অর্থঃ সর্বশক্তিমান, সহনশীল আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। পরাক্রমশালী আরশের অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আসমান ও যমীনের পালনকর্তা, মহান আরশের মালিক আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।
অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি সাত আসমানের প্রভু এবং সন্মানিত আরশের অধিপতি।
অর্থঃ “নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে। আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর সাহায্য চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল।”
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন আশীর্বাদ চাই, যা কখনো শেষ হবে না এবং এমন চোখের শীতলতা চাই, যা কখনো শেষ হবে না এবং আমি জান্নাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য কামনা করছি।
উপকারিতাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (এই দুয়া পাঠ করার পর) তুমি যা কিছুই প্রার্থনা করো, তোমাকে তা দেওয়া হবে।
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, আমরা তাঁর সাহায্য ও তাঁর ক্ষমা চাই। আমরা নিজেদের আত্মার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অর্থঃ আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও সকল নিআমত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।
অর্থঃ (১) আলিফ, লাম, মীম। (২) এ কুরআন ঐ গ্রন্থ, যার মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। এ কুরআন ঐসব পরহেযগারদের জন্যে পথ-নির্দেশ, (৩) যারা অদেখা বিষয়ের উপরে বিশ্বাস করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে। (৪) আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে ঐ কুরআনের প্রতি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে ঐসব গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস করে ও যারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করে। (২. আল বাক্বারাহ : ১-৪)
(২৫৫) আল্লাহ হচ্ছেন এমন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চির জীবন্ত, চির বিদ্যমান। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সব কিছুই তাঁর জন্যে। কে আছে এমন যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? মানুষ ও জ্বিনদের সামনের ভবিষ্যৎ ও তাদের পিছনের অতীতে যা কিছু আছে, সব কিছুই আল্লাহ ভালো ভাবে জানেন। আর মানুষ ও জ্বিন আল্লাহর জ্ঞানের মধ্যে থেকে কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তা ব্যতীত, তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন ও কর্তৃত্ব নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে পরিবেষ্টন করে আছে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না এবং তিনি সবচাইতে উচ্চে অধিষ্ঠিত, সর্বাপেক্ষা মহান। (২৫৬) ধর্মের মধ্যে কোনো জবরদস্তি নেই। অবশ্যই সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি মিথ্যা দেবতাকে অস্বীকার করে ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, সুতরাং অবশ্যই সে এমন একটি শক্ত হাতল ধরেছে, যা কখনো ভাঙ্গবে না। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (২. আল বাক্বারাহ : ২৫৫-২৫৬)
(২৫৭) যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস করে, তাদের অভিভাবক হচ্ছে শয়তান। শয়তানরা অবিশ্বাসীদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে নিয়ে যায়। এরাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা। তারা এ আগুনের মধ্যে চিরকাল থাকবে। (২. আল বাক্বারাহ : ২৫৭)
(২৮৪) নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সব কিছুই আল্লাহর জন্যে। তোমাদের অন্তর সমূহের মধ্যে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো, অথবা তোমরা তা লুকিয়ে রাখো, আল্লাহ সেই কারণে তোমাদের হিসাব নিবেন। সুতরাং তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন। বস্তুত আল্লাহ সব কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান। (২৮৫) রসূল মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বিশ্বাসীগণ ঐ সকল বিষয় বিশ্বাস করেন, যা তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। বিশ্বাসীগণ সবাই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর গ্রন্থ সমূহের প্রতি, তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করে। বিশ্বাসীগণ বলে, “আমরা তাঁর রসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।” আর তারা বলে, “আমরা আল্লাহর বাণী শুনি ও পালন করি। হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই। আমাদেরকে আপনার কাছেই ফিরে যেতে হবে।” (২৮৬) আল্লাহ কোনো ব্যক্তির উপরে এমন কোনো কাজের ভার চাপিয়ে দেন না, যা তার সামর্থ্যে নেই। সে তাই পায়, যা সে উপার্জন করে আর তাই তার উপরে পতিত হয়, যা সে করে। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বলো, “হে আমাদের প্রভু! যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমরা ভুল করি, তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রভু! আর তুমি আমাদের উপরে তেমন দায়িত্ব-ভার চাপিয়ে দিও না, যেমন দায়িত্ব-ভার তুমি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে চাপিয়ে দিয়েছিলে। হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের উপরে তেমন দায়িত্ব-ভার তুলে দিয়ো না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। অতএব তুমি আমাদেরকে তোমার শাস্তি থেকে রক্ষা করো, আমাদেরকে তুমি ক্ষমা করো ও তুমি আমাদের প্রতি দয়া করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক, অতএব তুমি অবিশ্বাসী জাতির বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করো।” (২. আল বাক্বারাহ : ২৮৪-২৮৬)
উপকারিতাঃ হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেছেন যে, এ সূরায় এমন দশটি আয়াত রয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি সে আয়াতগুলো রাতে নিয়মিত পাঠ করে, তবে শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং সে রাতের মত সকল বালা-মুসীবত, রোগ-শোক ও দুশ্চিন্তা এবং দুর্ভাবনা থেকে নিরাপদে থাকবে। তিনি আরো বলেছেন, যদি বিকৃতমস্তিষ্ক লোকের উপর এ দশটি আয়াত পাঠ করে দম করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করবে।