏


মু‘আয (রাঃ) সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৭]


হাদিসের মান : নির্ণীত নয়



22441 OK

(১৫৭৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ لَمْ يَذْكُرْ ثِيَابًا تَكُونُ بِالْيَمَنِ ‏.‏ وَلاَ ذَكَرَ يَعْنِي مُحْتَلِمًا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ جَرِيرٌ وَيَعْلَى وَمَعْمَرٌ وَشُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ - قَالَ يَعْلَى وَمَعْمَرٌ - عَنْ مُعَاذٍ مِثْلَهُ ‏.‏


মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইয়ামান দেশে প্রেরণ করেন..... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসর অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে ইয়ামান দেশের তৈরি কাপড়ের কথা উল্লেখ করেননি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্কে কিছুই বলেননি। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22442 OK

(১৫৭৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ مَيْسَرَةَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ سِرْتُ أَوْ قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، سَارَ مَعَ مُصَدِّقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏`‏ أَنْ لاَ تَأْخُذْ مِنْ رَاضِعِ لَبَنٍ وَلاَ تَجْمَعْ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ تُفَرِّقْ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏`‏ ‏.‏ وَكَانَ إِنَّمَا يَأْتِي الْمِيَاهَ حِينَ تَرِدُ الْغَنَمُ فَيَقُولُ أَدُّوا صَدَقَاتِ أَمْوَالِكُمْ ‏.‏ قَالَ فَعَمَدَ رَجُلٌ مِنْهُمْ إِلَى نَاقَةٍ كَوْمَاءَ - قَالَ - قُلْتُ يَا أَبَا صَالِحٍ مَا الْكَوْمَاءُ قَالَ عَظِيمَةُ السَّنَامِ - قَالَ - فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا قَالَ إِنِّي أُحِبُّ أَنْ تَأْخُذَ خَيْرَ إِبِلِي ‏.‏ قَالَ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا قَالَ فَخَطَمَ لَهُ أُخْرَى دُونَهَا فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا ثُمَّ خَطَمَ لَهُ أُخْرَى دُونَهَا فَقَبِلَهَا وَقَالَ إِنِّي آخِذُهَا وَأَخَافُ أَنْ يَجِدَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِي عَمَدْتَ إِلَى رَجُلٍ فَتَخَيَّرْتَ عَلَيْهِ إِبِلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ هُشَيْمٌ عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ ‏`‏ لاَ يُفَرِّقْ ‏`‏ ‏.‏


সুওয়াইদ ইবনু গাফালার (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সফর করেছি অথবা যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যাকাত আদায়কারীর সঙ্গে সফর করেছেন তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে (নিয়ম ছিলো) দুগ্ধ প্রদানকারী পশু নেয়া যাবে না। বিচ্ছিন্নকে একত্র করা এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এরপর লোকেরা তাদের পশুপালকে পানি পান করানোর জন্য কূপের কাছে নিয়ে এলে আদায়কারী পানির কূপের নিকট এসে বলতেন, তোমরা তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় করো’। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের এক ব্যক্তি একটি কূমাআ উষ্ট্রী নিয়ে এলো। আমি বললাম, হে আবূ সলিহ! কূমাআ কি? তিনি বললেন, উঁচু কুঁজবিশিষ্ট। বর্ণনাকারী বলেন, (আদায়কারী সেটা গ্রহণে অস্বকৃতি জানালে) যাকাতদাতা বললো, আমি আকাঙ্খা করেছি যে, আপনি আমার সর্বোৎকৃষ্ট উটটি গ্রহন করুন। বর্ণনাকরী বলেন, আদায়কারী তা গ্রহণ না করায় সে ওটার চেয়ে নিকৃষ্ট মানের একটি উটে লাগাম ধরে নিয়ে এলা কিন্তু তিনি এটাও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ওটার চাইতে আরো নিকৃষ্ট মানের একটি উট লাগাম ধরে নিয়ে আসেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি তা গ্রহণে এজন্য ভয় করছি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে একথা না বলেন যে, এ ব্যক্তির তার উটের উপর তোমাকে স্বাধীনতা দেয়ার তুমি তার উত্তম সম্পদটিই নিয়ে এসেছো। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৭৯]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



22443 OK

(১৫৮০)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي لَيْلَى الْكِنْدِيِّ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ أَتَانَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَقَرَأْتُ فِي عَهْدِهِ ‏`‏ لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ ‏`‏ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ ‏`‏ رَاضِعَ لَبَنٍ ‏`‏ ‏.‏


সুয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকট আসলে আমি তার হাত ধরে মুসাফাহা করি। অতঃপর আমি তার কাছে যাকাত সম্পর্কিত যে নির্দেশনামা ছিলো তাতে এ বিষয়টি পাঠ করেছিঃ যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তবে তিনি এ কথা বর্ণনা করেননি যে, ‘দুদ্ধ দানকারী পশু’ (নেয়া যাবে না)। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৮০]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



22444 OK

(১৫৮১)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ ثَفِنَةَ الْيَشْكُرِيِّ، - قَالَ الْحَسَنُ رَوْحٌ يَقُولُ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ - قَالَ اسْتَعْمَلَ نَافِعُ بْنُ عَلْقَمَةَ أَبِي عَلَى عِرَافَةِ قَوْمِهِ فَأَمَرَهُ أَنْ يُصَدِّقَهُمْ قَالَ فَبَعَثَنِي أَبِي فِي طَائِفَةٍ مِنْهُمْ فَأَتَيْتُ شَيْخًا كَبِيرًا يُقَالُ لَهُ سَعْرُ بْنُ دَيْسَمٍ فَقُلْتُ إِنَّ أَبِي بَعَثَنِي إِلَيْكَ - يَعْنِي لأُصَدِّقَكَ - قَالَ ابْنَ أَخِي وَأَىَّ نَحْوٍ تَأْخُذُونَ قُلْتُ نَخْتَارُ حَتَّى إِنَّا نَتَبَيَّنُ ضُرُوعَ الْغَنَمِ ‏.‏ قَالَ ابْنَ أَخِي فَإِنِّي أُحَدِّثُكَ أَنِّي كُنْتُ فِي شِعْبٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَابِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَنَمٍ لِي فَجَاءَنِي رَجُلاَنِ عَلَى بَعِيرٍ فَقَالاَ لِي إِنَّا رَسُولاَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكَ لِتُؤَدِّيَ صَدَقَةَ غَنَمِكَ ‏.‏ فَقُلْتُ مَا عَلَىَّ فِيهَا فَقَالاَ شَاةٌ ‏.‏ فَأَعْمِدُ إِلَى شَاةٍ قَدْ عَرَفْتُ مَكَانَهَا مُمْتَلِئَةً مَحْضًا وَشَحْمًا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا ‏.‏ فَقَالاَ هَذِهِ شَاةُ الشَّافِعِ وَقَدْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَأْخُذَ شَافِعًا ‏.‏ قُلْتُ فَأَىَّ شَىْءٍ تَأْخُذَانِ قَالاَ عَنَاقًا جَذَعَةً أَوْ ثَنِيَّةً ‏.‏ قَالَ فَأَعْمِدُ إِلَى عَنَاقٍ مُعْتَاطٍ ‏.‏ وَالْمُعْتَاطُ الَّتِي لَمْ تَلِدْ وَلَدًا وَقَدْ حَانَ وِلاَدُهَا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا فَقَالاَ نَاوِلْنَاهَا ‏.‏ فَجَعَلاَهَا مَعَهُمَا عَلَى بَعِيرِهِمَا ثُمَّ انْطَلَقَا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّاءَ قَالَ أَيْضًا مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ ‏.‏ كَمَا قَالَ رَوْحٌ ‏.‏


মুসলিম ইবনু শু‘বাহ (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাফি’ ইবনু আলক্বামাহ (রঃ) আমার পিতাকে নিজ গ্রোত্রপ্রধান নিযুক্ত করে তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা আমাকে তাদের এক গোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি সি‘র ইবনু দায়সাম নামক এক বৃদ্ধের কাছে এসে বললাম, আমার পিতা আমাকে আপনার কাছে যাকাত উসূল করতে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কিভাবে নিবে? আমি বললাম, আমার বাছাই করবো, আমরা বকরীর বাঁট দেখে যাচাই করবো। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! আমি তোমাকে একটি হাদীস বলছি। রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে একদা আমি কোন এক উপত্যকায় আমার মেষপাল চরাচ্ছিলাম। এমন সময় দুইজন লোক একটি উটে চড়ে আমার নিকট এসে বললো, আমরা রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিনিধি হিসাবে আপনার মেষপালের যাকাত উসূল করতে আপনার কাছে প্রেরিত হয়েছি। আমি বললাম, আমি কি প্রদান করবো? তারা বলেন, বকরী। সুতরাং আমি এমন একটি বিশেষ বকরী দেয়ার মনস্থ করলাম, সেটির বাট দুদ্ধে ভরতি, খুব মোটতাজা চর্বিওয়ালা। আমি তাদেরকে সেটা বের করে দিলে তারা বললেন এটা তো জোড়াওয়ালা (বাচ্চাওয়ালা) বকরী। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে জোড়াওয়ালা বকরী নিতে বারণ করেছেন। আমি বললাম, তাহলে আপনারা কেমন বকরী নিবেন? তারা বললেন, এক বছর কিংবা দুই বছর বয়সী বকরী। তিনি বলেন, তখন আমি একটি ‘সু‘তাত্’ বকরীর দেয়ার মনস্থ করলাম। সু‘তাত্ ঐ বকরীকে বলে যা কোনো বাচ্চা দেয়নি, কিন্তু গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়েছে। সেটি এনে তাদেরকে দিলে তারা বললেন, হাঁ, আমরা এটি নিতে পারি। অতঃপর তারা বকরীটিকে তাদের উটের পিঠে তুলে নিয়ে চলে যায়।[১৫৮১] [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৮১]


[[১৫৮১]নাসায়ী (অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ২৪৬১), আহমাদ (৩/৪১৪)। এর সানাদ দুর্বল। সানাদের মুসলিম ইবনু শু‘বাহ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। ইরওয়াউল গালীল (৭৯৬)।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



22445 OK

(১৫৮২)

অন্যান্য

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ ‏.‏ قَالَ فِيهِ وَالشَّافِعُ الَّتِي فِي بَطْنِهَا الْوَلَدُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَرَأْتُ فِي كِتَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ بِحِمْصَ عِنْدَ آلِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْحِمْصِيِّ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ وَأَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْغَاضِرِيِّ - مِنْ غَاضِرَةِ قَيْسٍ - قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ `‏ ثَلاَثٌ مَنْ فَعَلَهُنَّ فَقَدْ طَعِمَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ عَبَدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَأَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَعْطَى زَكَاةَ مَالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ رَافِدَةً عَلَيْهِ كُلَّ عَامٍ وَلاَ يُعْطِي الْهَرِمَةَ وَلاَ الدَّرِنَةَ وَلاَ الْمَرِيضَةَ وَلاَ الشَّرَطَ اللَّئِيمَةَ وَلَكِنْ مِنْ وَسَطِ أَمْوَالِكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَسْأَلْكُمْ خَيْرَهُ وَلَمْ يَأْمُرْكُمْ بِشَرِّهِ ‏`‏ ‏.‏


যাকারিয়্যাহ ইবনু ইসহাক্ব (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তার সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকরীর মুসলিম ইবনু শু‘বাহ তার বর্ণনায় বলেন, শাফি’ বলা হয় গর্ভবতী বকরীকে।

দুর্বল।

গাদিরাহ ক্বায়িসের ‘আবদুল্লাহ ইবনু মু‘আবিয়াহ আল-গাদিরী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করেছে সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। (এক) যে এক আল্লাহ ‘ইবাদাত করে। (দুই) এ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। (তিন) যে স্বতঃস্ফূর্ত মনে নিঃসঙ্কোচে প্রতি বছর তার মালের যাকাত দেয়। বৃদ্ধ বয়সের রোগগ্রস্থ, ত্রুটিপূর্ণ ও নিকৃষ্টি মাল যাকাত দেয় না, বরং মধ্যম মানের যাকাত দিয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ তোমাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ চান না এবং তোমাদের নিকৃষ্ট দেয়ারও নিদের্শ করেন না।

সহীহ। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৮২]


হাদিসের মান : অন্যান্য



22446 OK

(১৫৮৩)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُصَدِّقًا فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمَّا جَمَعَ لِي مَالَهُ لَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ فِيهِ إِلاَّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَقُلْتُ لَهُ أَدِّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا صَدَقَتُكَ ‏.‏ فَقَالَ ذَاكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَلَكِنْ هَذِهِ نَاقَةٌ فَتِيَّةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَخُذْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنَا بِآخِذٍ مَا لَمْ أُومَرْ بِهِ وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكَ قَرِيبٌ فَإِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تَأْتِيَهُ فَتَعْرِضَ عَلَيْهِ مَا عَرَضْتَ عَلَىَّ فَافْعَلْ فَإِنْ قَبِلَهُ مِنْكَ قَبِلْتُهُ وَإِنْ رَدَّهُ عَلَيْكَ رَدَدْتُهُ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي فَاعِلٌ فَخَرَجَ مَعِي وَخَرَجَ بِالنَّاقَةِ الَّتِي عَرَضَ عَلَىَّ حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَتَانِي رَسُولُكَ لِيَأْخُذَ مِنِّي صَدَقَةَ مَالِي وَايْمُ اللَّهِ مَا قَامَ فِي مَالِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ رَسُولُهُ قَطُّ قَبْلَهُ فَجَمَعْتُ لَهُ مَالِي فَزَعَمَ أَنَّ مَا عَلَىَّ فِيهِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَذَلِكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَقَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِ نَاقَةً فَتِيَّةً عَظِيمَةً لِيَأْخُذَهَا فَأَبَى عَلَىَّ وَهَا هِيَ ذِهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ خُذْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ `‏ ذَاكَ الَّذِي عَلَيْكَ فَإِنْ تَطَوَّعْتَ بِخَيْرٍ آجَرَكَ اللَّهُ فِيهِ وَقَبِلْنَاهُ مِنْكَ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ فَهَا هِيَ ذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا فَخُذْهَا ‏.‏ قَالَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَبْضِهَا وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ ‏.‏


উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠালেন। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলে সে তার মাল (উট) একত্র করলো। আমি দেখলাম যে, তার উপর একটি বিনতু মাখাদ ফার্য হয়েছে। সুতরাং আমি তাকে বললাম, একটি বিনতু মাখাদ দিন। কেননা তোমার যাকাত সেটাই। সে বললো, এর এতে দুগ্ধও নেই এবং এটি বাহনের উপযোগীও নয়, বরং এর পরিবর্তে আমার এই বড় মোটতাজা যুবতী উটনী নিন। আমি বললাম, আমি এটা নিতে পারবো না, এরূপ নিতে আমাকে আদেশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো তোমার নিকটেই আছেন। তুমি আমাকে যা বলেছো, তা ইচ্ছে হলে তাঁকে বলে দেখতে পারো। তিনি এটা গ্রহণ করলে আমি নিবো, আর প্রতাখ্যান করলে আমিও প্রত্যাখ্যান করবো। সে বললো, আমি তাই করবো। অতঃপর সে আমাকে নিয়ে উক্ত উষ্ট্রী সহ রওয়ানা হলো। অবশেষে আমার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সম্মুখে উপস্থিত হই। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতিনিধি আমার কাছে আমার সম্পদের যাকাত নিতে এসেছে। আল্লাহর শপথ! এর পূর্বে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং কিংবা তাঁর প্রতিনিধি কখনো আমার সম্পদের যাকাত নিতে আসেননি। কাজেই আমি আমার সমস্ত মাল তাঁর সম্মুখে একত্র করেছি। কিন্তু তিনি বলেন, আমার মালের উপর নাকি একটি মাখাদ ফার্য। অথচ তাতে দুগ্ধও নেই বা আরোহণেরও অনুপযোগী। তাই আমি একটি বড় ও মোটতাজা যুবতী উষ্ট্রী পেশ করেছি। কিন্তু তিনি এটা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। আর সেটি এটাই, আমি আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। হে আল্লাহর রসূল! এটা গ্রহণ করুন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আদায়কারী যা বলেছে তাই তোমার উপর ফার্য। তবে তুমি স্বেচ্ছায় অতিরিক্তি দিলে আল্লাহ তোমাকে এর প্রতিদান দিবেন এবং আমরাও সেটা তোমার থেকে গ্রহন করলাম। সে বললো, এটাই সেই উষ্ট্রী হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, গ্রহণ করুন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা গ্রহণ করতে আদেশ দিলেন এবং তার ও তার সম্পদের বরকতের জন্য দু‘আ করলেন। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৮৩]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



22447 OK

(১৫৮৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ الْمَكِّيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيِّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ ‏ `‏ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ ‏`‏ ‏.‏


ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূ‘আয (রাঃ) -কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বললেন, তিমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছো যারা আহলি কিতাব। তুমি (সর্বপ্রথম) তাদেরকে এ সাক্ষ্য দিতে আহবান করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। এবং আমি (মুহাম্মাদ) আল্লাহ রসূল। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তাদেরকে অবহিত করবে, আল্লাহ তাদের উপর তাদের মালের যাকাত প্রদান ফার্য করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং তাদের গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। আর মযলুমের বদদু‘আকে ভয় করবে। কেননা তার দু‘আ ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক নেই।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৮৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



22448 OK

(১৫৮৫)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ `‏ الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا ‏`‏ ‏.‏


আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যাকাত সংগ্রহে সীমালংঘনকারী ঐ ব্যক্তির মতই যে যাকাত দিতে অস্বীকার করে। [সুনানে আবু দাউদ : ১৫৮৫]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস