মুসআব বিন সাদ থেকে বর্ণিতঃ
আমার পিতার সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আমার পিতা বলেনঃ আমি একটি তরবারি (গনিমত হিসাবে) অর্জন করলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), এটি আমাকে দান করুন (আমার সম্পদের অংশ ছাড়াও)। তিনি বললেনঃ এটি রেখে দাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমার সাথে কি এমন আচরণ করা হবে যে ব্যক্তি (যুদ্ধে) কোন কাজে আসে না? তিনি বললেন, যেখান থেকে তরবারটি পেয়েছ, সেটাকে রেখে দাও। অতঃপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়:
سۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡأَنفَالِۖ قُلِ ٱلۡأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِۖ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَصۡلِحُواْ ذَاتَ بَيۡنِكُمۡۖ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ١
তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, “যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের বিধান দেয়ার অধিকার আল্লাহ ও রসূলের জন্যে নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে নাও। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো, তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো।” [৮ : ১]
আমার মা আমাকে বললেন: আল্লাহ কি তোমাকে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে এবং তোমার পিতামাতার সম্মান করার আদেশ দেননি? আল্লাহর কসম, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কিছু খাব না বা কিছু পান করব না এবং যতক্ষণ না তারা একটি লাঠি দিয়ে তার মুখ খুলে তাতে পানি ঢেলে দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত সে খায়নি। শুবাহ বলেন: এবং আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: এবং খাবার। অতঃপর এই আয়াতটি নাযিল হয়:
وَوَصَّيۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ بِوَٰلِدَيۡهِ حَمَلَتۡهُ أُمُّهُۥ وَهۡنًا عَلَىٰ وَهۡنٖ وَفِصَٰلُهُۥ فِي عَامَيۡنِ أَنِ ٱشۡكُرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيۡكَ إِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ١٤
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সৎব্যবহার করার জন্যে জোরালো নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের উপরে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরের মধ্যে হয়। এই বলে নির্দেশ দিয়েছি যে, “তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমার নিকটেই তোমাকে ফিরে আসতে হবে। [৩১ : ১৪]
وَإِن جَٰهَدَاكَ عَلَىٰٓ أَن تُشۡرِكَ بِي مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٞ فَلَا تُطِعۡهُمَاۖ وَصَاحِبۡهُمَا فِي ٱلدُّنۡيَا مَعۡرُوفٗاۖ وَٱتَّبِعۡ سَبِيلَ مَنۡ أَنَابَ إِلَيَّۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرۡجِعُكُمۡ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ١٥
পিতা-মাতা যদি আমার সঙ্গে এমন কিছুকে অংশীদার করতে তোমাকে চাপ দেয়, যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই; তাহলে তুমি তাদের উভয়ের অনুগত্য করো না। আর এই দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করবে। যে ব্যক্তি আমার দিকে অভিমুখী হয়, তুমি তার পথ অনুসরণ করবে। তারপর তোমাদেরকে আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে, তখন আমি ঐ বিষয়ে তোমাদেরকে জানিয়ে দিবো, যা তোমরা করতে।” [৩১ : ১৫]
অতঃপর একদা আমি অসুস্থ ছিলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললামঃ হে রাসূল! আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর জন্য (দান করার) ওসিয়ত করব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ থেকে নিষেধ করলেন। অর্ধেক প্রশ্নেও তিনি আমাকে নিষেধ করলেন, কিন্তু এক তৃতীয়াংশের প্রশ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকলেন এবং এর অনুমতি দিলেন। এরপর লোকেরা তা অনুসরণ করতে লাগল। (এরপর সম্পদ বন্ঠনের আয়াত নাযিল হয়।)
يَسۡتَفۡتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفۡتِيكُمۡ فِي ٱلۡكَلَٰلَةِۚ إِنِ ٱمۡرُؤٌاْ هَلَكَ لَيۡسَ لَهُۥ وَلَدٞ وَلَهُۥٓ أُخۡتٞ فَلَهَا نِصۡفُ مَا تَرَكَۚ وَهُوَ يَرِثُهَآ إِن لَّمۡ يَكُن لَّهَا وَلَدٞۚ فَإِن كَانَتَا ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُمَا ٱلثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَۚ وَإِن كَانُوٓاْ إِخۡوَةٗ رِّجَالٗا وَنِسَآءٗ فَلِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۗ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمۡ أَن تَضِلُّواْۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمُۢ ١٧٦
(১৭৬) তারা আপনার নিকট পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তিদের রেখে যাওয়া সম্পদের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি তাদেরকে বলুন, “আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন। যদি কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার কোনো সন্তান নাই ও পিতা-মাতা নাই, কিন্তু এক বোন আছে, তবে তার বোনের জন্যে সে যে সম্পদ ছেড়ে যায়, ঐ সম্পদের অর্ধেক বোন পাবে। আর যদি তার বোন মারা যায় ও তার বোনের কোনো সন্তান না থাকে, তবে সে নিজে তার বোনের উত্তরাধিকার হবে। আর যদি তারা দুই বোন হয়, তবে তাদের দুইজনের জন্যে সে যে সম্পদ ছেড়ে যায়, তার ঐ সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ উভয় বোন পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির ভাই-বোন উভয়ই থাকে, একজন পুরুষ ও একজন নারী হয়, তবে একজন পুরুষ দুইজন নারীর সমান অংশ হবে।” আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্বীয় বিধানকে সুস্পষ্ট করে দিচ্ছেন, যেনো তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
[৪. আন নিসা : ১৭৬]
অতঃপর, মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগেই, একজন আনসারী কিছু খাবার তৈরি করল এবং তারা খাওয়া-দাওয়া করল এবং মাতাল হল। আমরা তার জায়গায় জড়ো হয়ে একে অপরের কাছে গর্ব করতে লাগলাম। আনসার বলেছেন: আনসাররা উত্তম। মুহাজিরগণ বলেছেনঃ মুহাজিরগণ উত্তম। এমন সময় একজন লোক একটি উটের চোয়ালের হাড় তুলে নিল এবং একজনের নাকে আঘাত করল এবং সাদ (রা) এর নাকে একটি আঘাতের চিহ্ন পরে গেলো। অতঃপর এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ٩٠
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা জেনে রেখো যে, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা ও তীরের মাধ্যমে লটারি খেলা এগুলো হচ্ছে অপবিত্র কাজ ও শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা এসব এড়িয়ে চলো, যেনো তোমরা সফল হতে পারো। [৫ : ৯০]
إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَن يُوقِعَ بَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ فِي ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِ وَيَصُدَّكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّنتَهُونَ٩١
নিশ্চয় শয়তান কেবল মাত্র চায় যে, তোমাদের মধ্যে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে। আর তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে ও নামায থেকে ফিরিয়ে রাখতে। সুতরাং তোমরা কি এসব কাজ থেকে বিরত হবে না? [৫ : ৯১]