(৩০) এবং (সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন), যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদেরকে বললেন, আমি পৃথিবীতে এক খলীফা ২৯ বানাতে চাই। তারা বলতে লাগলেন, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে সেখানে অশান্তি বিস্তার করবে ও খুন-খারাবী করবে, অথচ আমরা আপনার তাসবীহ, হামদ ও পবিত্রতা ঘোষণায় নিয়োজিত ৩০ আছি? আল্লাহ বললেন, আমি এমন সব বিষয় জানি, যা তোমরা জান না।
(৩১) এবং (আল্লাহ) আদমকে সমস্ত নাম ৩১ শিক্ষা দিলেন। তারপর তাদেরকে ফিরিশতাদের সামনে পেশ করলেন এবং (তাদেরকে) বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এসব জিনিসের নাম জানাও।
(৩২) তারা বললেন, আপনার সত্তাই পবিত্র। আপনি আমাদেরকে যতটুকু জ্ঞান দিয়েছেন, তার বাইরে আমরা কিছুই জানি না। ৩২ প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মালিক তো কেবল আপনিই।
(৩৩) আল্লাহ বললেন, হে আদম! তুমি তাদেরকে এসব জিনিসের নাম বলে দাও। সুতরাং যখন তিনি তাদেরকে সে সবের নাম বলে দিলেন, তখন আল্লাহ (ফিরিশতাদেরকে) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি, আমি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর রহস্য জানি এবং তোমরা যা-কিছু প্রকাশ কর এবং যা কিছু গোপন কর সেসব সম্পর্কে আমার জ্ঞান আছে?
(৩৪) এবং (সেই সময়ের আলোচনা শোন), যখন আমি ফিরিশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা কর, ৩৩ ফলে তারা সকলে সিজদা করল, কিন্তু ইবলীস ছাড়া। সে অস্বীকার করল ৩৪ ও দর্পিত আচরণ করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
(৩৫) আমি বললাম, হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে থাক এবং এর যেখান থেকে ইচ্ছা প্রাণ ভরে খাও। কিন্তু ওই গাছের কাছেও যেও না। ৩৫ অন্যথায় তোমরা জালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।
(৩৬) অতঃপর (এই হল যে,) শয়তান তাদেরকে সেখান থেকে টলিয়ে দিল এবং তাঁরা যার (যে সুখের) ভেতর ছিল তা থেকে তাঁদেরকে বের করে ছাড়ল। ৩৬ আমি (আদম, তার স্ত্রী ও ইবলিসকে) বললাম, এখন তোমরা সকলে এখান থেকে বের হয়ে যাও। তোমরা একে অন্যের শত্রু হবে। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে (স্থিরীকৃত) আছে একটা কাল পর্যন্ত অবস্থান ও কিঞ্চিৎ ভোগ। ৩৭
(৩৭) অতঃপর আদম স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে (তওবার) কিছু শব্দ শিখে নিল (যা দ্বারা সে তওবা করল) ফলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন। ৩৮ নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।