(১৫৮) পবিত্রতা অর্জন [হাদিসের সীমা (০১ – ৩৯০), সর্বমোট হাদিসঃ ৩৯০টি]

অনুচ্ছেদ- ৭৫ [মোট হাদিসঃ ৭টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ২০৪টি]


আগুনে পাকানো জিনিস খেলে উযু না করা




21050 OK

(১৮৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.


ইবনু ‘আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বকরীর সামনের রানের গোশত খেলেন। অতঃপর উযু না করেই সলাত আদায় করলেন।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। [সুনানে আবু দাউদ : ১৮৭]


[হাদীস থেকে শিক্ষাঃ ১। মৃত প্রাণী স্পর্শ করা জায়িয এবং তা স্পরশের পর হাত ধোয়া জরুরী নয়। ২। দুনিয়ার জীবন তুচ্ছ।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



21051 OK

(১৮৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ أَبِي صَخْرَةَ، جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ ضِفْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَمَرَ بِجَنْبٍ فَشُوِيَ وَأَخَذَ الشَّفْرَةَ فَجَعَلَ يَحُزُّ لِي بِهَا مِنْهُ - قَالَ - فَجَاءَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ - قَالَ - فَأَلْقَى الشَّفْرَةَ وَقَالَ ‏ `‏ مَا لَهُ تَرِبَتْ يَدَاهُ ‏`‏ ‏.‏ وَقَامَ يُصَلِّي ‏.‏ زَادَ الأَنْبَارِيُّ وَكَانَ شَارِبِي وَفَى فَقَصَّهُ لِي عَلَى سِوَاكٍ ‏.‏ أَوْ قَالَ أَقُصُّهُ لَكَ عَلَى سِوَاكٍ ‏.


মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মেহমান হলাম। তিনি আমার জন্য একটি বকরীর রান আনার নির্দেশ দিলান। রান ভাজি করা হলে তিনি ছুড়ি নিয়ে আমার জন্য গোশত কাটতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এমতাবস্থায় বিলাল (রাঃ) এসে তাকে সলাতের কথা অবহিত করেন। ফলে তিনি ছুড়ি ফেলে দিয়ে বললেনঃ তাঁর কী হয়েছে! তাঁর হাত ধূলায় ধূসরিত হোক! অতঃপর সলাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন।
বর্ণনাকারী আনবারীর বর্ণনায় আরো আছেঃ আমার (মুগীরাহর) গোঁফ কিছুটা বড় হয়ে গিয়েছিল বিধায় তিনি আমার গোঁফের নীচে মিসওয়াক রেখে তা ছেঁটে ছোট করে দিলেন। অথবা বললেনঃ আমি তোমার গোঁফ মিসওয়াকের উপর রেখে তা ছোট করে কেটে দিব। [সুনানে আবু দাউদ : ১৮৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



21052 OK

(১৮৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتِفًا ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِمِسْحٍ كَانَ تَحْتَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ‏.


ইবনু ‘আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনের রানের গোশত খেলেন। অতঃপর তাঁর নিচে বিছানো রুমাল বা চাদরে হাত মুছে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলেন। [সুনানে আবু দাউদ : ১৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



21053 OK

(১৯০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْتَهَشَ مِنْ كَتِفٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.


ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনের রানের কিছু গোশত খাওয়ার পর উযু না করেই সলাত আদায় করলেন। [সুনানে আবু দাউদ : ১৯০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



21054 OK

(১৯১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْخَثْعَمِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَرَّبْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خُبْزًا وَلَحْمًا فَأَكَلَ ثُمَّ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ بِهِ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ طَعَامِهِ فَأَكَلَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.‏


মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- কে বলতে শুনেছিঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সামনে রুটি ও গোশত পেশ করলাম। তিনি তা খেয়ে উযুর পানি আনিয়ে উযু করে যুহরের সলাত আদায় করলেন। এরপর অবশিষ্ট খাবার চেয়ে নিয়ে তা খেলেন। অতঃপর পুনরায় উযু না করে সলাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। [সুনানে আবু দাউদ : ১৯১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



21055 OK

(১৯২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَهْلٍ أَبُو عِمْرَانَ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ آخِرُ الأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرْكَ الْوُضُوءِ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا اخْتِصَارٌ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ ‏.


জাবির থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর দু’টি কাজের (অর্থাৎ আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযু করা বা না করার) মধ্যকার সর্বশেষ কাজ ছিল আগুনে পাকানো খাদ্য খাওয়ার পর উযু না করা। [সুনানে আবু দাউদ : ১৯২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



21056 OK

(১৯৩)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، - قَالَ ابْنُ السَّرْحِ ابْنُ أَبِي كَرِيمَةَ مِنْ خِيَارِ الْمُسْلِمِينَ - قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ ثُمَامَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا مِصْرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ فِي مَسْجِدِ مِصْرَ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ أَوْ سَادِسَ سِتَّةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي دَارِ رَجُلٍ فَمَرَّ بِلاَلٌ فَنَادَاهُ بِالصَّلاَةِ فَخَرَجْنَا فَمَرَرْنَا بِرَجُلٍ وَبُرْمَتُهُ عَلَى النَّارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ `‏ أَطَابَتْ بُرْمَتُكَ ‏`‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي ‏.‏ فَتَنَاوَلَ مِنْهَا بَضْعَةً فَلَمْ يَزَلْ يَعْلِكُهَا حَتَّى أَحْرَمَ بِالصَّلاَةِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ ‏.‏


উবাইদ ইবনু সুমামাহ আল-মুরাদী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু হারিস ইবনু জাযই (রাঃ) নামক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জনৈক সহাবী মিসরে আমাদের কাছে আগমন করলেন। আমি তাকে মিসরের একটি মাসজিদে হাদীস বর্ণনা করতে শুনলাম। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তির ঘরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে আমি সহ সাতজন অথবা ছয়জন উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সলাতের জন্য ডাকলেন। তখন আমরা সবাই বেরিয়ে গেলাম। পথিমধ্যে আমরা এমন এক ব্যাক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যার পাতিল ছিল আগুনের উপর। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তোমার পাতিলের (গোশত) রান্না হয়েছে কি? সে বললঃ হ্যাঁ, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। এরপর তিনি সেখান থেকে এক টুকরা (গোশত) তুলে নিয়ে চিবাতে লাগলেন। এমনকি সলাতের তাকবীরে তাহরীমা বাঁধা পর্যন্ত তিনি তা চিবাচ্ছিলেন। আর আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। [১৯২] [সুনানে আবু দাউদ : ১৯৩]


[১৯২ যুবাইদী ‘আল ইত্তিহাফ’ (২/৩০৮)। এর সানাদে উবাইদ ইবনু সুমামাহ রয়েছে। হাফিয বলেন, মাকবূল। আর ইমাম যাহাবী বলেন, তাকে চেনা যায়নি। কিন্তু হাদীসটির শাহিদ বর্ণনা আছে ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ খাওা-দাওয়া, অনুঃ মাসজিদে খাওয়া, হাঃ ৩৩০০), ইবনু হিব্বান (১/৩৫৮, হাঃ ২২৩)। যাওয়ায়িদ গ্রন্থে রয়েছে এর সানাদ, রিজাল নির্ভরযোগ্য, আর ইয়াকূব সমালোচিত। ইবনু ওহাব সূত্রে ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জাওয়িয যুবাইদী বলেন, “রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে আমরা মাসজিদে রুটি ও গোশত খেয়েছি”। আলবানী একে সহীহ বলেছেন। এ অনুচ্ছেদের হাদীস থেকে শিক্ষাঃ ১। গোশত খেলে উযু ভঙ্গ হয় না। কেননা তিনি গোশত খেয়ে উযু না করেই সলাতে দাঁড়িয়েছেন। ২। ইমামকে সলাতের সময় উপস্থিত হওয়ার সংবাদ জানানো শারী’আত সম্মত। ৩। খাওয়ার পর কুলি না করে সলাত আদায় জায়িয। খাওয়ার পর হাত ধোয়া ওয়াজিব নয়। ৪। এক ব্যাক্তির জন্য অপর ব্যাক্তির খাদ্য হতে খাওয়া জায়িয আছে, যখন তিনি জানবেন যে, তাঁর সেই ভাই সন্তুষ্ট, নারাজ নন। ৫। গোঁফ বড় করা অপছন্দনীয়। কিছুটা বড় হলেই তা ছেঁটে ফেলা উচিত। ৬। একজন আরেকজনের গোফ,চুল ছেঁটে দেয়া জায়িয। ৭। খাবার উপস্থিত হলে তা না খেয়ে সলাত আদায় করা পছন্দীয়। অন্য হাদীসে এর প্রমাণ রয়েছে।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস