Loading...


৩১. মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৪১

Edit
حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ وَجَاءَتْهُ وُفُودُ هَوَازِنَ فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ إِنَّا أَصْلٌ وَعَشِيرَةٌ فَمُنَّ عَلَيْنَا مَنَّ اللَّهُ عَلَيْكَ فَإِنَّهُ قَدْ نَزَلَ بِنَا مِنْ الْبَلَاءِ مَا لَا يَخْفَى عَلَيْكَ فَقَالَ اخْتَارُوا بَيْنَ نِسَائِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَأَبْنَائِكُمْ قَالُوا خَيَّرْتَنَا بَيْنَ أَحْسَابِنَا وَأَمْوَالِنَا نَخْتَارُ أَبْنَاءَنَا فَقَالَ أَمَّا مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكُمْ فَإِذَا صَلَّيْتُ الظُّهْرَ فَقُولُوا إِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَبِالْمُؤْمِنِينَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نِسَائِنَا وَأَبْنَائِنَا قَالَ فَفَعَلُوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكُمْ وَقَالَ الْمُهَاجِرُونَ وَمَا كَانَ لَنَا فَهُوَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَتْ الْأَنْصَارُ مِثْلَ ذَلِكَ وَقَالَ عُيَيْنَةُ بْنُ بَدْرٍ أَمَّا مَا كَانَ لِي ولِبَنِي فَزَارَةَ فَلَا وَقَالَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ أَمَّا أَنَا وَبَنُو تَمِيمٍ فَلَا وَقَالَ عَبَّاسُ بْنُ مِرْدَاسٍ أَمَّا أَنَا وَبَنُو سُلَيْمٍ فَلَا فَقَالَتْ الْحَيَّانِ كَذَبْتَ بَلْ هُوَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ رُدُّوا عَلَيْهِمْ نِسَاءَهُمْ وَأَبْنَاءَهُمْ فَمَنْ تَمَسَّكَ بِشَيْءٍ مِنْ الْفَيْءِ فَلَهُ عَلَيْنَا سِتَّةُ فَرَائِضَ مِنْ أَوَّلِ شَيْءٍ يُفِيئُهُ اللَّهُ عَلَيْنَا ثُمَّ رَكِبَ رَاحِلَتَهُ وَتَعَلَّقَ بِهِ النَّاسُ يَقُولُونَ اقْسِمْ عَلَيْنَا فَيْئَنَا بَيْنَنَا حَتَّى أَلْجَئُوهُ إِلَى سَمُرَةٍ فَخَطَفَتْ رِدَاءَهُ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ رُدُّوا عَلَيَّ رِدَائِي فَوَاللَّهِ لَوْ كَانَ لَكُمْ بِعَدَدِ شَجَرِ تِهَامَةَ نَعَمٌ لَقَسَمْتُهُ بَيْنَكُمْ ثُمَّ لَا تُلْفُونِي بَخِيلًا وَلَا جَبَانًا وَلَا كَذُوبًا ثُمَّ دَنَا مِنْ بَعِيرِهِ فَأَخَذَ وَبَرَةً مِنْ سَنَامِهِ فَجَعَلَهَا بَيْنَ أَصَابِعِهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى ثُمَّ رَفَعَهَا فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ لَيْسَ لِي مِنْ هَذَا الْفَيْءِ وَلَا هَذِهِ إِلَّا الْخُمُسُ وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ عَلَيْكُمْ فَرُدُّوا الْخِيَاطَ وَالْمَخِيطَ فَإِنَّ الْغُلُولَ يَكُونُ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَارًا وَنَارًا وَشَنَارًا فَقَامَ رَجُلٌ مَعَهُ كُبَّةٌ مِنْ شَعَرٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَذْتُ هَذِهِ أُصْلِحُ بِهَا بَرْدَعَةَ بَعِيرٍ لِي دَبِرَ قَالَ أَمَّا مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكَ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا إِذْ بَلَغَتْ مَا أَرَى فَلَا أَرَبَ لِي بِهَا وَنَبَذَهَا

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে নিকট ছিলাম, এমন সময় হাওয়াবিন গোত্রের এক প্রতিনিধি দল তাঁর নিকট এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আরবের একটি গোত্র। আমাদের উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে, তা আপনার নিকট গোপন নয়। অতএব আপনি আমাদের উপর অনুগ্রহ করুন। আল্লাহ আপনার উপর অনুগ্রহ করবেন।” তিনি বললেন, “তোমরা দুইটার যে কোনো একটা গ্রহণ করো। হয়তো তোমাদের দৌলত নিয়ে যাও, অথবা তোমাদের নারী ও সন্তানদের নিয়ে যেতে পারো।” তারা বললো, “আপনি আমাদেরকে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী যে কোনো একটা গ্রহণ করতে বলেছেন। অতএব আমরা আমাদের নারী ও সন্তানদের নিতে চাই।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “(গণীমতের মালে) আমার এবং আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের যে অংশ রয়েছে, আমি তা তোমাদেরকে দিয়ে দিলাম। কিন্তু আমি যুহরের সালাত আদায় করলে তোমরা দাঁড়িয়ে বলবে যে, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উসিলায় মুমিনদের (অথবা মুসলমানদের) নিকট আমাদের নারী এবং সম্পদের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করছি।” বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা যুহরের সালাত আদায় করলে তারা ঐরূপই বললো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যা আমার এবং আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের অংশ রয়েছে, তা তোমাদের।” এ কথা শুনে মুহাজিরগণ বললেন, “আমাদের অংশ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে।” আনসারগণও বললেন, “আমাদের অংশও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে।” আকরা ইবনে হাবিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি এবং বনূ তামীম এতে রাযী নই।“ উয়ায়না ইবনে হিসন রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি এবং বনু ফাযারাও এতে সম্মত নই।” আব্বাস ইবনে মিরদাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি এবং বনূ সুলায়ম এতে নেই।” তখন বনূ সুলায়মের লোক দাঁড়িয়ে বললো, “তুমি মিথ্যা বলছো, আমাদের যা কিছু রয়েছে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে লোক সকল! তাদের নারীদের এবং সন্তানদের ফেরত দিয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি বিনিময় ব্যতীত দিতে না চায়, মহান মহীয়ান আল্লাহ আমাদের সর্বপ্রথম যে গনীমত দিবেন তা থেকে তাকে ছয়টি উট দেয়া হবে।” এই বলে তিনি তাঁর বাহনে আরোহণ করলেন। কিন্তু লোকেরা তাঁর পিছু নিলো (এবং ঘেরাও করে রাখলো) এবং তারা বলতে লাগলো, “আমাদের গণীমতের মাল বন্টন করে দিন।” লোকেরা তাঁকে একটি গাছের নিকট নিয়ে গেলো এবং গাছে তাঁর চাদর আটকে দিলো। তিনি বললেন, “হে লোকসকল! আমার চাদর আমাকে ফিরিয়ে দাও। আল্লাহর শপথ! যদি তিহামার (মরু আরবের) গাছের সম সংখ্যক জন্তু আমার নিকট থাকে, তবে তা আমি তোমাদের মাঝে বন্টন করে দিবো। তোমরা আমাকে কৃপণ, ভীরু ও মিথ্যাবাদী পাবে না।” পরে তিনি একটি উটের নিকট এসে তার কুঁজের পশম তুলে নিয়ে বললেন, “শোনো, আমি তোমাদের এই গণীমতের মালের কিছুই নিবো না, এমনকি পশমও নিবো না; শুধু খুমুসই (পঞ্চমাংশ) নিতে চাই আর এই খুমুস বা পঞ্চমাংশও তোমাদের জন্যেই ব্যয় হবে।” একথা শুনে এক ব্যক্তি কিছু চুলের গুচ্ছ নিয়ে তাঁর নিকট এসে বললো, “ইয়া রসূলুল্লাহ্‌! আমি এটা এইজন্য নিয়েছি, যেনো এর দ্বারা আমি আমার উটের চাদর ঠিক করতে পারি।” তিনি বললেন, “যা আমার এবং আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের, তা তোমার।” সে ব্যক্তি বললো, “যখন ব্যাপারটি এই পর্যন্ত পৌঁছেছে, তখন আমার এর প্রয়োজন নেই।” সে চুলের গুচ্ছ ফেলে দিলো। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে লোক সকল! তোমাদের যার কাছে যা আছে, এমন কি সুঁই-সুতা পর্যন্ত ফেরত দাও। কেননা গণীমতের মাল চুরি করা লজ্জার ব্যাপার; আর কিয়ামতের দিন তা তার (চোরের) জন্যে লজ্জা ও অপমানের কারণ হবে।”


সর্বমোট হাদিস পাওয়া গিয়েছেঃ ১টি


(১)

হাদিস নং ৬৪৪১ দেখুন
(৩১. মুসনাদে আহমাদ : ৬৭৪০) Edit